স্কুল-কলেজ স্তরে থ্যালাসেমিয়া শনাক্তের পরিকল্পনা

    10


    বংশানুক্রমিক রোগ থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষার পাশাপাশি স্কুল-কলেজ স্তরে শিক্ষার্থীদের ভর্তির আগে শনাক্তকরণের পরিকল্পনা করছে সরকার। এ জন্য একটি প্রকল্প হাতে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) উপাচার্য অধ্যাপক ডা. শারফুদ্দিন আহমেদ।

    আজ বৃহস্পতিবার বিএসএমএমইউয়ের অডিটোরিয়ামে ‘থ্যালাসেমিয়া এন ইমার্জিং ন্যাশনাল হেলথ ইস্যু: ওয়ে টু মিনিফাই’ শীর্ষক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন উপাচার্য।

    বিএসএমএমইউ উপাচার্য বলেন, ‘বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা করতে হবে। প্রয়োজনে এটি নিশ্চিত করতে আইন পাস করতে হবে। ২০০ থেকে ৩০০ টাকা হলে হিমোগ্লোবিন ও রক্ত পরীক্ষাসহ থ্যালাসেমিয়ার স্ক্রিনিং করা যাবে। স্থানীয় পর্যায়ে সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করে শিক্ষার্থীদের থ্যালাসেমিয়া শনাক্ত করতে হবে। এ ধরনের পরিকল্পনা সরকার করছে।’

    অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা বলেন, দেশের মোট জনগোষ্ঠীর ৬ থেকে ১২ শতাংশ মানুষ বিভিন্ন ধরনের থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত। এ ছাড়া প্রতিবছর প্রায় ৭ হাজার নতুন শিশু থ্যালাসেমিয়ার জিনসহ জন্ম নেয়। থ্যালাসেমিয়া রোগীরা সাধারণত দুই ধরনের হয়ে থাকে: একটি থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত রোগী অন্যটি থ্যালাসেমিয়ার বাহক। যারা থ্যালাসেমিয়ায় ভোগেন তাঁদের প্রতি মাসেই রক্তের প্রয়োজন হয়। তাঁরা সারা জীবন এ রোগ বহন করে বেড়ান। তাঁদের অনেকেই ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের জটিলতায় মারা যান। বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট করে সমস্ত রোগীদের চিকিৎসা করা হলে সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা আছে। বাংলাদেশে এটি জটিল প্রক্রিয়া, ব্যয়বহুল এবং অপ্রতুল।

    থ্যালাসেমিয়ার বাহকেরা আরেকজন বাহককে বিয়ে করলে তাঁদের সন্তানও এতে আক্রান্ত হওয়ার উচ্চ ঝুঁকিতে থাকে। কিন্তু একজন থ্যালাসেমিয়া বাহক যদি একজন স্বাভাবিক ব্যক্তিকে বিয়ে করেন তবে সন্তানের আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। কাজেই সমাজের সর্বস্তরে এই রোগের ব্যাপকতা এবং একজন বাহক যাতে অন্য একজন বাহককে বিয়ে না করেন সেই সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান বিশেষজ্ঞরা।

    অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, পুনর্বাসন ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান বলেন, ‘দেশে ১ কোটি ৬০ লাখ মানুষ থ্যালাসেমিয়ার বাহক, যা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। আমরা যদি বাহকদের মধ্যে বিয়ে বন্ধ করতে পারি তাহলেই দেশ থেকে রোগ নির্মূল করা সম্ভব। এর জন্য সচেতনতা বাড়ানোর বিকল্প নেই। পাশাপাশি আইনি বাধ্যবাধকতা আরোপ করতে হবে। প্রয়োজনে থ্যালাসেমিয়া সার্টিফিকেট বাধ্যতামূলক করা যেতে পারে। থ্যালাসেমিয়া নিয়ন্ত্রণ আইন ও এর প্রয়োগ হওয়া জরুরি।’

    প্রধান অতিথি স্থানীয় সরকার মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, ‘দেশের প্রায় ১০ ভাগ লোক থ্যালাসেমিয়া রোগে ভুগছেন। বিয়ের আগে যদি পরীক্ষার মাধ্যমে নবদম্পত্তি ঠিক করা হয় তাহলে এটা কমানো সম্ভব। এ জন্য যে আর্থিক সহযোগিতা যা লাগে সরকার তা দেবে।’





    Source link