সাইনোসাইটিস

    13


    সাইনাসের যন্ত্রণায় অনেকেই কাবু হয়ে যান। ঠান্ডা সহ্য করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে সাইনাসের রোগীদের ক্ষেত্রে। নাক, চোখ ও মাথাব্যথার জন্য সাইনাসে আক্রান্ত রোগীদের কষ্ট পেতে হয়।সাইনোসাইটিস দুই প্রকার—তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী।

    দীর্ঘস্থায়ী সাইনোসাইটিসের জন্য অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হয়। তবে তীব্র সাইনোসাইটিসের ক্ষেত্রে ঘরোয়া কিছু উপায় মানলে মুহূর্তে তা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
    সাইনাস সংক্রমণ ডাস্ট অ্যালার্জি, বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক বা ধোঁয়ার কারণে হতে পারে। সাইনাস সংক্রমণ হলে মাথাব্যথা, কান, দাঁত, জ্বর, ফোলাভাব, গলাব্যথা ইত্যাদি লক্ষণ দেখা দেয়।

    সংক্রমণ প্রতিরোধ
    প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি-জাতীয় খাবার খেলে সংক্রমণের বিরুদ্ধে একটি প্রতিরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব।এ ছাড়া কিছু ঘরোয়া উপায়ের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক মুক্তি যাওয়া 
    যায়। যেমন:

    • প্রচুর পরিমাণ পানি পান করতে হবে। শরীরে পানির ভারসাম্য ঠিক থাকলে পানিশূন্যতা থেকে মুক্তি পাবেন। সেই সঙ্গে সাইনাসের ব্যথা থেকেও মুক্তি পাওয়া যাবে। পানি পানের সঙ্গে বেশি বেশি তরল খাবার খেতে হবে।
    • সাইনোসাইটিস হলে নাক, চোখ ও মাথা প্রচণ্ড ব্যথা করে। নাক বন্ধ হয়ে যাওয়াসহ চোখ জ্বালাপোড়া করে। এ সময় টগবগে গরম পানির ভাপ নিলে প্রশান্তি আসবে এবং ব্যথা কমে যাবে। পানি গরম করার সময় তাতে পুদিনাপাতা মেশালে আরও ভালো ফল পাওয়া যাবে।
    • ভাপ নেওয়ার সময় বন্ধ নাক খুলে গিয়ে তরল সর্দি বেরিয়ে যায়। এ সময় সর্দি বের করে দিয়ে ভালোভাবে নাক পরিষ্কার করে নিন। তাতে ব্যাকটেরিয়া বা ভাইরাস সহজে দূর হয়ে যাবে নাক থেকে।
    • সাইনাসে আক্রান্ত হলে গরম চা, পানি, স্যুপ গরম গরম খেতে পারেন।

    জটিলতা 
    সাইনোসাইটিসের যথাযথ চিকিৎসা না করালে অনেক সময় জটিলতা দেখা দিতে পারে। যেমন:

    • অরবিটাল সেলুলাইটিস ও চোখের ভেতরে সংক্রমণ।
    • মেনিনজাইটিস বা ব্রেইনের পর্দার প্রদাহ।
    • অস্টিওমায়েলাইটিস।
    • ক্যাভারনাস সাইনাস থ্রম্বেসিস।

    সাইনোসাইটিসের সমস্যা দেখা গেলে যত দ্রুত সম্ভব একজন নাক, কান, গলারোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

    লেখক: রেসিডেন্ট চিকিৎসক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় 





    Source link