মস্তিষ্কের টিউমার যেকোনো বয়সে হতে পারে

    43


    টিউমার হলো শরীরের কোনো কোষের অস্বাভাবিক ও অনিয়ন্ত্রিত বৃদ্ধি। যেমন পাকস্থলীর কোষের সংখ্যা যদি অতিরিক্ত বৃদ্ধি পায়, তাহলে তা চাকার মতো বড় হয়ে যায়। একেই বলে পাকস্থলীর ক্যানসার। দেহের বিভিন্ন অঙ্গে ক্যানসার বা টিউমার হতে পারে। টিউমার দুই প্রকার। একটি হলো বেনাইন ও অন্যটি মেলিগনেন্ট। বেনাইন টিউমার খুব বেশি ক্ষতিকর নয়। এটি চিকিৎসায় পুরোপুরি ভালো হয়। ক্যানসার বলতে আমরা যা বুঝি তা হলো, মেলিগনেন্ট টিউমার। ক্যানসারকে অন্যভাবেও ভাগ করা যায়। ক্যানসার একটি নির্দিষ্ট অঙ্গে সীমাবদ্ধ থাকলে তাকে বলে প্রাইমারি ক্যানসার। আর যদি তা বিভিন্ন অঙ্গে ছড়িয়ে যায়, তবে তাকে বলে মেটাস্টাসিস ক্যানসার। সবচেয়ে খারাপ হলো মেটাস্টাসিস। এটি হলে চিকিৎসা করা অনেকটা দুরূহ ও ব্যয়সাপেক্ষ হয়ে যায়।

    মস্তিষ্কের মারাত্মক রোগ টিউমার। তবে ভালো দিক হলো, মস্তিষ্কে বেনাইন টিউমার বেশি হয়। কিন্তু সমস্যা হলো, মস্তিষ্কে যেহেতু জায়গা কম, তাই টিউমার প্রভাব ফেলতে পারে সহজেই। মানে, লক্ষণগুলো দেখা দেয় তাড়াতাড়ি। এর সুবিধাও আছে। এর ফলে রোগী দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যায়। তাই রোগ তাড়াতাড়ি ধরা পড়ে। মস্তিষ্কে মেটাস্টাসিসও হতে পারে, তবে তা খুব কম।

    মস্তিষ্কের টিউমার যেকোনো বয়সে হতে পারে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এর কারণ জানা যায় না। তবে কিছু জিনের রূপান্তরে এটি হতে পারে বলে ধারণা করা হয়। এ ছাড়া রেডিয়েশনের কারণেও মস্তিষ্কে টিউমার হতে পারে।

    মস্তিষ্কের ক্যানসারের লক্ষণ
    মস্তিষ্কের ক্যানসারের মূল লক্ষণ হলো মাথাব্যথা। তবে মাথাব্যথা হলেই যে মস্তিষ্কের ক্যানসার হবে, তা কিন্তু নয়। মাথাব্যথার যত কারণ আছে, তার বেশির ভাগই কিন্তু অন্য। মস্তিষ্কের টিউমারের মাথাব্যথার ধরন একটু ভিন্ন। মাথাব্যথা সারাক্ষণ থাকে, পুরো মাথায় হালকা বা মাঝারি ধরনের ব্যথা থাকে। হাঁচি-কাশি দিলে মাথাব্যথা বেড়ে যায়।

    সকালে ঘুম থেকে উঠলে ব্যথা

    • বেশি হয়। মাথাব্যথার সঙ্গে বমি হতে পারে।টিউমারের অবস্থানের ওপর নির্ভর করে কিছু কিছু লক্ষণ দেখা দিতে পারে।
    • মস্তিষ্কের সামনের দিকে টিউমার হলে মানুষের আচরণে অস্বাভাবিকতা, হঠাৎ রেগে যাওয়া, মনোযোগে ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
    • শরীরের একপাশ ধীরে ধীরে অবশ হওয়া, চোখে দেখার সমস্যা, হাঁটতে সমস্যা, ভারসাম্যহীনতা, কথা বলায় সমস্যা, খিঁচুনি, কানে শোনার সমস্যা ইত্যাদি দেখা যেতে পারে।

    পরীক্ষা-নিরীক্ষা
    টিউমার নির্ণয়ে শারীরিক পরীক্ষার পাশাপাশি বেশি জরুরি মস্তিষ্কের সিটিস্ক্যান বা এমআরআই। এ ছাড়া চিকিৎসকের পরামর্শে আরও কিছু পরীক্ষার প্রয়োজন পড়ে। 

    চিকিৎসা

    • মস্তিষ্কের টিউমারের চিকিৎসা-পদ্ধতির মধ্যে আছে মেডিকেল চিকিৎসা, অপারেশন, রেডিওথেরাপি ও কিছু কিছু ক্ষেত্রে কেমোথেরাপি।
    • মস্তিষ্কের টিউমারের চিকিৎসা দেশে করা বা না করা নিয়ে অনেকেই দ্বিধায় ভুগে থাকেন। মস্তিষ্কের ক্যানসারের চিকিৎসা দেশেই সম্ভব। এই রোগের চিকিৎসার সব ব্যবস্থা দেশে আছে।
    • ওষুধের পাশাপাশি সব ধরনের অপারেশনের জন্য দেশে এখন ভালো মানের সার্জনও আছেন।
    • এই রোগের ক্ষেত্রে যেটা জরুরি তা হলো, লক্ষণগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া।

    লেখক: কনসালট্যান্ট নিউরোলজিস্ট, ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টার, উত্তরা, ঢাকা

    স্বাস্থ্য সম্পর্কিত আরও পড়ুন:





    Source link