প্যাশনকে প্রফেশনে বদলে নিন

    31


    শিশু স্বাস্থ্য
    আমার এক বছর বয়সের একটি সন্তান আছে। প্রতিদিন মলত্যাগ করলেও তার মল খুবই শক্ত। মলত্যাগ করার সময় সে খুব কান্নাকাটি করে। মল অতিরিক্ত শক্ত হওয়ার কারণে আমাদের ধারণা, সে ভালোভাবে মলত্যাগ করতে পারে না অথবা ভালোভাবে মল বের হয়ে আসে না। তার প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় সাধারণত থাকে সাগুদানা, সুজি, ভাত, ডাল, মিষ্টিকুমড়া, পেঁপে, মাছ, খেজুরসহ মৌসুমি বিভিন্ন জাতের ফল বা ফলের রস এবং প্রায় ১০০ মিলিলিটার পানি। উল্লেখ্য, আমার সন্তানটি মায়ের বুকের দুধ পায় না বললেই চলে। তাই প্রতিদিন, মানে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১৮০ মিলিলিটার ফরমুলা মিল্ক তথা ফিডার খাওয়ানো হয়। এ অবস্থায় কী করণীয় জানালে উপকৃত হব। 

    মো. মাহমুদ মোস্তফা
    ধামইরহাট, নওগাঁ

    শিশুর পায়খানা নরম করার জন্য কিছু বিষয় মেনে চলতে হবে। প্রথমত, শিশুকে প্রচুর পরিমাণে পানি পানের অভ্যাস করাতে হবে। তার প্রতিদিনের খাবারে আঁশযুক্ত খাদ্য উপাদান বেশি রাখতে হবে। শিশুকে নিয়মিত ফলমূল, শাকসবজি দিতে হবে বেশি করে। মাংস-জাতীয় খাবার কম দিতে হবে। দুধের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে আনতে হবে। এক বছরের বেশি বয়সের শিশুকে প্রতিদিন ৫০০ মিলিলিটার থেকে পৌনে ৭০০ মিলিলিটারের বেশি দুধ খেতে দেওয়া যাবে না। শিশুর জন্য রাতের খাওয়ার পর ইসবগুলের ভুসি গরম দুধে মিশিয়ে খাওয়ানো যেতে পারে।

    শিশুকে নিয়মিত মলত্যাগ করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। প্রতিদিন মলত্যাগের জন্য পুরস্কারের মাধ্যমে তাকে উৎসাহিত করতে পারেন। এ ছাড়া শিশুকে খেলাধুলা করতে দিতে হবে। এর পরও সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে লেক্সেটিভ বা পায়খানা নরম করার ওষুধ দিয়ে হলেও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার চেষ্টা করতে হবে।

    ডা. মনীষা বর্মণ, শিশু ও নবজাতক রোগ বিশেষজ্ঞ, এভারকেয়ার হাসপাতাল, ঢাকা

    ত্বকের সমস্যা
    ব্রণের কারণে মুখমণ্ডলে অনেক গর্ত হয়েছে। কোনো কিছুতেই কমছে না সেগুলো। এসব গর্ত কমানোর উপায় কী?

    অনামিকা কর্মকার, ঢাকা

    অনেক আগে ব্রণ হলে শুধু ব্রণের চিকিৎসাই দেওয়া হতো। পরে দাগ বা ক্ষত হলে তার কোনো আধুনিক চিকিৎসা ছিল না। কিন্তু এখন আধুনিক চিকিৎসা আছে। গর্ত ও ক্ষত দূর করা সম্ভব। ব্রণ ভালো হয়ে যাওয়ার পরেও যাঁদের ত্বক তৈলাক্ত, তাঁদের ওয়াটার বেজড ময়েশ্চারাইজার, সানস্ক্রিন, ফেস ক্লিনজার ইত্যাদি ব্যবহার করতে হবে। এগুলোর ব্যবহার বাদ দেওয়া যাবে না। গর্ত কমিয়ে আনার জন্য ওরাল রেটিনয়েড দেওয়া হয়ে থাকে। সে ক্ষেত্রে কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। প্রসূতি মা এবং যাঁরা শিশুকে মায়ের দুধ খাওয়ান, তাঁদের জন্য ওরাল রেটিনয়েড নিষিদ্ধ। এ ছাড়া কোলাজেন সাপ্লিমেন্ট, ভিটামিন সি সাপ্লিমেন্ট দেওয়া হয়। আর চিকিৎসাপদ্ধতির মধ্যে পিআরপি খুব ভালো কাজ করে। কোলাজেন তৈরি করে ক্ষত কমিয়ে আনে। সিওটু লেজারের মাধ্যমেও গর্ত কমিয়ে আনা যায়। গর্ত কমে এলে কেমিক্যাল পিলের মাধ্যমে ত্বকের উপরিভাগকে মসৃণ রাখা যায়। তৈলাক্ত ভাব থাকলে তা কমিয়ে আনা যায়।

    ডা. তাওহীদা রহমান ইরিন, চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ, শিওর সেল মেডিকেল বাংলাদেশ

    মানসিক স্বাস্থ্য
    এক মাস হলো আমার পাঁচ বছরের বিবাহিত জীবনের নিষ্পত্তি হয়েছে। মা-বাবার সঙ্গে থাকা শুরু করেছি। একটা চাকরি করতাম, সেটা ছেড়েছি প্রায় এক সপ্তাহ। বেঁচে থাকার কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছি না। দম বন্ধ লাগে। মা-বাবার পরিবারে নিজেকে আগন্তুক মনে হচ্ছে। বারবার মৃত্যুর কথা মনে হয়। চাকরিটা করতে পারিনি। এ জন্য অপরাধবোধ হয়। আমার সাহায্য প্রয়োজন। বন্ধুরা বারবার কাউন্সেলিং করানোর কথা বলছে। আর কখনো কি স্বাভাবিক হতে পারব?

    নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, ঢাকা

    প্রথমত, আপনাকে শুভকামনা জানাচ্ছি নতুন করে জীবন শুরু করার জন্য। পেছনে যা হয়ে গেছে, সেটা মুছে যাক। ডিভোর্স কেউ শখ করে দেয় না। দাম্পত্য সম্পর্কে পচন ধরলে ডিভোর্স একটি সামাজিক, রাষ্ট্রীয় এবং ধর্মস্বীকৃত পদ্ধতি। ফলে আপনি যে বের হয়ে আসতে পেরেছেন শেষ পর্যন্ত, সে জন্য আর কেউ দিক বা না দিক, নিজেই নিজেকে একটি বাহবা দিন। দ্বিতীয়ত, পৃথিবীতে চাকরি করেন না এ রকম বহু মানুষ আছে; বিশেষ করে এই করোনা-পরবর্তী বিশ্বে সমীকরণ পাল্টে গেছে। খুঁজে বের করুন আপনি নিজে কী পছন্দ করেন। নয়টা-পাঁচটা অফিসে বসে কলম পুষব, এই ধারণা থেকে বের হয়ে আসার মোক্ষম সময় এটাই। কষ্ট হবে। নিজের যত্ন নিন। ইতিমধ্যে আপনি বুঝে গেছেন, ২৪ ঘণ্টায় আপনার নিজের জন্য আপনি ছাড়া আর কেউ নেই। সাধারণত তিন থেকে চার বছর লাগে এই ডিভোর্সের ক্ষত শুকাতে। কারও কারও ক্ষেত্রে আরও বেশি। তাড়াহুড়োর দরকার নেই। ধকল সামলাতে একটু সময় দিন নিজেকে। প্রয়োজনে কাউন্সেলিং নিতেই পারেন।

    অধ্যাপক ডা. সানজিদা শাহরিয়া  চিকিৎসক, কাউন্সেলর, সাইকোথেরাপি প্র্যাকটিশনার, ফিনিক্স ওয়েলনেস সেন্টার বিডি





    Source link