খাবার খাওয়ার পর কিছুক্ষণ হাঁটুন

    18


    স্বাস্থ্য
    আমার বয়স ৩১ বছর। উচ্চতা ৫ ফুট ৪ ইঞ্চি। ওজন ৫৮ কেজি। আমার তলপেটে মেদ জমেছে। স্বাস্থ্য অনুযায়ী পেটের মেদ একটু বেশি মনে হয়। খাদ্যতালিকায় কী রাখতে পারি, যাতে ওজন ঠিক থাকে আবার মেদও দূর হবে।

    নূরুন্নাহার মীরা, নারায়ণগঞ্জ

    আপনার উচ্চতার তুলনায় ওজন তেমন একটা বেশি নয়। পেটের মেদ সবার কাছেই একটি বিব্রতকর বিষয়। উচ্চচর্বিযুক্ত খাবার যে পেটের মেদ বাড়ায় তা নয়, বেশি ক্যালরিযুক্ত যেকোনো খাবারে পেটের মেদ বাড়াতে পারে। মিষ্টিজাতীয় খাবার অতিরিক্ত খাওয়া, ডুবো তেলে ভাজা খাবার, সফট ড্রিংকস, বাইরের অস্বাস্থ্যকর খাবার, লাল মাংস অতিরিক্ত খাওয়া, স্যাচুরেটেড ফ্যাট গ্রহণ ইত্যাদি পেটের মেদ বাড়িয়ে তোলার পেছনে ভূমিকা রাখে।

    খাদ্যতালিকায় আঁশসমৃদ্ধ খাবার রাখতে হবে। গ্রিন-টিতে আছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং আখরোট, কাঠবাদাম ও সামুদ্রিক মাছে আছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। এগুলো পেটের মেদ কমাতে কার্যকর। কাঁচা রসুনের কয়েক কোয়া সকালবেলা চুষে খান। এটি পেটে মেদ জমতে দেবে না। সকালে শুরুটা করুন এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে পান করে। এতে শরীরের হজম-প্রক্রিয়া ভালো থাকবে এবং শরীরের মেদ জমার প্রক্রিয়া ধীর হবে।

    খাবার খাওয়ার পরে বসে বা শুয়ে পড়বেন না। তাতে খাবার সঠিকভাবে পরিপাক হয় না। ফলে পেটে চর্বি জমে যেতে পারে। খাবার খাওয়ার পর একটানা শুয়ে-বসে না থেকে ১৫ থেকে ২০ মিনিট হাঁটাহাঁটি করুন।

    যাঁদের কাজ সারা দিন টেবিলে বসে বসে বা একেবারেই শারীরিক পরিশ্রম করা হয় না, তাঁদের সহজে পেটের মেদ জমে যেতে পারে বা ভুঁড়ি দেখা দিতে পারে। সে জন্য যাঁরা বসে কাজ করেন, তাঁদের উচিত ৩০ থেকে ৪০ মিনিট বসে কাজ করার পর উঠে ১০ থেকে ১৫ মিনিট হাঁটাহাঁটি করা।
    একবারে অতিরিক্ত খাবার না খেয়ে অল্প অল্প করে বারবার খাবার খেতে হবে। সারা দিন অর্থাৎ ২৪ ঘণ্টার খাবারকে ৫ থেকে ৬ বারে খেতে চেষ্টা করুন। সেখানে ৩টি প্রধান খাবার ও ২-৩টি হালকা নাশতাজাতীয় খাবার রাখুন।

    নাহিদা আহমেদ, পুষ্টিবিদ, গুলশান ডায়াবেটিক কেয়ার

    মাথার ত্বক ও চুলের যত্ন
    আমার বয়স ২২। উচ্চতা ৪ ফুট ১১ ইঞ্চি। ওজন ৫৩ কেজি। বেশ কিছুদিন ধরে আমার মাথার স্ক্যাল্পে চুলকানি, ফুসকুড়ি হচ্ছে। এসব ফুসকুড়ি মাঝে মাঝে হয় আবার চলেও যায়। কিন্তু মূল যে সমস্যা হচ্ছে তা হলো, মাথার সামনের দিকের তালুতে খুশকি ছিল। এখনো আছে। মাথার সামনের দিকের তালুর অংশ একেবারে ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। ঘরোয়া বিভিন্ন উপাদান ব্যবহার করেও সেখানে চুল গজাচ্ছে না। এখন কী করতে পারি? 

    ঝুমুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া 

    মাথার ত্বকে যেসব ফুসকুড়ি হয়, সেগুলোকে স্ক্যাল্প ফলিকোলাইটিস বলা হয়। আপনার মাথার ত্বকে যেহেতু খুশকিও আছে, এখানে সেবুরিক ডার্মাটাইটিস থাকতে পারে। এ ক্ষেত্রে কিটোকোনাজল জিংক, সেলেনিয়াম সালফেটযুক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করতে পারেন। এই শ্যাম্পু খুশকি ও স্ক্যাল্প ফলিকোলাইটিসের বিরুদ্ধে কাজ করবে। 
    আপনার যেহেতু প্রচুর চুল পড়ছে, তাই কোনো চর্মরোগ থেকে পড়তে পারে। আবার পুষ্টির অভাবেও পড়তে পারে। ভিটামিন, প্রোটিন, আয়রনের অভাবে চুল পড়তে পারে। থাইরয়েডের সমস্যা আছে কি না, তা দেখতে হবে। এ ক্ষেত্রে আপনি জিংক ও ভিটামিন ডিসমৃদ্ধ কোনো সাপ্লিমেন্ট খেতে পারেন। ফল ও ফুলের নির্যাস থেকে তৈরি বিভিন্ন ধরনের হেয়ার টনিক বাজারে পাওয়া যায়।

    হেয়ার টনিক চুলের বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। খুশকি, চুলকানির সমস্যাও কমিয়ে আনে। আপনার যেহেতু চুল ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে, এটি বংশগত 
    কারণে হতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ সেবন করতে পারেন। 

    ডা. তাওহীদা রহমান ইরিন, চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ, শিওর সেল মেডিকেল, ঢাকা





    Source link