আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে

    16


    ‘আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে’ ঈশ্বরী পাটনীর এই বাণী এখনো যেন সব মা-বাবার প্রার্থনা। দুধে ভিটামিন সি ছাড়া আমাদের শরীরের চাহিদা অনুযায়ী প্রায় সব উপাদান নির্দিষ্ট অনুপাতে আছে। এতে সব ধরনের এসেনশিয়াল অ্যামাইনো অ্যাসিড, ভিটামিন, খনিজ, যেমন ক্যালসিয়াম, জিংক, কোবাল্ট, ফসফরাস আছে। দুধে পানির পরিমাণ ৮৬.৫ শতাংশ। এ ছাড়া এতে আছে শর্করা. প্রোটিন, চর্বি, আয়রন ইত্যাদি। 

    শিশুদের জন্য
    শিশুর বয়স ১৮ মাস হলে তাকে গরুর দুধ খাওয়াতে পারবেন। তার আগে খাওয়াবেন না। কারণ গরুর দুধে সোডিয়ামসহ কিছু উপাদান একটু বেশি পরিমাণে থাকে, যেগুলো শিশুর কিডনিসহ অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।

    শিশুকে প্রথমবার গরুর দুধ খাওয়ানোর পর তাকে খুব ভালোভাবে পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে, দুধ খেয়ে তার পাতলা পায়খানা, পেটব্যথা, শরীরে অ্যালার্জি, র‍্যাশ এগুলো হচ্ছে কি না। যদি হয় তাহলে দুধ খেতে না দিয়ে একজন চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

    দুধ পানের উপকারিতা

    • দুধের ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন ডি হাড় ও দাঁতের ক্ষয়রোধ করে এবং সুরক্ষা দেয়।
    • ভিটামিন ও মিনারেল মানসিক চাপ কমিয়ে শারীরিক সক্ষমতা বাড়ায়। রাতে ঘুমানোর আগে একটু কুসুম গরম দুধ খেলে ভালো ঘুম হয়।
    • ঋতুকালীন ব্যথা, সারা দিনের কর্মক্লান্তি দূর করতে কুসুম গরম দুধ খুব উপকারী।
    • কম চর্বিযুক্ত দুধ রক্তের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
    • দুধের ৮৬ শতাংশই পানি বলে এটি শরীরকে পানিশূন্যতা থেকে মুক্ত রাখে।
    • নিয়মিত দুধপানে শিশুদের মস্তিষ্ক ও পেশির গঠন ভালো হয়।
    • নিয়মিত দুধপানে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
    • ত্বক ও চুলের যত্নে দুধ খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিয়মিত দুধ খেলে ত্বক নরম, কোমল ও মসৃণ হয়।
    • দুধের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স অনেক কম বলে এটি ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে এবং ওজন কমাতেও সাহায্য করে।

    দুধপানজনিত সমস্যা ও সমাধান

    • হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জটিলতা এড়াতে সর ছাড়া দুধ খেতে হবে।
    • যাদের ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স আছে, দুধ খেলে তাদের পেটব্যথাসহ পাতলা পায়খানা হতে পারে। তবে দুধের পরিবর্তে টক দই খেলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।
    • ডায়াবেটিসের রোগীদের কম চর্বিযুক্ত দুধ খেতে হবে। নইলে ডায়াবেটিস বেড়ে যেতে পারে।
    • আইবিএস আক্রান্ত ব্যক্তিরা দুধ পান করলে পাতলা পায়খানাসহ পেটব্যথা হতে পারে। টক দই খেলে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
    • যাঁদের উচ্চ রক্তচাপ আছে, তাঁদের কম পরিমাণে সর ছাড়া দুধ খেতে হবে।

    কাঁচা দুধ স্বাস্থ্যকর নয়
    কাঁচা দুধ খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। কারণ আমাদের দেশের বেশির ভাগ দুধের খামারে দুধ দোহন পদ্ধতি শতভাগ স্বাস্থ্যসম্মত নয়। সে ক্ষেত্রে দুধ দোহনের সময় কিছু অপদ্রব্য ও জীবাণু দুধের সঙ্গে মিশে যেতে পারে। তাই কোনোভাবেই দুধ না ফুটিয়ে খাওয়া উচিত নয়। এতে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

    কখন দুধ খাবেন
    যেকোনো সময় দুধ খাওয়া যায়। আমরা সাধারণত রাতের খাবারের পরে, ঘুমানোর আগে দুধ খেতে অভ্যস্ত। এটা ভালো অভ্যাস। তবে ডায়াবেটিসের রোগীরা বিকেলে দুধ খাবেন। রাতে দুধ খেলে ডায়াবেটিস বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তবে আপনি একজন পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে, রাতের খাবারের পরিমাণ ঠিক রেখে রাতে দুধ খেতে পারেন। হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্যও একই পরামর্শ থাকবে।

    লেখক: সিনিয়র পুষ্টিবিদ, চট্টগ্রাম ডায়াবেটিক জেনারেল হাসপাতাল

    স্বাস্থ্য সম্পর্কিত আরও পড়ুন:





    Source link