সামাজিক সুরক্ষায় ১ লাখ ১৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ

28


আগামী আর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সরকার সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতা আরও বাড়াতে চাইছে। ২০২২–২৩ অর্থবছেরর বাজেট প্রস্তাবে এ খাতে মোট ১ লাখ ১৩ হাজার ৫৭৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার কথা বলা হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন। 

অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের জন্য দারিদ্র ও বৈষম্য হ্রাসে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর পরিধি প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি করছে। সমাজের পিছিয়ে পড়া দুঃস্থ, অসহায় এবং ছিন্নমূল মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণে নানামূখী কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে। দুঃস্থ প্রবীণ ব্যক্তিদের অধিকার সুরক্ষায় ব্যাপক পরিসরে বয়স্ক ভাতা প্রদান করা হচ্ছে এবং বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতার ক্ষেত্রে প্রবীণ নারীকে অগ্রাধিকার প্রদান করা হচ্ছে। চলিত অর্থবছর থেকে জনপ্রতি মাসিক ৫০০ টাকা হারে ৫৭ লাখ ভাতাভোগীর জন্য বয়স্ক ভাতা খাতে ৩ হাজার ৪৪৪ দশমিক ৫৪ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান করা হচ্ছে যা চলমান থাকবে। 

প্রতিবন্ধীদের ভাতা ও সুবিধাভোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। বর্তমানে ২০ লাখ ৮ হাজার প্রতিবন্ধীকে মাসিক ৭৫০ টাকা হারে ভাতা দেওয়া হচ্ছে। আগামী অর্থবছরে উপকারভোগীর সংখ্যা ৩ লাভ ৫৭ হাজার বাড়িয়ে ২৩ লাখ ৬৫ হাজারে উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মাসিক ভাতাও ৭৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮৫০ টাকা করা হবে। বাজেটে এ খাতে মোট ২ হাজার ৪২৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

এছাড় ভাতা কর্মসূচির বাইরে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিবন্ধী শিক্ষা উপবৃত্তি চালু করেছে। চলতি অর্থবছরে যার উপকারভোগীর সংখ্যা ছিল ১ লাখ এবং বার্ষিক বরাদ্দ ছিল ৯৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। এটা অব্যাহত থাকবে। দেশের অটিজম ও নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য ও জীবন ঝুঁকি হ্রাসকল্পে নিউরো-ডেভেলপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা ট্রাস্ট এর আওতায় ‘বঙ্গবন্ধু প্রতিবন্ধী সুরক্ষা বীমা’ চালু রয়েছে।

মা ও শিশু সহায়তা প্রাধান্য দিয়ে বর্তমান উপকারভোগীর সংখ্যা ১০ লাখ ৪৫ হাজার থেকে ২ লাখ ৯ হাজার বাড়িয়ে ১২ লাখ ৫৪ হাজারে উন্নীত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ খাতে অর্থবছরে মোট বরাদ্দ ১ হাজার ২৪৩ কোটি টাকা। বর্তমানে মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানি ভাতা ন্যূনতম ২০ হাজার টাকা রয়েছ, যা অব্যাহত থাকবে। 

দেশব্যাপী ভিক্ষুক পুনর্বাসন ও তাদের জন্য বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির কার্যক্রম চলমান। স্কুলগামী বেদে, অনগ্রসর ও তৃতীয় লিঙ্গের শিক্ষার্থীদের শিক্ষিত করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ৪ স্তরে উপবৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে। 

জাতীয় বাজেট সম্পর্কে জানতে: এখানে ক্লিক করুন

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে দেশব্যাপী দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে স্বল্পমূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিতরণে আমরা ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। মোট এক কোটি পরিবার টিসিবির ‘ফ্যামিলি কার্ড’ সহায়তা পাচ্ছে।

এই সম্পর্কিত পড়ুন:





Source link