জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম বাড়া সত্ত্বেও বরাদ্দ কমেছে দেড় হাজার কোটি টাকা

29


বিশ্ব বাজারে অব্যাহত জ্বালানি তেল ও গ্যাসের দাম বাড়া সত্ত্বেও আগামী ২০২২-২০২০ অর্থবছরে বিদ্যুৎ বিভাগ এবং জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের জন্য বরাদ্দ কমেছে ১ হাজার ৪১৮ হাজার কোটি টাকা। এই অর্থবছরে বরাদ্দ করা হয়েছে ২৬ হাজার ৬৬ কোটি টাকা যা ২০২১-২০২২ অর্থবছরে ছিল ২৭ হাজার ৪৮৪ কোটি টাকা।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘২০৩১ সালের মধ্যে উচ্চ-মধ্যম আয় ও ২০৪১ সালের মধ্যে উচ্চ-আয়ের দেশে উত্তরণে বাংলাদেশ যে মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, তার সুষ্ঠু বাস্তবায়নের জন্য বিপুল পরিমাণে আর্থসামাজিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড গ্রহণ করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে গ্রহণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এ সকল কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি চাহিদা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাবে। ক্রমবর্ধমান চাহিদার দিকে লক্ষ্য রেখে মানসম্মত বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সংস্থান নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।’ 

বিদ্যুৎ খাতে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিদ্যুৎ উৎপাদনে সাফল্য বিগত ১৩ বছর ধরে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারের নিরলস প্রচেষ্টার ফলে দেশে সম্প্রতি মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা (ক্যাপটিভ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ) ২৫.৫৬৬ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে। মুজিব শতবর্ষকে সামনে রেখে উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার সমন্বিত উন্নয়নের মাধ্যমে সরকার দেশের শতভাগ জনগণকে বিদ্যুৎ ব্যবস্থার আওতায় নিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে।’ 

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বিগত ১৩ বছরে মাথাপিছু বিদ্যুৎ উৎপাদন ২২০ কিলোওয়াট-আওয়ার থেকে ৫৬০ কিলোওয়াট আওয়ারে উন্নীত করতে পেরেছি। এ সময়কালে ৫ হাজার ২১৩ সার্কিট কিলোমিটার সঞ্চালন এবং ৩ লাখ ৩৬ হাজার কিলোমিটার বিতরণ লাইন নির্মাণ করা হয়েছে এবং বিদ্যুৎ বিতরণে সিস্টেম লস ১৪ শতাংশ হতে ৮ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। বর্তমানে দেশে ১৩ হাজার ৫৩০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ৩৪টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণাধীন রয়েছে। পায়রা, মহেশখালী ও মাতার বাড়ি এলাকাকে পাওয়ার হাব হিসেবে চিহ্নিত করে বৃহৎ প্রকল্পসমূহ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।’ 

‘কয়লাভিত্তিক রামপাল ১ হাজার ২২০ মেগাওয়াট মৈত্রী সুপার থার্মাল প্রজেক্ট, মাতারবাড়ি ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট আল্ট্রাসুপার ক্রিটিক্যাল কোল প্রজেক্ট স্থাপনের কার্যক্রম পুরোদমে চলছে। রাশিয়ার সহায়তায় রূপপুরে ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। পাশাপাশি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে প্রায় ৭৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। মোট চাহিদার শতকরা ১০ ভাগ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যে সৌর শক্তিভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।’ 

বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার সঞ্চালন ব্যবস্থার উন্নয়নেও গুরুত্ব দিচ্ছে। পায়রা-গোপালগঞ্জ ৪০০ কেভি ডাবল সার্কিট সঞ্চালন লাইন এবং গোপালগঞ্জ-রামপাল ৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইন দুটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে ইতিমধ্যে কমিশনিং করা হয়েছে। এছাড়া, মোংলা-খুলনা ২৩০ কেভি সঞ্চালন লাইন নির্মিত হয়েছে। গোপালগঞ্জ-আমিনবাজার ৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইনের ৭ দশমিক ৫ কিলোমিটার পদ্মা রিভার ফ্লসিং অংশের পদ্মা রিভার বেডের ৭টি টাওয়ারের ফাউন্ডেশনের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাওয়ার ইভাকুয়েশনের জন্য ৪০০ কেভি ও ২৩০ কেভি ভোল্টেজের ৬টি সঞ্চালন নির্মাণ করা হচ্ছে।’ 

দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি জ্বালানির চাহিদাও দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার একটি বড় অংশ মূলত প্রাকৃতিক গ্যাসের মাধ্যমে পূরণ করা হচ্ছে। দেশে আবিষ্কৃত ২৮টি প্রাকৃতিক গ্যাসক্ষেত্রের মধ্যে ২০ টিতে উৎপাদন চলছে। ২০০৯ সালে দেশে দৈনিক ১ হাজার ৭৮৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন চলছে। ২০০৯ সালে দেশে দৈনিক ১ হাজার ৭৮৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদিত হতো যা বেড়ে বর্তমানে ২ হাজার ৫২৫ মিলিয়ন ঘনফুট হয়েছে। পাশাপাশি গ্যাসের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে দৈনিক প্রায় ৬০০ থেকে ৭৫০ মিলিয়ন ঘনফুট তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) হিসেবে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হচ্ছে।





Source link