ই-কমার্স খাতে সুসংবাদ-দুঃসংবাদ দুই-ই আছে

33


প্রস্তাবিত বাজেটে ই-কমার্স খাতের জন্য সুসংবাদ-দুঃসংবাদ দুটোই আছে বলে জানাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটে ই-কমার্স খাতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি করতে প্রকল্প গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। দেশে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডিজিটাল মুদ্রা (সিডিবিসি) চালুর লক্ষ্যে একটি ফিজিবিলিটি স্টাডি পরিচালনার কথাও জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তবে এই বাজেট প্রস্তাবে ই-কমার্স ব্যবসায়ীদের বহু আকাঙ্ক্ষিত বিভিন্ন ধরনের ভ্যাট রোহিত করা বা কমানোর বিষয়ে কিছুই বলা হয়নি।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। বাজেট বক্তব্যে তিনি বলেন, ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশে ই-কমার্স ব্যবসার প্রসার ঘটাতে এবং ই-কমার্স খাতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির মাধ্যমে অধিকতর কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে ‘ই-বাণিজ্য করব, নিজের ব্যবসা গড়ব’ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো ই-কমার্স বিষয়ে নতুন উদ্যোক্তাদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতে ই-কমার্স বিষয়ক ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা সৃষ্টি।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে সিডিবিসি চালু করার লক্ষ্যে একটি ফিজিবিলিটি স্টাডি পরিচালনা করা হবে। এতে ভার্চুয়াল লেনদেনের ক্ষেত্রে অর্থ আদান-প্রদান সহজ হওয়ার পাশাপাশি স্টার্টআপ ও ই-কমার্স ব্যবসা উৎসাহিত হবে। আমাদের সরকারের যুগোপযোগী পদক্ষেপের কারণে দেশে ইন্টারনেট ও ই-কমার্সের প্রসার ব্যাপক হারে বেড়েছে। এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে সিডিবিসি চালুর লক্ষ্যে একটি ফিজিবিলিটি স্টাডি পরিচালনা করা হবে।’

তবে বাজেটে যেসব প্রস্তাব করা হয়েছে, সেগুলো কোনো কাজেই আসবে না বলে জানিয়েছেন ই-কমার্স ব্যবসায়ীরা। এ বিষয়ে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আজকের ডিলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিম মাশরুর আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ই-কমার্স নিয়ে গত তিন-চার বছর ধরেই বাজেটকে সামনে রেখে অর্থ মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে। কিন্তু বিগত বছরগুলোর মতো আমরা এবারও দেখলাম, আমাদের কোনো প্রস্তাবই বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। ই-কমার্সের জন্য কোনো বেনিফিটই (সুবিধা) আসলে এই বাজেট থেকে আসবে বলে মনে হচ্ছে না।’

ফাহিম মাশরুর বলেন, ‘ই-কমার্স ব্যবসায়ের ওপরে ৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়েছিল ২০১৯ সালে। ব্যবসায়ীরা এর পর থেকে প্রতিবছরই এ কর বাতিল চেয়ে আসছেন। কিন্তু বাজেটে সেটা বিবেচনা করা হয়নি। সারা দেশে ডেলিভারি সার্ভিস ফিয়ের ওপর এখন ১৫ শতাংশ ভ্যাট দিতে হয়। ই-কমার্স সংশ্লিষ্টরা এটাকে ৫ শতাংশ করার প্রস্তাব করেছিলেন। সেটাও বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।’

ই-কমার্স ব্যবসায়ীরা বলছেন, এই ডেলিভারি ফির ওপর ১৫ শতাংশ ভ্যাটের কারণে ঢাকার বাইরে পণ্য পেতে গ্রাহকদের অনেক বেশি টাকা খরচ করতে হয়। ফলে ই-কমার্স সারা দেশে ছড়াচ্ছে না। ই-কমার্সের মতো উদীয়মান খাতে এ ধরনের ভ্যাট থাকাটা ব্যবসার প্রবৃদ্ধিতে বড় বাধা। ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের গুদাম বা হাউসের ভাড়ার ওপর ৯ শতাংশ ভ্যাট গুনতে হয় ব্যবসায়ীদের। তাঁরা চেয়েছিলেন, উদীয়মান খাত হওয়ায় এই ভ্যাট যেন রোহিত করা হয়। কিন্তু এবারের বাজেটে এই ভ্যাট রোহিত করার ব্যাপারেও কিছু বলা হয়নি।

তবে বাজেট প্রস্তাবে ই-কমার্স খাতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরির প্রকল্প গ্রহণের ব্যাপারটি উল্লেখ থাকায় এবারের বাজেটকে ইতিবাচক বলে মনে করছেন ই-কমার্স ব্যবসায়ীদের সংগঠন ই-ক্যাবের প্রেসিডেন্ট শমী কায়সার। তিনি বলেন, ‘যেহেতু ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য সুযোগ থাকছে, তাই আমি এই বাজেটকে ইতিবাচকই বলব।’





Source link