ইউনিলিভার বাংলাদেশের ‘সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্ট ২০২১’ প্রকাশ 

24


‘বাংলাদেশের অংশীদার’ প্রতিপাদ্যে ‘সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্ট ২০২১’ প্রকাশ করেছে ইউনিলিভার বাংলাদেশ। এই প্রতিবেদনে ইউনিলিভার বাংলাদেশের কাজের ধরন এবং স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও বাংলাদেশের সমাজে প্রতিষ্ঠানটির প্রভাবের বিষয়গুলো প্রাধান্য পেয়েছে। সম্প্রতি রাজধানী ঢাকায় আনুষ্ঠানিক এক আয়োজনের মধ্য দিয়ে এ প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন এমপি, বাংলাদেশে যুক্তরাজ্যের হাই-কমিশনার রবার্ট চাটার্টন ডিকসন ও ইউনিলিভার বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) জাভেদ আখতারসহ কোম্পানির বিভিন্ন ক্ষেত্রের অংশীদাররা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউনিলিভার বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন কৌশল ৩টি মূল স্তম্ভের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এর মধ্যে রয়েছে—পৃথিবীর স্বাস্থ্যের উন্নয়ন; মানুষের স্বাস্থ্য, আত্মবিশ্বাস ও সুস্থতার উন্নয়ন এবং ন্যায্য ও সামাজিকভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক বিশ্ব তৈরিতে অবদান রাখা।

ইউনিলিভারের বৈশ্বিক প্রতিশ্রুতি (গ্লোবাল কম্পাস কমিটমেন্ট) অনুযায়ী, ইউনিলিভার বাংলাদেশ টেকসই বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানটির পথচলায় বাংলাদেশ সরকারসহ বিভিন্ন সেক্টরের বৈচিত্র্যময় অংশীদারদের নিয়ে একটি মাল্টি-স্টেকহোল্ডার (বহুমুখী-অংশীজন) মডেল গঠন ও পরিচালনায় ইউনিলিভার বাংলাদেশ সব সময় সচেষ্ট রয়েছে। এ ছাড়া, ইউনিলিভার বাংলাদেশে ২০২১ সালে ১০টি ভিন্ন ভিন্ন টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) পূরণে টেকসই উদ্যোগ সমূহের মাধ্যমে বিনিয়োগ করেছে ৪৩ কোটি টাকারও বেশি।

ইউনিলিভার বাংলাদেশের সিইও অ্যান্ড ম্যানেজিং ডিরেক্টর জাভেদ আখতার বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে মানুষের স্বাস্থ্যের উন্নয়ন, তাদের মধ্যে আত্মবিশ্বাস তৈরি ও কল্যাণে আমরা আমাদের উদ্দেশ্যমূলক ব্র্যান্ডগুলো দিয়ে বিভিন্ন কৌশল ও উদ্যোগ গ্রহণ করেছি এবং ক্ষুধা মুক্তি, সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ এবং নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন সহ এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা সমূহ অর্জনে সহযোগিতা করে আসছি। বাংলাদেশে একই দর্শনের বিস্তৃতি ঘটিয়ে মানুষের জীবনমানের উন্নয়নে আমরা আমাদের ব্র্যান্ডগুলো ব্যবহার করেছি। শিশুদের ‘ওরাল হাইজিন’ বা দাঁত ও মুখের যত্ন সহ আমাদের অসংখ্য সফলতার গল্প রয়েছে এবং ৯০ এর দশক থেকে আমরা ১ কোটিরও বেশি স্কুল শিক্ষার্থীকে সঠিক উপায় হাত ধোয়া শিখিয়েছি। আমরা এসব অভিজ্ঞতা এখন ‘ট্যাবু’ বা সামাজিক অজ্ঞতা রয়েছে এমন সব সমস্যা, যেমন-স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার, নিরাপদ পানি ব্যবহারের অভ্যাস এবং মানসিক সুস্থতা ইত্যাদি সমাধানে কাজে লাগাচ্ছি।’

শিল্প মন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন এমপি বলেন, ‘ইউনিলিভারের সঙ্গে সরকারের অংশীদারত্ব থাকায় আপনাদের সাফল্য ও বিস্তৃতি নিয়ে আমরা গর্ববোধ করছি।’

সরকার বর্তমানে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবে শামিল হতে প্রস্তুতি নিচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের অর্থনৈতিক অগ্রগতির এই ধারা অব্যাহত রাখার জন্য মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং পরিবেশ রক্ষায় সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। পরিবর্তিত জলবায়ু ও বিশেষ বিপর্যয়ের প্রভাব থেকে জনগণকে সুরক্ষা দিয়ে সরকার প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। ইউনিলিভার বাংলাদেশে পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে শুধু ব্যবসা পরিচালনাই করছে না বরং একই সাথে নৈতিক ও আদর্শ নির্ভর একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশের সামাজিক ও পরিবেশগত উন্নয়নের জন্য অংশীজনদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে। কোম্পানিটি সারা দেশে প্রায় ১০ লাখ উদ্যোক্তাদের নিয়ে কাজ করছে। ফলে কর্মসংস্থান তৈরিতেও বিশাল অবদান রাখছে ইউনিলিভার বাংলাদেশ।’ 

বাংলাদেশে যুক্তরাজ্যের হাই-কমিশনার রবার্ট চাটার্টন ডিকসন বলেন, ‘ইউনিলিভারের ‘সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্ট ২০২১’ প্রকাশ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পেরে আমি আনন্দিত। আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় এক গভীর সংকট রয়েছে এবং যার ফলে আমরা সকলেই জলবায়ু পরিবর্তনের ভুক্তভোগী। সংকট মোকাবিলায় আমাদের অবশ্যই কার্বন-ডাই অক্সাইডের নিঃসরণ কমিয়ে আনতে হবে। আমি এ পর্যন্ত যে সকল কোম্পানির সঙ্গে কাজ করেছি, তাদের মধ্যে ইউনিলিভারই সবচেয়ে টেকসই ভাবনার মূলধারার কোম্পানি, যেটি এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সংকট সমাধানে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমি মনে করি ইউনিলিভারের জন্য সবচেয়ে প্রশংসাযোগ্য বিষয়-প্রতিষ্ঠানটি অসাধারণ ও উদ্ভাবনে সক্ষম করপোরেট সিভিল সোসাইটি এবং প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারত্ব গড়েছে, যাদের কাছ থেকে বাংলাদেশ উপকৃত হচ্ছে।’ 





Source link