সব দলের অংশগ্রহণে আগামী সংসদ নির্বাচন: সংসদে রওশন এরশাদ

47


সব দলের অংশগ্রহণে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জাতীয় পার্টির প্রধান পৃষ্ঠপোষক বেগম রওশন এরশাদ। আজ বুধবার জাতীয় সংসদে ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

রওশন এরশাদ বলেন, ‘আমি মনে করি, সকল দলের অংশগ্রহণে আগামী নির্বাচনটি হবে সুষ্ঠু, অবাধ ও সুস্থ প্রতিযোগিতামূলক একটি নির্বাচন, যা গণতন্ত্রের মূলনীতি। দেশের উন্নয়নের জন্য টেকসই গণতন্ত্রের প্রয়োজন। আর সে জন্যেই আমাদের সকলকে দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা প্রয়োজন।’  

একাদশ জাতীয় সংসদের বেশির ভাগ সময় পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘দেশের সব কটি রাজনৈতিক দলই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।’ 

করোনা মহামারির সংকট কাটার আগেই শুরু হয়েছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব যা ছড়িয়ে পড়েছে বিশ্বব্যাপী উল্লেখ করে রওশন এরশাদ বলেন, ‘খাদ্যপণ্যের বাজারে বিরাজ করছে চরম অস্থিরতা। এমন একসময়ে আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট। করোনা মহামারি-পরবর্তী নতুন বিশ্বের সামনে কঠিন এক চ্যালেঞ্জ এনে দিয়েছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। যার প্রভাবে সারা বিশ্বেই জ্বালানিসহ সব ধরনের পণ্যমূল্য বাড়ছে লাফিয়ে লাফিয়ে। বাংলাদেশে বেড়েছে অসহনীয়ভাবে। ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদনব্যবস্থা। ডলারের বাজার অস্থির হয়ে ওঠায় আমদানি-রপ্তানি খাতেও পড়ছে এর বিরূপ প্রভাব। এমন এক বৈরী সময়ের মধ্যে সরকারের সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ।’   

আমদানি কমানোর কৌশল নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে রওশন এরশাদ বলেন, ‘আমি বাজেটের ওপর ইস্যুভিত্তিক বিস্তারিত আলোচনায় যাচ্ছি না। তবে প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, সামাজিক সুরক্ষা এবং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি করার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।’ সর্বজনীন পেনশন চালু ও যুব-বাজেটের জন্য অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান তিনি। 

মেডিটেশন সেবা একটি মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কাজেই একে ভ্যাটের আওতামুক্ত রাখা উচিত বলে মনে করেন রওশন এরশাদ। বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ মাতৃমৃত্যু কমানোর জন্য সচেতনতামূলক কার্যক্রম বৃদ্ধি করতে অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার কথা বলেন তিনি। 

সিলেট ও উত্তরবঙ্গের বন্যাকবলিতরা কষ্টে আছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বন্যা মোকাবিলায় স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, গ্রহণ ও দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন।’ 

বন্যা-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে জানিয়ে রওশন এরশাদ বলেন, আমাদের যা দরকার তা হলো সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ, যাতে করে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্তদের কাছে অবিলম্বে সাহায্য পৌঁছানো যায়। ত্রাণ ও চিকিৎসা দলগুলোর জন্য পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করে আশ্রয়কেন্দ্রগুলো পাঠানো দরকার। দীর্ঘ মেয়াদে বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্যও সরকারের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। সেই সঙ্গে স্থায়ী সমাধানের জন্য বিশেষজ্ঞদের মতামত সাপেক্ষে দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা গ্রহণ করা দরকার। 

পদ্মা সেতু উদ্বোধন করায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান বিরোধীদলীয় নেতা। বলেন, ‘পদ্মা সেতু দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জন্য অর্থনৈতিক লাইফ লাইনরূপে কাজ করবে। বাণিজ্য, আঞ্চলিক বাণিজ্য, দক্ষিণ এশিয়ার সংযোগ, শিল্পাঞ্চল গড়ে ওঠা, কৃষি সম্প্রসারণ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিসহ আর্থসামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখবে স্বপ্নের পদ্মা সেতু।’ 





Source link