সকল ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে পদ্মা সেতুর কাজ সম্পন্ন হয়েছে, সংসদে শিক্ষামন্ত্রী

41


শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছেন, ‘আজ সমস্ত প্রতিকূলতাকে অতিক্রম করে সকল অসত্য আর ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে আমাদের পদ্মা সেতুর কাজ সম্পন্ন হয়েছে। স্বপ্ন আজ সত্যি।’ আজ বুধবার একাদশ জাতীয় সংসদের অষ্টাদশ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে আনীত সাধারণ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনাকে, তাঁর পরিবারকে, তাঁর সহকর্মীদের হেয় করা সকল প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে। কিন্তু শেখ হাসিনার সততা, দেশপ্রেম, দৃঢ়তা, সাহস, প্রজ্ঞা আর দূরদর্শিতার কাছে পরাজিত হয়েছে সকল ষড়যন্ত্র। এই পদ্মা সেতু বাঙালির আত্মবিশ্বাস ও আত্মমর্যাদার প্রতীক। বাঙালির সাহস আর দৃঢ়তার প্রতীক। এই বিরল সম্মান-মর্যাদায় বাঙালিকে অভিষিক্ত করায় গভীরতম কৃতজ্ঞতা, নিরন্তর ভালোবাসা আর অসীম আকাশসম শ্রদ্ধা জানাই শেখ হাসিনাকে। 

গ্রামীণ ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. ইউনূসের নাম না নিয়ে দীপু মনি বলেন, বেআইনি কাজ করায় হেরে গিয়ে তিনি (ড. ইউনূস) এতটাই ক্ষুব্ধ হন যে, শেখ হাসিনার সরকার, ব্যক্তি শেখ হাসিনা, তাঁর পরিবার, এমনকি সরকার পক্ষের যিনি আইনজীবী ছিলেন তার প্রতিও প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে ওঠেন। দুঃখের সঙ্গে বলতে হয় কিছু মহলের প্রতিহিংসা পরায়ণতা এখনো প্রশমিত হয়নি। সেই আইনজীবীর (তাঁর স্বামী তৌফিক নেওয়াজ) স্ত্রী হিসেবে তাদের প্রতিহিংসার আগুনে আমাকে এখনো পুড়তে হয়। 

দীপু মনি বলেন, গ্রামীণ ব্যাংক কোনো এনজিও নয়। কোনো বেসরকারি ব্যাংকও নয়। এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক একজন পাবলিক সার্ভেন্ট। তাঁর সরকারি কর্মচারী আইন বিধিমালা ইত্যাদি সবকিছু অনুযায়ী চলার কথা। ব্যাংকিং আইনানুযায়ী চলার কথা। কিন্তু তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক কোনোটিরই কোনো তোয়াক্কা কোনো দিনই করেননি। এ নিয়ে নানা ধরনের অভিযোগ ছিল। তিনি আইনানুযায়ী ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে থাকতে পারেন। অথচ আইন ভঙ্গ করে তিনি প্রায় ৭০ বছর বয়স পর্যন্ত এই পদ আঁকড়ে ছিলেন। 

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক যখন এই পদে তিনি থাকতে পারেন না মর্মে তাঁকে চিঠি দেন, তখন তিনি তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে একাধিক মামলা দায়ের করেন। প্রতিটি মামলাতেই তিনি আইনের কাছে পরাজিত হন। কারণ, কোনো আদালত কোথাও কোনো ব্যক্তির বয়স ৭০ থেকে ৬০ বছর তো আর করে দিতে পারেন না। আইনের কাছে তিনি বেআইনি কাজ করায় হেরে গিয়ে এতটাই ক্ষুব্ধ হন যে, শেখ হাসিনার সরকার, ব্যক্তি শেখ হাসিনা, তাঁর পরিবার, তাঁর বোন শেখ রেহানা, এমনকি সরকার পক্ষের যিনি আইনজীবী ছিলেন তাঁর প্রতিও প্রতিহিংসা পরায়ণ হয়ে ওঠেন। 

দীপু মনি বলেন, জনমনে প্রশ্ন আছে সীমিত আয়ের একজন পাবলিক সার্ভেন্ট হয়েও ড. ইউনূস বিশাল অঙ্কের অর্থ ক্লিনটনকে (হিলারি ক্লিনটন) অনুদান হিসেবে দিলেন কীভাবে? এ রকম আরও বহু প্রশ্ন রয়েছে। সেই সব প্রশ্নের জবাবও নিশ্চয়ই একদিন পাওয়া যাবে। 

বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘তিনি (রুমিন ফারহানা) বলেছেন, বিশ্বব্যাংক ফিরে এসেছিল, আমরা কেন তাদের ঋণ নিলাম না? আত্মসম্মান-আত্মমর্যাদা এই বিষয়গুলো বিএনপি-জামায়াত বুঝবে, এটা আমরা প্রত্যাশা করি না।’ 

এ সময় ভূপেন হাজারিকা সেতুর সঙ্গে পদ্মা সেতুর বিভিন্ন কারিগরি দিক তুলে ধরেন শিক্ষামন্ত্রী। 





Source link