সংসদ এলাকায় উপজেলা চেয়ারম্যানকে কিল-ঘুষি মারার অভিযোগ এমপির বিরুদ্ধে

34


জাতীয় সংসদের এলডি হলে কুমিল্লার দেবীদ্বার উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদকে কিল-ঘুষি মারার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সংসদ সদস্য রাজী মোহাম্মদ ফখরুলের বিরুদ্ধে। আজ শনিবার দুপুরের দিকে উপজেলা সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির বৈঠকে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংসদ সদস্য রাজী মোহাম্মদ ফখরুলের আহ্বানে কুমিল্লা উত্তর জেলা ও দেবীদ্বার উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা জাতীয় সংসদের এলডি হলে উপস্থিত হন। সেখানে সম্মেলনের বিষয়ে নানা কথা বলেন নেতারা। এ সময় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কমিটির বিষয়ে আলোচনা হয়। কয়েকটি ইউপির কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রোশন আলী মাস্টার। সর্বশেষ একটি ইউপির নেতার নাম ঘোষণা করা হলে উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন ‘সুন্দর হয়েছে’। এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে আজাদের দিকে তেড়ে আসেন সংসদ সদস্য রাজী মোহাম্মদ ফখরুল। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে আজাদকে কিল-ঘুষি মারতে শুরু করেন ফখরুল। আজাদও সংসদ সদস্যকে কিল-ঘুষি মারেন। পরিস্থিতি জটিল হতে থাকলে উপস্থিত নেতারা তাঁদের শান্ত করেন।

জানা যায়, দীর্ঘ ২৬ বছর পরে আগামী ২১ জুলাই দেবীদ্বার উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। এ নিয়ে শনিবার জাতীয় সংসদের এলডি হলে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির বৈঠক হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি রুহুল আমিন, সাধারণ সম্পাদক রোশন আলী মাস্টার, কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য রাজী মোহাম্মদ ফখরুল, দেবীদ্বার উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একেএম মনিরুজ্জামান। তবে এতে উপস্থিত ছিলেন না প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক গোলাম মোস্তফা।

এ বিষয়ে রোশন আলী মাস্টার আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে আমরা কেন্দ্রীয় নেতাদের জানিয়েছি। চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক স্বপন ভাই আগামীকাল (রোববার) ১২টায় দেখা করতে বলেছেন।’

রুহুল আমিন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘সম্মেলন কীভাবে করবে এ নিয়ে আলোচনার একপর্যায়ে একটি ইউনিয়নের কমিটি গঠন নিয়ে দুজনে হাতাহাতি করেছে। পরে আমরা আমরা ঠিকঠাক করেছি।’

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য রাজী মোহাম্মদ ফখরুলের ব্যক্তিগত নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরে মোবাইলে ঘটনা উল্লেখ করে খুদে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি কিংবা কল করেননি।

এ নিয়ে রাজী মোহাম্মদ ফখরুলের অনুসারী দেবীদ্বার উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একেএম মনিরুজ্জামান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘বৈঠকে কথা-কাটাকাটি হয়েছে, সিরিয়াস কিছু ঘটেনি।’

দেবীদ্বার উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদের ব্যক্তিগত মোবাইলে কল দেওয়া হলে তাঁর ঘনিষ্ঠ শাহাদাত হোসেন শিমুল নামের একজন কল রিসিভ করেন। তিনি বলেন, ‘জাতীয় সংসদের এলডি হলে উপজেলা সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সভায় এমপি সাহেব (রাজী মোহাম্মদ ফখরুল) আজাদ ভাইকে কিল-ঘুষি মেরেছেন। এখন তিনি হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রয়েছেন।’

আওয়ামী লীগের চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমার কাছে কেউ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেননি। আমি হাওয়া হাওয়া শুনেছি। খোঁজ-খবর নেব।’

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, দেবীদ্বার উপজেলা আওয়ামী লীগ একাধিক ধারায় বিভক্ত। এক সময় গ্রুপিং ছিল সাবেক মন্ত্রী ও কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি এবিএম গোলাম মোস্তফা এবং তাঁর ভাগনে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য এএফএম ফখরুল মুনশির মধ্যে। দুজনের দ্বন্দ্বে দীর্ঘদিন সম্মেলন হয়নি।

এখন দেবীদ্বার উপজেলা কমিটি চার ধারায় বিভক্ত বলে জানা গেছে। এর পক্ষে আছেন এএফএম ফখরুল মুনশির ছেলে ও সংসদ সদস্য রাজী মোহাম্মদ ফখরুল, কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী এবিএম গোলাম মোস্তাফা, সাধারণ সম্পাদক রওশন আলী মাস্টার, সাংগঠনিক সম্পাদক ও দেবীদ্বার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ।





Source link