সংকট মোকাবিলায় কৃচ্ছ্রসাধন ও সঞ্চয় বাড়ানোর অনুরোধ প্রধানমন্ত্রীর

39


করোনা ভাইরাস মহামারি ও রাশিয়া-ইউক্রেন সংকটের কারণে বিশ্বব্যাপী দ্রব্যমূল্য বেড়েছে। সব মিলিয়ে অর্থনৈতিক সংকটের আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় দেশবাসীকে কৃচ্ছ্রসাধন ও সঞ্চয় বৃদ্ধির চেষ্টা করার অনুরোধ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ বুধবার জাতীয় সংসদে ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনার সমাপনী বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘চলমান কোভিড-১৯ অতিমারির অভিঘাত, রাশিয়া-ইউক্রেন সংকট হতে উদ্ভূত পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক সরবরাহ-শৃঙ্খল ব্যাহত হওয়ায় আমদানিভিত্তিক মূল্যস্ফীতির কারণে দেশে বর্তমানে যে (দ্রব্যমূল্যের) ঊর্ধ্বগতি, তা নিয়ন্ত্রণে রাখার ওপর প্রাধান্য দিয়েই এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। এখন আমাদের প্রধান কাজ হচ্ছে, প্রত্যেককে তাঁর নিজ নিজ জায়গায় থেকে যতটুকু সম্ভব কৃচ্ছ্রসাধন ও সঞ্চয় বাড়ানোর চেষ্টা করা।’

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে জনগণকে তিনটি বিষয়ে মনোযোগ দিতে অনুরোধ জানান। এগুলো হলো—ব্যক্তিগত পর্যায়ে সঞ্চয় বাড়ানোর মাধ্যমে জাতীয় সঞ্চয় বৃদ্ধিতে অবদান রাখা; সকল প্রকার অপ্রয়োজনীয় ব্যয় তথা অপচয় কমানো; আমদানি করা বিলাসদ্রব্য ক্রয় পরিহার করে শুধু প্রয়োজনীয় জিনিস কেনায় মনোযোগ দেওয়া। তিনি বলেন, ‘আমরা যখন বিদ্যুৎ দিয়েছি, কেউ ঢালাওভাবে ব্যবহার করবেন না। অপচয় যেন না হয়, সকলেই কৃচ্ছ্রসাধন করে, সঞ্চয় করে নিজেকে সুরক্ষিত রাখবেন।’ 

সরকারপ্রধান বলেন, ‘কথায় কথায় দৌড়ে বিদেশে যেয়ে চিকিৎসা নেওয়া যাবে না। দেশে ভালো চিকিৎসা হয়। শত বাধা ও চাপের মুখে পড়লেও আমরা দৃঢ়ভাবে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি। অনেক প্রতিকূল অবস্থায় আমাদের এগোতে হচ্ছে। যেখানে উন্নত দেশগুলো হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে আমরা আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গতি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছি। এ ব্যাপারে সকলের সহযোগিতা কামনা করি।’

করোনাভাইরাস অতিমারির সময়ে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে ৪৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছিল উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বর্তমানে ব্যাপক হারে আমদানি বৃদ্ধি, প্রবাসী আয় হ্রাস ইত্যাদি কারণে এ রিজার্ভের পরিমাণ বর্তমানে কমে ৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে আমদানিজনিত মূল্যস্ফীতি রোধে আমাদের সার, বিদ্যুৎ, তেল ও গ্যাসে বর্ধিত ভর্তুকি প্রদান করতে হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘আন্তর্জাতিক (বাজারে) মূল্যবৃদ্ধির কারণে আগামী অর্থবছরে জ্বালানি তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, সার ও বিদ্যুৎ খাতে সরকারের যে ঘাটতি হবে, তা আমরা মূল্য বাড়িয়ে ভোক্তা পর্যায়ে শতভাগ চাপিয়ে দেব না। ফলে আগামী অর্থবছরে ভর্তুকি ব্যয় বাড়বে। সে কারণে কার্যকর ভর্তুকি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ভর্তুকি ব্যয় সহনশীল মাত্রায় রাখা এবং আমদানির ওপর চাপ কমানোর লক্ষ্যে আমরা যথাযথ পদক্ষেপ নেব। সবাইকে একটু দেশীয় পণ্যের দিকে নজর দিতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শত বাধা ও চাপের মুখে পড়লেও আমরা দৃঢ়ভাবে সামনের দিকে এগিয়েছি এবং অসম্ভবকে সম্ভব করেছি। কারণ, এ দেশের মানুষের রয়েছে ঘুরে দাঁড়ানোর এক অসাধারণ সহজাত প্রত্যয়। আমি দৃঢ়ভাবে আশাবাদী, কোভিড-১৯ অতিমারির অর্থনৈতিক অভিঘাত ও চলমান বৈশ্বিক সংকটজনিত পরিস্থিতি মোকাবিলা করে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় প্রত্যাবর্তনের লক্ষ্যে আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য যে বাজেট মহান জাতীয় সংসদে পেশ করা হয়েছে, জনগণের সর্বাত্মক সহযোগিতায় আমরা তার সফল বাস্তবায়নে সক্ষম হব।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি বলতে পারি, এই যে আমরা এত বাধা অতিক্রম করেও দেশে-বিদেশে, বাইরে—সব জায়গায় তো একটা বাধা পেতে হয়, সেটা অতিক্রম করেও আমরা অসম্ভবকে সম্ভবে পরিণত করছি। তার কারণ আমাদের দেশের মানুষ। তাদের কিন্তু একটা আলাদা শক্তি আছে। শুধু যদি একবার তারা বুঝতে পারে, অনুধাবন করতে পারে তখনই তাদের শক্তিটা বোঝা যায়। পদ্মা সেতুর ক্ষেত্রেও সেটা হয়েছে। জাতির পিতার ডাকে অস্ত্র তুলে নিয়ে এ দেশের মানুষই কিন্তু বিজয় ছিনিয়ে এনেছিল। তারা জীবন বিলিয়ে দিয়েছিল। সেই মানুষের দেশ আমাদের। কাজেই আমাদের মানুষকে নিয়ে এগোতে হবে।’





Source link