বিনা মূল্যে সার ও বীজ পাবেন বন্যা কবলিত কৃষকেরা: পরিকল্পনামন্ত্রী

42


সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া কৃষকদের পুনর্বাসনের পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে তাদের বিনা মূল্যে সার ও বীজ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান।

আজ সোমবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সিলেট বিভাগ সাংবাদিক সমিতি (সিবিসাস) ‘সিলেট অঞ্চলে ঘন-ঘন বন্যা: কারণ, পুনর্বাসন ও স্থায়ী সমাধান’ শীর্ষক এ গোলটেবিল আলোচনার আয়োজন করে।

এম এ মান্নান বলেন, গত ৩০-৩৫ বছরে হাওর এলাকায় যে উন্নয়ন হয়েছে তার অনেক বড় ক্ষতি করেছে বন্যা। তবে বন্যায় ক্ষতি হয় বলে আমরা হাওরের উন্নয়ন বন্ধ করে দেব না। কারণ হাওরের মানুষদেরও উন্নত জীবন যাপনের হক আছে। শিগগিরই সিলেট-সুনামগঞ্জে পুনর্বাসন কার্যক্রম শুরু করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, বিনা মূল্যে বীজ ও সার ক্ষুদ্র চাষিদের মাঝে প্যাকেট করে বিতরণ করা হবে। হাওরের বাসিন্দাদের যাদের কাঁচা ঘর তাদের সিমেন্টের খুঁটি ও মেঝে পাকা করে দিতে পারলে ক্ষয়ক্ষতি কমবে।

পরিকল্পনামন্ত্রী আরও বলেন, ‘একাত্তর সালে সিলেট-সুনামগঞ্জের রাস্তা পাকিস্তানিরা বন্ধ করতে না পারলেও এবারের বন্যা তা পেরেছে। অন্যান্য সময় হাওরের বন্যায় মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিলেও এ বছর সরকার পৌঁছানোর আগেই মানুষ ত্রাণ নিয়ে হাওরবাসীর পাশে দাঁড়িয়েছে। কারণ মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে, সক্ষমতা বেড়েছে, গড় আয় বেড়েছে।’ 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমেদ, এবং পানি সম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম।

সিবিসাসের সভাপতি আজিজুল পারভেজের সভাপতিত্বে সভায় ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন গোলটেবিল আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক এহসানুল হক জসীম। এ ছাড়া বিশেষজ্ঞ আলোচক ছিলেন ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. এম ফিরোজ আহমেদ, বাংলাদেশ পরিবেশ সাংবাদিক ফোরামের সভাপতি কামরুল ইসলাম চৌধুরী, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি-বেলার প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন-বাপার সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল, রিভার অ্যান্ড ডেলটা রিসার্চ সেন্টার-আরডিআরসির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ এজাজ প্রমুখ।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন বলেন, এবারের বন্যায় প্রমাণ হয়েছে পরিবেশের ওপর অত্যাচার করে কেউ টিকে থাকতে পারবে না। জলাশয়গুলোর পানি ধারণ ক্ষমতা বাড়াতে পারলে বন্যার তীব্রতা কমানো সম্ভব হবে উল্লেখ করে তিনি জানান ভবিষ্যতে বন্যা প্রতিরোধে দেশের খাল-বিল, নদী-নালা, হাওর-বাওর ও বিলসহ অন্য জলাশয়গুলো খননে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এ ছাড়া অবাধে বৃক্ষ নিধন, পাহাড়, টিলা কর্তন বন্ধ করতে হবে।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমেদ বলেন, কেউই কল্পনা করেনি এত বড় বন্যা হবে, তাই সরকারকে এককভাবে দোষ দেওয়া যায় না। অসংখ্য সমাজসেবী ও মানবসেবী মানুষ বন্যার্তদের সহায়তা করেছে। আমি মনে করি এরাই বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার মানুষ।

পানি সম্পদ উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম বলেন, হাওরকে রক্ষা করার জন্য যা কিছু করা দরকার সবকিছুই করা হবে। ইতিমধ্যে সিলেট অঞ্চলে ২ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছি। আরও ৩ হাজার ২০০ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়ার পরিকল্পনা আছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে জনগণের জানমালের আর কোনো ক্ষতি হবে না।





Source link