বিএনপি গাছ কেটে মাছের ঘের শুরু করেছিল: প্রধানমন্ত্রী

35


কক্সবাজারের সোনাদিয়াসহ বিভিন্ন চরে ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে বনায়নের উদ্যোগ নিয়েছিল কিন্তু বিএনপি ক্ষমতায় এসে এসব অঞ্চলে গাছ কেটে মাছের ঘের করতে শুরু করে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘আমাদের অত্যন্ত দুর্ভাগ্য যে সোনাদীয়াসহ বিভিন্ন অঞ্চলে যে সমস্ত গাছগুলি হয়েছিল সেগুলি কেটে বিএনপি যখন সরকারে আসে সেখানে মাছের ঘের করতে শুরু করে।’ 

আজ রোববার ‘বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা ২০২২’ এবং ‘জাতীয় বৃক্ষ রোপণ অভিযান ও বৃক্ষ মেলা ২০২২’ এর উদ্বোধনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত এ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।
 
বিএনপির আমলে সুন্দরবনের বিভিন্ন খালের মুখ বন্ধ করে চিংড়ি চাষ করা হতো বলে জানান শেখ হাসিনা। বলেন, ‘এখানে প্রায় ২৫০ খাল ছিল, সেই খালগুলির মুখ বন্ধ করে সেখানে চিংড়ি চাষ করা হতো। সেখান থেকে আমরা প্রায় ১০০ এর কাছাকাছি খাল উন্মুক্ত করতে সক্ষম হয়েছি। আমি অন্তত আহ্বান করব বাকি খালগুলোও যেন উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।’
 
খালগুলির মুখ উন্মুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্যোগ নিতে বলেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘এখানে আমাদের বন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রীও আছেন। তিনি ওই এলাকারই সংসদ সদস্য। তাকে আমি বলব এ ব্যাপারে যেন আরও বেশি উদ্যোগ নেওয়া হয়। আমাদের যে প্রশাসনিক কর্মকর্তারা আছেন তাদেরকেও বলব বাকি যে খালগুলি আছে সেগুলি উন্মুক্ত করে দেওয়া। তাহলে এই খালটার নাব্যতা থাকবে এবং আমাদের সুন্দরবনের জন্য সেটা ভারসাম্য রক্ষা করবে। আমরা বিভিন্নভাবে এ সব উদ্যোগ নিচ্ছি।’ 

সরকার বিভিন্ন এলাকায় বৃক্ষরোপণের পদক্ষেপ নিচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যত উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করি, সেখানে একটা শর্ত থাকে। যে, কোথাও যদি বৃক্ষ নিধন হয়, তার থেকেও পাঁচগুণ বেশি বৃক্ষ লাগানো হবে। সেটা কিন্তু মানা হয়। 

ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশে ছোট হলেও জনসংখ্যা বেশি তাই আবাসন ব্যবস্থা ও উন্নয়ন পরিকল্পনা সরকারে নিতে হয় বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। এ ক্ষেত্রে সরকার বৃক্ষ রোপণের বিষয়ে বিশেষ নজর রাখে বলেও জানান তিনি। 

কৃষি জমি ও বনায়ন রক্ষা করতে যত্রতত্র শিল্প কারখানা গড়ে না উঠে এ জন্য দেশে ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। এসব অঞ্চলে বর্জ্য ব্যবস্থা, বৃষ্টির পানি ও জলাধার সংরক্ষণের দিকে সরকার নজর দিচ্ছে বলে জানান তিনি। 

চরাঞ্চলে বৃক্ষরোপণ এবং নদী খননের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, খননের মাধ্যমে নদীর ভেতর থেকে আমরা অনেক ভূমি উত্তোলন করতে সক্ষম হচ্ছি। এই ভূমি উত্তোলনের সঙ্গে সঙ্গে সেখানে বনায়ন করা এবং পরবর্তীতে সেগুলি আমরা শিল্পায়নের জন্য ব্যবহার করতে পারি, বসতির জন্য ব্যবহার করতে পারি। চাষাবাদের জন্য ব্যবহার করতে পারি। সেগুলি কিন্তু আমরা করে যাচ্ছি। এটা আরও ব্যাপকভাবে কর্মসূচি আমাদের নিতে হবে। 

নদী বাঁচিয়ে রাখতে পারলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকেও মুক্তি পাওয়া যাবে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। এছাড়াও লবণাক্ততা থেকে মুক্তি ও মৎস্য সম্পদ বৃদ্ধি পাবেও বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। দেশের মানুষ এখন ছাদ বাগানে উৎসাহিত হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, ‘ইতিমধ্যে একজন পুরস্কারও পেয়েছেন। এ ধরনের উদ্যোগগুলোকে আরও উৎসাহিত করা উচিত। ছাদ বাগানটাও ব্যাপকভাবে কাজে লাগছে।’ 

করোনা ভাইরাস বিশ্ব অর্থনীতিতে যথেষ্ট ক্ষতি করেছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি এবং পণ্য পাওয়া কষ্টকর হয়ে গেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জমি উর্বর, আমাদের মানুষ আছে। আমাদের নিজের ফসল নিজে ফলাতে হবে। আমাদের নিজের খাদ্য নিজে গ্রহণ করতে হবে। যে সব জিনিস আমাদের প্রয়োজন, তা আমরাই উৎপাদন করব। আমাদের প্রাকৃতিক পরিবেশ যেমন রক্ষা পাবে পাশাপাশি আমরা পরনির্ভরশীলতাও কাটিয়ে উঠতে পারব।’ 

সরকারের নানান উদ্যোগের কারণে বনায়ন ২২ ভাগে উন্নীত হয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সামাজিক বনায়নের বিষয়টাও ব্যাপকভাবে করে যেতে হবে। এতে যেমন দরিদ্র জনগোষ্ঠী লাভবান হয় তারা নিজেরা গাছ শুধু লাগায় না, গাছগুলি চমৎকারভাবে পাহারা দেয়। সেটা নিজে আমি দেখেছি। আমাদের বনভূমি বৃদ্ধি করা পাশাপাশি আমাদের সার্বিক উন্নয়নের কাজও করে যেতে হবে। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমাদের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে হবে।’ 

আগামী ১৫ জুন আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি উদ্বোধন করা হবে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের প্রত্যেকটা সহযোগী সংগঠন ব্যাপকভাবে বৃক্ষরোপণ করে। এটা শুধু করেই না, করার সঙ্গে সঙ্গে আবার আমাকে তারা ছবিও পাঠায়। এটা বাধ্যতামূলক।’ 

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী শাহাব উদ্দিনের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার, মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ।





Source link