বাংলাদেশ সফরে আসছেন ইইউ’র ৬ সংসদ সদস্য

53


বাংলাদেশ সফরে আসছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সংসদের ছয় সদস্য। বাণিজ্য ইস্যু নিয়ে আসা ইইউ’র দলটি সরকার ও রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা করবেন গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও সুশাসনের মত ইস্যুগুলোতে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম শাহরিয়ার আলম। ইইউ’র ছয় সদস্যের সফর নিয়ে জানতে চাইলে আজকের পত্রিকাকে তিনি বলেন, ইইউ, যুক্তরাষ্ট্র বা পশ্চিমা বিশ্বের কোনো দেশের নাম আসলেই এটাকে মানবাধিকারের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু আমাদের সম্পর্কের ব্যাপ্তি অনেক ব্যাপক।

শাহরিয়ার আলম বলেন, ইইউ’র এ সফরটি একটি বাণিজ্য বিষয়ক সফর। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নতি, সামাজিক উন্নতি, নির্বাচন, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালীকরণের মত বিষয়গুলো আলোচনায় আসতে পারে। মূলত এটি একটি বাণিজ্য প্রতিনিধি দল। যারা ব্যক্তি মালিকানাধীন কারখানাগুলো সফর করবেন। বাংলাদেশের বর্তমান উন্নয়ন দেখবেন।
 
৫ জুলাই মঙ্গলবার দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গিয়েছিলেন ঢাকার ইইউ রাষ্ট্রদূত চার্লস হোয়াইটলি। ইইউ’র ৬ সংসদ সদস্যদের সফর নিয়ে আলোচনা করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলমের সঙ্গে।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কমিটি বাংলাদেশ আসছে। বাংলাদেশ ও ইইউ’র মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক বাড়ানোর বিষয়ে আগ্রহী। বিভিন্ন মন্ত্রী ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠক করবে এ প্রতিনিধি দল। বর্তমানে ইইউ সংসদে জিএসপি বিষয়টি আলোচনার টেবিলে রয়েছে বলেও জানান তিনি।
 
ইইউ ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, আগামী ১৭ই জুলাই বাংলাদেশে আসবেন ইইউর সংসদ সদস্যরা। ২০ জুলাই পর্যন্ত তারা সফরে থাকবেন। এ ধরনের সফর আগে হতো। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ দিন বন্ধ ছিল। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে ২০১৪ ও ২০১৮ এর নির্বাচনসহ আগামী নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে ইইউ রাষ্ট্রদূতের।
 
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, এ বৈঠকটিতে বাণিজ্য ইস্যুটিই বেশি জোড় পাবে। বাংলাদেশের শ্রম অধিকার, শ্রম আইনের ব্যবহার নিয়ে ইইউ’র বেশ কিছু পর্যবেক্ষণ রয়েছে। বিশেষ করে ট্রেড ইউনিয়ন করা নিয়ে। বাংলাদেশের রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলগুলোতে ট্রেড ইউনিয়ন করতে দেওয়া হয় না। বিষয়টি নিয়ে আপত্তি রয়েছে পশ্চিমাদের। এ ছাড়া কারখানার কর্ম পরিবেশের মান আগের চেয়ে ভালো হলেও এখনো এমন কারখানা রয়েছে, বিশেষ করে যে যারা সাব-কন্ট্রাক্টে কাজ করে, সেই কারখানাগুলোর কর্মপরিবেশের মান নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়েছে।

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের বিনিয়োগকারীদের কিছু সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাংলাদেশে আনা হয়েছে। এখন চাইলে হঠাৎ করে তা বদলানো সম্ভব নয়। তবে ইইউকে আমরা বলেছি যে আগামী দুই বছরের মধ্যে ইপিজেড এর বিনিয়োগকারীদের নোটিশের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানে নিয়ে আসা হবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, বৈঠকে জিএসপি প্লাস নিয়ে আলোচনা হবে। ২০২৬ সালের পর ইইউ থেকেই জিএসপি বাতিল হয়ে যাবে। এরপর থেকে ইইউ জিএসপি প্লাস সুবিধা দেবে। ফলে চাইলেও ২০২৯ সাল পর্যন্ত জিএসপি সুবিধা দিতে পারবে না ইইউ। বর্তমানে বাংলাদেশের সঙ্গে ইইউ জিএসপি প্লাস নিয়ে আলোচনা করছে। আর জিএসপি প্লাস সুবিধাটি পাওয়া বাংলাদেশের জন্য খুব সহজ হবে না। কীভাবে বাংলাদেশ এ সুবিধা পেতে পারে তা নিয়ে বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো কাজ করছে।





Source link