ঢাকার বাইরের স্বাস্থ্যব্যবস্থা নিয়ে সংসদে প্রশ্নবাণে জর্জরিত স্বাস্থ্যমন্ত্রী

53


জেলা, উপজেলার সরকারি চিকিৎসক, নার্স ও জনবল সংকটসহ স্বাস্থ্যসেবার বেহাল দশা নিয়ে জাতীয় সংসদে প্রশ্নের মুখে পড়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। আজ রোববার সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সম্পূরক প্রশ্নে ফ্লোর নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা তাঁদের নির্বাচনী এলাকাসহ সারা দেশে স্বাস্থ্যখাতের বেহাল দশা নিয়ে একের পর এক প্রশ্ন করেন।

এমপিরা বলেন, বিষয়টি নিয়ে তাঁরা একাধিকবার সংসদে উত্থাপন করেছেন এবং ব্যক্তিগতভাবে মন্ত্রীকে ডিও লেটার (আধা সরকারি পত্র) দিয়েও তাঁরা সুরাহা পাননি। বারবার বলেও সমাধান না পাওয়ার কারণ জানতে চান তাঁরা। তবে সব প্রশ্নে প্রায় একই উত্তর দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। 

অবশ্য উপজেলার হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক ও নার্স সংকটের কথা স্বীকার করে প্রশ্নকারী এমপিদের নির্বাচনী এলাকার হাসপাতালে চিকিৎসকসহ জনবল পদায়নের আশ্বাস দেন। করোনার সময় দেশে ১০ হাজার চিকিৎসক, ১৫ হাজার নার্স ও টেকনিশিয়ান নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলেও মন্ত্রী উল্লেখ করেন। 

সংকট নিয়ে প্রথমে প্রশ্ন করেন সরকারি দলের শফিকুল ইসলাম শিমুল। সম্পূরক প্রশ্নে তাঁর নির্বাচনী এলাকা নাটোরে নলডাঙ্গা উপজেলায় একটি ৫০ শয্যার হাসপাতাল করলেও চিকিৎসক নিয়োগ হয়নি বলে জানান। জেলা সদর থেকে সেখানে চিকিৎসক পাঠিয়ে স্বাস্থ্য সেবা দেওয়া হলেও সেটা কষ্টসাধ্য হচ্ছে। বলেন, ‘ডিও লেটার দিয়ে আমি চিকিৎসক চেয়ে অনুরোধ করেছি। আজ জানতে চাই, সেখানে অনতিবিলম্বে চিকিৎসক দেওয়া হবে কি না।’ 

জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক করোনার সময় ১০ হাজার চিকিৎসক ও ১৫ হাজার নার্স নিয়োগের কথা জানান। বলেন, ‘আমাদের ডাক্তারের স্বল্পতা আছে। তারপরও আমরা ডাক্তার দিয়ে যাচ্ছি। ওনার ওখানে যদি ডাক্তার না দেওয়া হয় তাহলে অতিসত্বর ডাক্তার দেওয়ার ব্যবস্থা করব।’ 

নির্বাচনী এলাকায় চিকিৎসক-নার্সসহ জনবল সংকটের কথা তুলে ধরে সরকারি দলের এমপি শাজাহান খান বলেন, ‘জেলার আড়াইশ বেডের হাসপাতাল ৫০ বেডের জনবল দিয়ে চলছে। ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির একটি দশতলা ভবন তৈরি হয়ে আছে। সেখানে ভবন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কয়েকজন ঝাড়ুদার ইত্যাদি দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। ম্যাটস হয়েছে, সেখানে কোনো জনবল নেই। একটি নার্সিং ইনস্টিটিউট হয়েছে, সেখানেও কোনো জনবল নেই।’

আরও কয়েকটি হাসপাতালের জনবল সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এর আগেও আমি একই বিষয়ে কথা বলেছি। মন্ত্রী বলেছিলেন জনবল দেবেন কিন্তু এ পর্যন্ত জনবল পাইনি। কবে নাগাদ পাব? আর চিকিৎসকের যে সংকট-যে সংকট নিয়ে সবাই কথা বলছেন সেই ডাক্তার নিয়োগ দেবেন কি না?’ 

জনবলের কিছু ঘাটতির কথা স্বীকার করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। এখানেও তিনি করোনাকালে চিকিৎসক, নার্স ও টেকনিশিয়ান নিয়োগ এবং তাঁরা যে কোভিড চিকিৎসা দিয়েছেন সে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটগুলোতে তাঁদের দিতে পারিনি, এখন সেখানে পদায়ন করা হবে।’ 
 
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসনের তদারকি আছে কি না জানতে চান আওয়ামী লীগের এমপি ধীরেন্দ্র দেব নাথ শম্ভু। তিনি সম্পূরক প্রশ্নে বলেন, ‘সারা দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা অন্তত জেলার স্বাস্থ্য কীভাবে চলে, সেগুলো কী আপনার অধস্তনেরা আপনাদের অবহিত করেন? না কি?’ জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসকসহ জনবল সংকট এবং খাবারের মান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। ধীরেন্দ্র দেবনাথ বলেন, ‘হাসপাতালের সভাপতি বানিয়ে রাখছেন আমাদের, কিন্তু আমরা কোনো জবাব দিতে পারি না। এই বিষয়গুলো নিয়ে আপনি প্রশাসনিকভাবে অবহিত কি না দয়া করে বলুন।’

এসব প্রশ্নেও প্রায় একই ধরনের উত্তর দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। মাঠ প্রশাসনে তদারকি প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘আমরা সব জেলা উপজেলার হাসপাতালের সঙ্গে প্রতিনিয়ত ভিডিও কনফারেন্সে কথা বলি। আমাদের লোকজনও সশরীরে খোঁজখবর নিতে যান। কোভিডের মধ্যেও তাঁরা গিয়েছেন।’

জাতীয় পার্টির সংসদ সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদ সম্পূরক প্রশ্নে বলেন, ‘জেলা সদরগুলোতে আধুনিক হাসপাতাল হচ্ছে। আধুনিক ভৌত অবকাঠামো হচ্ছে। কিন্তু অভিজ্ঞ জনবল নেই। অ্যানেসথেটিস্ট নেই। যন্ত্রপাতি নিম্নমানের। অনেক জায়গায় চিকিৎসকের অভাবে নার্সরা অপারেশন করেন। উপজেলা হাসপাতালে রোগী গেলে তাঁদের জেলা হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। জেলা হাসপাতালে গেলে পাঠিয়ে দেওয়া হয় ঢাকায়।’

জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এখন আধুনিক এক্স-রে মেশিন দেওয়া হয়েছে। তবে অ্যানেসথেটিস্টের অভাব রয়েছে এটা সত্য। দীর্ঘ দিনের ঘাটতি পূরণের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

সম্পূরক প্রশ্ন করা সরকার দলীয় সংসদ জিল্লুল হাকিম, এস এম শাহাজাদা, বিএনপির দলীয় সংসদ হারুনুর রশীদ, জাতীয় পার্টির এমপি মসিউর রহমান রাঙা, শামীম হায়দার পাটোয়ারি এবং বিকল্প ধারার এমপি আবদুল মান্নানও তাঁদের প্রশ্নে নির্বাচনী এলাকায় চিকিৎসকসহ জনবল সংকট, চিকিৎসা সরঞ্জামের অপ্রতুলতার কথা বলেন।





Source link