জনগণের শক্তি নিয়েই পদ্মা সেতু করেছি: প্রধানমন্ত্রী

20



জনগণের শক্তিই বড় শক্তি। আমি সেটা বিশ্বাস করি। আর সে জন্যই পদ্মা সেতু করতে পেরেছি। শরীয়তপুরের জাজিরা পয়েন্টে পদ্মা সেতু উদ্বোধনের ফলক উন্মোচন শেষে জনসভায় বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আজ শনিবার দুপুর সোয়া ১টার পর সেখানে জনসভায় বক্তব্য শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। 

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই শরীয়তপুর কী ছিল? নদীপথ ছাড়া কিছুই ছিল না। লঞ্চে করে এসে লঞ্চ নষ্ট হয়ে গেছে। নৌকায় নৌকায় ঘুরেছি। এখন এখানে সড়কব্যবস্থা হয়েছে। পদ্মা সেতু হয়েছে।’

জনসভায় পদ্মা সেতু নিয়ে ষড়যন্ত্রের কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ড. ইউনুসের গ্রামীণ ব্যাংকের এমডি পদ বাতিল হয়েছে। তাই তিনি আমেরিকায় গিয়ে ষড়যন্ত্র করছেন। পদ্মা সেতুতে নাকি দুর্নীতি হয়েছে। সেতুর কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছিল। আমি ঘোষণা দিয়েছিলাম। নিজেদের টাকায় পদ্মা সেতু করব। আমরা সেটা করেছি।’ 

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমার পাশে আপনারা জনগণ ছিলেন। জনগণের শক্তিই বড়। আর তাই আমরা পদ্মা সেতু করতে পেরেছি।’ 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার ওয়াদা ছিল প্রত্যেক ঘরে আলো জ্বলবে। আজকে বাংলাদেশের প্রত্যেক ঘরে ঘরে আমরা বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছি। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলব বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম। আজকে ডিজিটাল বাংলাদেশ। সকলের হাতে মোবাইল ফোন। সকলে আজকে অনলাইনে কেনাবেচা করতে পারেন, সেই ব্যবস্থা আমরা করেছি। মানুষের জীবন জীবিকার ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। উন্নত জীবন যাতে সবাই পায় সেই ব্যবস্থা আমরা করব। বাংলাদেশের উন্নয়নের ধারাটা অব্যাহত রাখতে পেরেছি। এই একটা কারণে বাংলাদেশের জনগণ ভোট দিয়েছে। নির্বাচিত হয়েছি এবং এদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজ করে যাচ্ছি।’ 

আপনারা জানেন এই পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য সেই ২০০১ সালে ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেছিলাম। খালেদা জিয়া এসে তা বন্ধ করে দিয়েছিল জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ২০০৯ এ সরকারে এসে আবার পদ্মা সেতু নির্মাণকাজ শুরু করি। তখন তাঁরা কী বলেছিল? বলেছিল আওয়ামী লীগ কোনো দিনও নাকি পদ্মা সেতু করতে পারবে না। খালেদা জিয়াকে জিজ্ঞাসা করি আসুন-দেখে যান পদ্মা সেতু নির্মাণ হয়েছে কী না?’ 

আমাদের অনেক জ্ঞানীগুণী লোক ছিলো, অর্থনীতিবিদ-বড় বড় আমলা ছিলেন-সবাই বলেছেন নিজেদের টাকায় পদ্মা সেতু সম্ভব নয়। আজকে নিজেদের টাকায় কীভাবে করতে পারলাম? প্রশ্ন রাখেন প্রধানমন্ত্রী। 

উপস্থিত জনগণকে প্রশ্ন রেখে সরকার প্রধান আরও বলেন, ‘এই বাংলাদেশের জনগণ, আপনারা আমাকে সমর্থন দিয়েছেন। পাশে দাঁড়িয়েছেন। জনগণের শক্তি সব থেকে বড় শক্তি। কী বলেন আপনারা? সেটা বিশ্বাস করেন তো? জনগণের শক্তিই বড় শক্তি। আমি সেটাই বিশ্বাস করেছি।’ 

প্রধানমন্ত্রী এ সময় সবাইকে করোনার টিকা গ্রহণ ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান। 

সরকার সারা দেশে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছি উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা সারা দেশে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তুলছি। পদ্মা সেতু আমরা নির্মাণ করেছি। এখানেও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল হবে। শিল্প কল কারাখানা হবে। আমাদের ফসল উৎপাদন হবে। সেই ফসল আমরা প্রক্রিয়াজাত করতে পারব। দেশে-বিদেশে রপ্তানি করতে পারব। আমাদের মাছ প্রক্রিয়াজাতকরণ করে দেশে-বিদেশে রপ্তানি করতে পারব। বাংলাদেশের মানুষের দুঃখ ঘুচে যাবে। তাঁদের ভাগ্য পরিবর্তন হবে। অনন্ত ২১টি জেলার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হবে। সেটা আমরা করতে পারব। এ অঞ্চলের সার্বিক উন্নতি অর্থনৈতিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড হবে।’ 

সিলেটের বন্যার প্রসঙ্গ টেনে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বন্যার সঙ্গে আমাদের বসবাস। সিলেটে বন্যা হয়েছে। আমরা সেখানে ত্রাণ পাঠিয়েছি। এখন বর্ষাকাল। আমাদের এই অঞ্চলে বন্যা হতে পারে। এখন থেকে আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। আপনারাও প্রস্তুতি নেবেন। যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলার শক্তি বাংলাদেশ রাখে।’ 

জাজিরা প্রান্তে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী ফলক ও ম্যুরাল-২ উন্মোচন এবং মোনাজাত শেষে কাঁঠালবাড়ীর জনসভায় পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর আগে পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তে সুধী সমাবেশে স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধন ঘোষণা করেন তিনি। এরপর প্রধানমন্ত্রী টোল পরিশোধ করে পদ্মা সেতুতে ওঠেন। সেতুতে কিছু সময় দাঁড়িয়ে তিনি জাজিরায় যান।

দুপুর ২টা ৩৫ মিনিটে জনসভা শেষ করে শরীয়তপুরের জাজিরার সার্ভিস এরিয়া-২-এর উদ্দেশে সড়কপথে যাত্রা করবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে কিছু সময় অবস্থান করবেন। পরে জাজিরা প্রান্ত থেকে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার উদ্দেশে রওনা করবেন।

এর আগে আজ সকাল ১০টার দিকে মুন্সিগঞ্জের মাওয়ার অনুষ্ঠানে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর সফরসঙ্গীরা। সেখানে সুধী সমাবেশ শেষে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।





Source link