গরু মোটাতাজায় অনিয়ম যাচাইয়ে র‍্যাবের অভিযান

27


আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে পশুহাটগুলোতে আসা পশুর মধ্যে মোটাতাজাকরণ ওষুধ প্রয়োগ হয়েছে কি না, তা জানতে হাটে পশু চিকিৎসক ও ম্যাজিস্ট্রেট নিয়ে অভিযান চালাবে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। ঈদকেন্দ্রিক নিরাপত্তায় সার্বিকভাবে এরই মধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করার কথা জানিয়েছে বাহিনীটি। 

ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন, সড়কে চাঁদাবাজিসহ ফাঁকা ঢাকার নিরাপত্তায় যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় র‍্যাবের সকল ইউনিট সর্বাত্মকভাবে প্রস্তুত রয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর গাবতলি পশুহাটে গৃহীত নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যবেক্ষণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা জানান র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। 

র‍্যাব কর্মকর্তা বলেন, পবিত্র ঈদুল আজহা কেন্দ্রিক নিরাপত্তা কার্যক্রম কয়েক দিন আগে থেকেই শুরু করেছে র‍্যাব। পশুহাটকেন্দ্রিক এবং মানুষের বাড়ি ফেরা নির্বিঘ্ন করতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে গাবতলি পশুহাটে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে জানিয়ে খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘আমরা সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অনুরোধ করছি। করোনার ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ প্রতিরোধে আমরা সবার মধ্যে মাস্ক বিতরণ করছি।’ 

বিভিন্ন অসাধু ব্যবসায়ীরা হাটে আনা গরুর মধ্যে মোটাতাজাকরণ বিভিন্ন ওষুধ প্রয়োগ করেন। আমাদের ম্যাজিস্ট্রেট পশু ডাক্তারসহ অভিযান পরিচালনা করছে। তারা দেখছে, কেউ মোটাতাজাকরণ ওষুধ প্রয়োগ করেছে কি না? কোনো পশুকে ওষুধ খাইয়ে হাটে আনা হলেও পশুর চিকিৎসক বিষয়টি বুঝবেন। এমন কোনো ব্যবসায়ীকে পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান র‍্যাবের এই কর্মকর্তা। 

র‍্যাব কর্মকর্তা বলেন, ‘হাটকেন্দ্রীক জাল টাকার লেনদেন বৃদ্ধি পায়। আমাদের জাল টাকা শনাক্তকরণ মেশিন রয়েছে। সন্দেহ হলে আমাদের কাছে এসে যে কেউ মেশিনের মাধ্যমে টাকা যাচাই করে নিতে পারবেন।’ 

খন্দকার আল মঈন বলেন, ‘যারা বিভিন্ন জায়গা থেকে পশু নিয়ে এসেছেন আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তবে আসার পথে কোথাও কোনো ধরনের ডাকাতি বা চাঁদাবাজি হয়নি বলে জানিয়েছেন। তারপরেও আমরা আত্মতুষ্টিতে ভুগছি না। কোথাও এমন কোনো সম্ভাবনা থেকে থাকলে আমরা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’ 

কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বরদাশত করা হবে না জানিয়ে র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘অনলাইনে প্রচুর পশু কেনাবেচা হচ্ছে। তাই অনলাইনেও মনিটরিং করা হচ্ছে। গ্রাহক যেন কোনোভাবেই প্রতারিত না হয়। আমরা যে কোনো সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত রয়েছি।’ 

ঈদযাত্রার বিষয়ে খন্দকার মঈন বলেন, ‘বাস টার্মিনাল, ট্রেনস্টেশন ও লঞ্চ টার্মিনালগুলোতে র‍্যাবের টিম রয়েছে। এবার ট্রেনের টিকিটের কালোবাজারির দৌরাত্ম্য কম ছিল। এরপরেও কমলাপুর থেকে টিকিট কালোবাজারির দায়ে আমরা ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছি।’ রাস্তায় ছিনতাই-চাঁদাবাজি প্রতিরোধে র‍্যাব কাজ করছে বলেও জানান তিনি। 

যে কোনো উদ্ভূত পরিস্থিতি দেখলে র‍্যাবকে জানানোর আহ্বান জানিয়ে র‍্যাবের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমাদের গোয়েন্দারা মাঠে আছে। ঈদে রাজধানী শূন্য হয়ে পড়বে। এলাকাভিত্তিক জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলেছি। বাসাবাড়ির সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো যেন অ্যাকটিভ থাকে। যদি কেউ মনে করেন, তাহলে র‍্যাবের সাপোর্ট নিতে পারবেন। বিভিন্ন এলাকায় চেকপোস্ট স্থাপন করে তল্লাশি করা হচ্ছে, র‍্যাবের পেট্রল টিম কাজ করছে।’ র‍্যাবের সকল ইউনিট সর্বাত্মকভাবে যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। 





Source link