কয়েক বছর ধরেই খাদ্য শস্যের বাজার স্থিতিশীল: সংসদীয় কমিটি 

27


সরকারের পদক্ষেপের কারণে গত কয়েক বছর ধরে খাদ্য শস্যের বাজার মূল্য স্থিতিশীল রয়েছে বলে জানিয়েছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। আজ মঙ্গলবার সংসদ ভবনে খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিবেদনে এ দাবি করা হয়।
 
২০১৪ সালে মোটা চালের কেজি প্রতি জাতীয় গড় খুচরা মূল্য ৩৭.০৬ টাকা ছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ২০১৯ সালে তা কমে ২৯.২৯ টাকায় আসে বলে জানানো হয়। ২০২০ ও ২০২১ সালে হয় যথাক্রমে ৩৮.৪৪ টাকা ও ৪৩.২৭ টাকা। ২০২২ সালে কেজি প্রতি মূল্য ৪২.৯৮ টাকা।

দেশে কোনো খাদ্যঘাটতি নেই দাবি করে প্রতিবেদনে জানানো হয় ২০২০-২১ অর্থ বছরে ৩৭৬.০৮ লাখ মেট্রিক টন চাল ও ১০.৮৫ লাখ মেট্রিক টন গমসহ ৩৮৬.৯৩ লাখ মেট্রিক টন খাদ্য শস্য উৎপাদিত হয়।

উৎপাদনের পরিমাণ ওই সময়কার খাদ্য শস্যের চাহিদার তুলনায় বেশি ছিল বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়। প্রতিবেদনে সদ্য বিদায়ী ২০২১-২২ অর্থ বছরে খাদ্যশস্যের প্রাক্কলিত উৎপাদন ৪০১.৩৬ লাখ মেট্রিক টন (চাল ৩৮৯.১০ লাখ মেট্রিক টন ও গম ১২.২৬ মেট্রিক টন)। সদ্য বিদায়ী অর্থ বছরে উদ্বৃত্ত উৎপাদন হওয়ার কথা বলা হয় প্রতিবেদনে।
 
বিদায়ী ২০২১-২২ অর্থ বছরের ২৮ জুন পর্যন্ত সরকারিভাবে ৬.৮৪ লাখ মেট্রিক টন চাল ও ৫.৪২ লাখ মেট্রিক টন গম আমদানি করা হয় বলে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়। এ সময়ে বেসরকারিভাবে ৩.০৫ লাখ মেট্রিক টন চাল ও ৩৩.৪১ লাখ মেট্রিক টন গমসহ ৩৬.৪৬ মেট্রিক টন খাদ্য শস্য আমদানি করা হয়েছে।

 ২০২১-২২ অর্থ বছরের ২৩ জুন পর্যন্ত ওএমএস’র আওতায় ৪.৬৩২ লাখ মেট্রিক টন চাল ও ৪.২২ মেট্রিক টন গম বিতরণ করা হয়েছে। আগের অর্থ বছরে ১.২৮ লাখ মেট্রিক টন চাল ও ২.২৮ মেট্রিক টন গম বিতরণ করা হয়েছিল। খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির আওতায় ২০২১-২২ অর্থ বছরে ৭.৫০ লাখ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। গত অর্থ বছরে ছিল ৭.৪২ লাখ মেট্রিক টন।

ইউনিয়ন পর্যায়ে অতি দরিদ্রদের জন্য প্রতি কেজি চাল ১০ টাকা হারে বিতরণের কার্যক্রম অব্যাহত আছে বলে বৈঠকে জানানো হয়। সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয় ২০২১-২২ অর্থ-বছরে সেপ্টেম্বর হতে এপ্রিল পর্যন্ত ৭ লাখ ৫০ হাজার ৩৭ মে. টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। উপকারভোগী পরিবারের সংখ্যা বাড়িয়ে ৫০ লক্ষ হতে ৫০ লাখ ১০ হাজার ৫০৯ জনে উন্নীত করা হয়েছে।

বৈঠকে বাজার মনিটরিং এর কার্যক্রম যথাযথভাবে পরিচালনা করে খাদ্যদ্রব্যের মূল্য সহনশীল পর্যায়ে রাখার জন্য সকলের সহায়তা কামনা করা হয় বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

কমিটির সভাপতি দীপংকর তালুকদারের সভাপতিত্বে বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার, নুরুল ইসলাম নাহিদ এবং আয়েন উদ্দিন।





Source link