ক্ষমতাটা জনগণের সেবা করার সুযোগ: প্রধানমন্ত্রী

38


ভোগবিলাসে গা না ভাসিয়ে ক্ষমতা দেশের জনগণের সেবা করার সুযোগ বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘ক্ষমতাটা আমার কাছে বাংলাদেশের জনগণের সেবা করার একটা সুযোগ। এখানে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কোনো ভোগবিলাসে গা ভাসিয়ে দেওয়া নয়, বাংলাদেশের জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণ করবার এবং তাদের সেবা দেওয়ার একটা সুযোগ আমি মনে করি।’  

আজ সোমবার বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস্ অ্যান্ড সার্জনসের (বিসিপিএস) সুবর্ণজয়ন্তী ও সমাবর্তন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস্ অ্যান্ড সার্জনস মহাখালীতে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন। 

যথাযথ রোগ নির্ণয় করার জন্য চিকিৎসকদের গুরুত্ব দেওয়ার অনুরোধ করেন সরকার প্রধান। রোগীর আত্মবিশ্বাস সৃষ্টিতে চিকিৎসক বড় ভূমিকা পালন করে বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আপনারা মানুষের সেবা দেন। যখন একজন রোগী ডাক্তারের কাছে যায় তখন চিকিৎসা, ওষুধের থেকেও ডাক্তারের দুটো কথা সেটাও কিন্তু মানুষকে অনেক ক্ষেত্রে সুস্থ করে বা তাদের ভেতরে একটা আত্মবিশ্বাস সৃষ্টি করে। সেই বিষয়টার দিকেও একটু বিশেষভাবে দৃষ্টি দিতে হবে।’ 

চিকিৎসকদের মানবতাবোধ নিয়ে মানুষের পাশে থাকার অনুরোধ করেন শেখ হাসিনা। বলেন, ‘এটাই হচ্ছে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ। আমি মনে করি, সেখানেই সব থেকে আপনারা আরও সুখ পাবেন।’ 

রাজশাহী, সিলেট ও চট্টগ্রামে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। প্রত্যেকটি বিভাগে একটি করে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে বলে জানান তিনি। এছাড়াও দেশব্যাপী চিকিৎসা সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর জন্য সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন সরকার প্রধান। 

সরকার প্রধান বলেন, ‘সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজ যথেষ্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা সেটা নির্মাণ করে যাচ্ছি। কিন্তু সেই সঙ্গে লক্ষ্য রাখতে হবে চিকিৎসার মানটা ও রোগীর সেবাটা নিশ্চিত করতে হবে।’ 

সরকার সব সময় গবেষণার ওপর গুরুত্ব দিয়ে থাকে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। খাদ্য নিরাপত্তার জন্য অতীতে কৃষি গবেষণায় সরকারের বেশি বরাদ্দ দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবে, সরকার বিজ্ঞান ও স্বাস্থ্যসেবায় গবেষণায়ও বরাদ্দ দিয়েছে বলে জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য বিজ্ঞানে গবেষণা খুব বেশি প্রয়োজন। আশা করি এই ব্যাপারে আপনারা (চিকিৎসক) আরও বেশি মনোযোগী হবেন। কারণ আমাদের দেশের আবহাওয়া, জলবায়ু ও প্রকৃতির সঙ্গে অনেক রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়।’ এটা থেকে মুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের চিকিৎসকেরা বিদেশে গিয়ে এত ভালো করতে পারে, তো দেশে পারবে না কেন? সেটাই আমার প্রশ্ন।’ তারা এখানেও নিজেদের দক্ষতার পরিচয় দিতে পারেন। তাদের কাজে লাগানোর জন্য সরকারের ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন বলেও মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। এ ব্যাপারে সব রকমের সহযোগিতা করা হবে। 

সরকার প্রধান বলেন, ‘আমাদের দেশের অনেক মানুষ এখন আর্থিক সচ্ছল হয়ে গেছে, টাকাপয়সা হয়ে গেছে। একটু হাঁচি কাশি দিলেও তারা বিদেশে চলে যায়। একদিকে ভালো, তাতে আমাদের এখানে রোগীর চাপটা একটু কম পড়ে। কিন্তু কোভিড ১৯ সময় তো কেউ বিদেশে যেতে পারেনি।’ 

বিনা মূল্যে করোনার টিকা দেওয়ার কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। করোনা মহামারির সময়ে বিত্তশালীরা দেশেই চিকিৎসা নিয়েছেন জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের এই সমস্ত বিত্তশালীরা হঠাৎ যারা টাকা-পয়সা বানিয়ে বেশ ফুলেফেঁপে উঠেছেন, তারা বিদেশে যেতে পারেননি। কারণ তখন তো সব দরজা বন্ধ। 

শেখ হাসিনা বলেন, ‘এখানে অনেকেই এই মন্তব্য করেছেন যে বাংলাদেশেও যে এত সুন্দর হাসপাতাল আছে এটা তো আমরা কখনো দেখি নাই। জানতামই না। করোনা আমাদের একটা শিক্ষা দিয়েছে, আমাদের বিত্তশালীদের অন্ততপক্ষে আমাদের দেশেও যে আন্তর্জাতিক মানের সেবা দিতে পারে আমাদের ডাক্তার, নার্স। আমাদের ডাক্তাররাও যে এত দক্ষতা রাখে অন্তত এই শিক্ষাটা তারা পেয়েছেন।’ 

ক্যানসার-কিডনি রোগসহ বিভিন্ন অসংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধির কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, অসংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে ক্যানসার এবং কিডনি রোগটা যেন একটু বেশি প্রাদুর্ভাব হচ্ছে। এ সম্পর্কে মানুষ কীভাবে সচেতন থাকতে পারে সে বিষয়ে মানুষকে জানানো দরকার। পাশাপাশি এই চিকিৎসাটা যেন মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে পারে, আমরা প্রত্যেকটা বিভাগেই এ বিষয়ে হাসপাতাল তৈরি করা এবং সেবাটা দেওয়ার ব্যবস্থা আমরা করব। বিভিন্ন জেলা হাসপাতালগুলোতে কিডনি ডায়ালাইসিস এবং অন্যান্য, হার্টের চিকিৎসা এবং পরীক্ষা হয় সে পদক্ষেপ আমরা নিয়েছি। সে কার্যক্রম আমরা করে যাচ্ছি।’





Source link