কুমিল্লায় রাঘববোয়ালের কাছে ইসি আত্মসমর্পণ করেছে: সুজন

34


কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন চুনোপুঁটিদের বিষয়ে ব্যবস্থা নিলেও রাঘববোয়ালের কাছে নতজানু ও আত্মসমর্পণ করেছে বলে দাবি করেছে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, কুসিক নির্বাচনে দেখা গেছে, তারা (ইসি) আচরণবিধি কঠোরভাবে প্রয়োগ করেনি। 

আজ মঙ্গলবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) নসরুল হামিদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সুজন সম্পাদক এ কথা বলেন। কুসিক নির্বাচনের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের তথ্য বিশ্লেষণ করার জন্য এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়। 

সুজন সম্পাদক বলেন, আচরণবিধির ৩১ ও ৩২ ধারায় যে বিধান রয়েছে সেটা সংসদ সদস্যের (আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার) ব্যাপারে ইসি প্রয়োগ করেনি। কিন্তু তারা চুনোপুঁটির ব্যাপারে অনেক ক্ষেত্রে প্রার্থিতা বাতিল করেছে, অনেক কিছুই করেছে। রাঘববোয়ালের ক্ষেত্রে নতজানু হয়েছে এবং আত্মসমর্পণ করেছে। ইসি যদি আত্মসমর্পণ করে তাহলে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নাগরিকেরা যাবে কোথায়? 

প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনাররা অসংলগ্ন ও স্ববিরোধী বক্তব্য দিয়েছেন বলে দাবি করেন সুজন সম্পাদক। তিনি বলেন, ‘তারা সংসদ সদস্যকে নোটিশ দিয়েছেন কি না, নির্দেশ দিয়েছেন কি না, কিংবা দেননি, তারাও ব্যর্থ হয়েছে কি না, এ রকম অনেকগুলো কথা বলেছেন। বস্তুত এর মাধ্যমে ইসি শপথ ভঙ্গ করেছে বলে আমার আশঙ্কা। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ইসির শপথ নিতে হয়। আইন অনুযায়ী ও বিশ্বস্ততার সহিত কর্তব্য পালনের শপথ গ্রহণ করেন তারা। কিন্তু এখানে সেটা করেছেন কি না, সেটা আমাদের বড় প্রশ্ন। আশা করি, এটা তারা বিবেচনায় নেবেন।’

বদিউল আলম বলেন, আইন অনুযায়ী যে শপথ নিয়েছেন সেটা তারা সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করতে পারেননি। যদিও সংসদ সদস্য এ আইনের বিরুদ্ধে আদলতে গিয়েছেন। কিন্তু আইনতো বাতিল হয়নি। তারা বলেছেন কৌশলে তিনি (বাহার) প্রচারণা চালাচ্ছেন। তারপর তো তারা অসংলগ্ন কথা বলা শুরু করেছেন। সময়ক্ষেপণ নিয়ে অনেক প্রশ্ন সৃষ্টি হয়েছে।

কুসিক নির্বাচনে ইভিএম কাঠগড়ায় ছিল বলে উল্লেখ করেন সুজন সম্পাদক। তিনি বলেন, আগের মডেলের ইভিএমে ২০১২ সালে কুসিকে ৭৫ শতাংশ ভোটের হার ছিল। ব্যালট পেপারে অনুষ্ঠিত ২০১৭ সালের নির্বাচনে ৬৪ শতাংশ ভোট পড়েছে। আর ইভিএমে হয়েছে ৫৯ শতাংশ। এতে প্রমাণ হচ্ছে ভোট কমেছে। গণমাধ্যমে দেখেছি অনেকেই ভোট না দিতে পেরে বিরক্ত হয়ে চলে গেছেন। 

ইভিএমের কারণে কুসিকে সুষ্ঠু ভোট হওয়ার পরেও মানুষ ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়েছে বলে দাবি করেন সুজন সম্পাদক। তিনি বলেন, ‘যে যন্ত্র মানুষকে ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত করে, সেটা ব্যবহারের কোনো যৌক্তিকতা নেই। বলা হয় ইভিএমে সঙ্গে সঙ্গে ফলাফল আসার কথা, কিন্তু চারটি কেন্দ্রে চার ঘণ্টা পরে কেন ফলাফল আসল? আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত চায়। নাটকীয়তা হয়েছে তার অবসান হওয়া দরকার। এ জন্য ইসির একটা তদন্ত কমিশন করার দরকার।’ 

কুসিক নির্বাচন নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়েছে বলে জানান বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, ‘সেগুলোর সুরাহা হওয়া দরকার। আমরা দাবি করছি একটা তদন্ত কমিশন করার জন্য।’ 

ইভিএমে নির্বাচন কর্মকর্তার আঙুলের চাপ দিয়ে ভোট দেওয়ার ক্ষমতা আছে। এতে ফলাফল পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে জানিয়ে সুজন সম্পাদক বলেন, ‘নির্বাচনী কর্মকর্তারাও ডাকাতি করতে পারে। তবে, আমি তাদের ডাকাত বলছি না। প্রয়াত জামিলুর রেজা চৌধুরী ইসির কারিগরি কমিটির প্রধান ছিলেন, কিন্তু এই সুপারিশে তিনি সাক্ষর করেননি।’ অনেক দেশই ইভিএম ব্যবহার থেকে সরে এসেছে বলে জানান তিনি। 

জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার নিয়ে সুজনের বক্তব্য জানতে চাইলে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘ইভিএম নিকৃষ্ট যন্ত্র। ভোট দেওয়ার পরে ইসি যে তথ্য দেবে সেটাই মেনে নিতে হবে। এই কারণে এ ইভিএম গ্রহণযোগ্য না।’ ইসি ইভিএমের পক্ষে সাফাই গাওয়া শুরু করেছে বলে দাবি করে তিনি বলেন, ‘এটা কাঙ্ক্ষিত নয়।’ 

এ সময় সুজনের কেন্দ্রীয় সমন্বয়কারী দিলীপ কুমার সরকার বলেন, জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও তার জোটের কয়েকটা দল ছাড়া সবাই ইভিএমের বিপক্ষে। তাদের আস্থা ফিরিয়ে ও নির্বাচনে আনার পরিবেশ সৃষ্টির জন্য ইভিএম ব্যবহারের যৌক্তিকতা নেই। 

ইসির প্রথম পরীক্ষা অনেকগুলো প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে দাবি করে সুজনের নির্বাহী সদস্য অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, যে চারটি কেন্দ্রের ফলাফল নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, সেগুলোর ভোট যদি প্রিন্ট নেওয়া যেত, যেটা ভারতে রয়েছে। ওখানে কেউ অভিযোগ করলে ইভিএমের প্রতিটি ভোট প্রিন্ট আউট করে পুনর্গণনা করার সুযোগ রয়েছে। এটা বড় বিতর্ক। দশ আঙুলের চাপ বা চোখের আইরিশ ব্যবহার করার চিন্তা ইসি করতে পারে। তবে ব্যালটে ভোট দেওয়ার সুযোগ রাখার পক্ষে কথা বলেন। সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের বিষয়ে ইসি ফেল করেছে বলে মন্তব্য করেন সুজনের নির্বাহী সদস্য। 

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু গত ২৫ জুন চারটি কেন্দ্রের পুনর্ভোট চেয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর একটি আবেদন করেছেন। তবে এও সত্য যে, মনিরুল হক ঢালাওভাবে তাঁকে হারিয়ে দেওয়ার অভিযোগ করলেও, সবশেষ ঘোষিত ৪টি কেন্দ্রের ফলাফল জালিয়াতি করে তাঁকে হারিয়ে দেওয়া, এর সপক্ষে কোনো তথ্য প্রমাণ হাজির করতে পারেননি। এ ছাড়াও ২০১৭ সালের তুলনায় এ নির্বাচনে স্বল্প আয়কারী প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছেন। জিতেছেন টাকাওয়ালারা।





Source link