ঋণ ও বিল খেলাপি: ইসির প্রস্তাবে ‘সায় নেই’ ব্যাংক ও সেবাপ্রতিষ্ঠানের

41


নির্বাচনে প্রার্থিতা অযোগ্য করতে শুধু মামলার বিধান রাখার প্রস্তাব করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কিন্তু তাতে সাড়া দেননি ব্যাংকার ও সেবাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা। তাঁরা চান বর্তমান আইন অর্থাৎ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন (সিআইবি) তালিকাভুক্ত হলেই খেলাপি হিসেবে ভোটে অযোগ্য থাকবেন একজন প্রার্থী।

আজ সোমবার নির্বাচন ভবনে ঋণ ও বিল খেলাপিদের ছাড় দেওয়া নিয়ে আইনি সংস্কার বিষয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়ালসহ অন্য কমিশনাররা বৈঠকে বসেন। বৈঠকে ব্যাংক, সেবা প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশ ব্যাংক, অর্থ মন্ত্রণালয়, আইন মন্ত্রণালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষকসহ ১৪ ব্যক্তি অংশ নেন। 

বৈঠক শেষে সিইসি জানান, ইসির দেওয়া প্রস্তাবে ব্যাংক ও সেবাপ্রতিষ্ঠানের কর্তারা ‘কমফোর্ট ফিল’ করেন না। 

ব্যাংক ও সেবা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা বলেছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরোর (সিআইবি) তালিকাভুক্ত হলেই খেলাপি হিসেবে ভোটে অযোগ্য থাকবেন। সে ক্ষেত্রে বিদ্যমান গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) বিধানই বহাল রাখতে হবে। 

সভা শেষে সিইসি কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেন, ‘অধিকাংশরাই বলেছেন, ব্যাংক ঋণের ক্ষেত্রে এখন যে বিধান রয়েছে তা থাকলেই ভালো হয়। আমরা যেটা প্রস্তাব করেছিলাম—এটাতে তাঁরা খুব কমফোর্টেবল ফিল করেন না।’ আরও একটু চিন্তা করে ‘আরপিও সংশোধন করা হবে কিনা’ তা পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি। 

আরপিও অনুযায়ী, ঋণ ও বিল খেলাপিরা সংসদ নির্বাচনের ভোটে অযোগ্য। এ ক্ষেত্রে মনোনয়নপত্র জমার নির্ধারিত সময়ে পুনঃতফসিলের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সময় সিআইবি প্রতিবেদনে যারা খেলাপি হন তাঁরা আর অংশ নিতে পারেন না। 

কমিশন প্রস্তাব দিয়েছিল—সিআইবি প্রতিবেদন নয়, শুধু মামলা হলেই তাঁকে ভোটে অযোগ্য করার বিধান করা যেতে পারে। সিইসির মতে, ব্যাংকের ঋণ কীভাবে আদায় করতে হবে তা ব্যাংকের ইন্টারনাল বিষয়, তাঁদের নির্ধারণ করতে হবে। বিল কীভাবে আদায় হবে তা নির্ধারণ করতে হবে। বিদ্যমান সমাজ ব্যবস্থায় তাঁরা শক্তিশালী, ঋণ খেলাপি ও বিল খেলাপি হয়ে তাঁরা পরিশোধ না করেও পারবে। কিন্তু সাধারণ মানুষের জন্য জটিল হয়। 
 
কাজী হাবিবুল আউয়াল জানান, বর্তমান বিধানে সত্যিকারের যারা খেলাপি নন তাঁরা অযোগ্য হয়ে পড়তে পারে। ভোটে দাঁড়ানো মৌলিক অধিকার। তাতে যেনতেনভাবে কারও অধিকার খর্ব না করার জন্য ভিন্ন চিন্তা করেছে ইসি। 

বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সিইসি বলেন, ‘আমরা একটা প্রস্তাব করেছিলাম-স্পিরিটটাকে স্পষ্ট করার জন্য। ঋণ ও বিল আদায়ের জন্য যাদের বিরুদ্ধে মামলা করবে কোর্টে তাঁদের আমরা গণ্য করব ঋণখেলাপি হিসেবে।’ 
 
তিনি জানান, সভায় ব্যাংকাররা আগের বিধানটা কমফোর্টেবল বলছেন। সিআইবি থেকে যে তালিকা সরবরাহ করা হয়, তার ভিত্তিতে খেলাপি নির্ধারিত হয়ে থাকে। মামলা করার বিষয়টি যুক্ত করতে চাইলে তাঁদের আপত্তি নেই। 
 
যা বললেন ব্যাংক ও সেবা প্রতিষ্ঠান প্রতিনিধিরা
পূবালী ব্যাংকের জেনারেল ম্যানেজার দেওয়ান রুহুল আহসান বলেন, ‘ব্যাংকের পক্ষ থেকে সিআইবি রিপোর্টকে প্রাধান্য দিতে বলেছি আমরা। সেই সঙ্গে প্রচলিত আইন যদি সংশোধন করতে চায় তাহলে ওই অংশটি (মামলা) যুক্ত করতে পারে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মামলা করতে অসুবিধা নেই। মামলা তো করা হয়। সিআইবিতে যাদের নাম থাকবে তাঁদের ঋণখেলাপি বলতে হবে। মামলা করতে অনেকগুলো ধাপ থাকে। সময় সাপেক্ষ ব্যাপার।’ 

ইসির প্রস্তাবে ব্যাংক রাজি কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা অবজারভেশন দিয়েছি। সিআইবি তে যা আছে তা থাকবে। মামলার কথা রাখতে চাইলে পাশাপাশি বিদ্যমান বিধানও রাখতে হবে।’ 

ডেসকোর চিফ ইঞ্জিনিয়ার রশিদুর রহমান জানান, ‘বিল খেলাপিদের বিরুদ্ধে মামলা করার বিধানে তাঁদের সম্মতি নেই। সে ক্ষেত্রে বিদ্যমান বিধানই বহাল রাখার পক্ষে তাঁরা মতামত দিয়েছেন।’ নির্ধারিত সময়ে বিল পরিশোধ না করলেই বিল খেলাপি হয়ে যায় সংশ্লিষ্টরা। বিষয়টি গ্রাহককে জানানো হয়। কিন্তু মামলা করতে গেলে সেবা প্রতিষ্ঠানের নানা ঝুঁকিও রয়েছে বলে মনে করেন তিনি। 

রশিদুর রহমান বলেন, ইসির প্রস্তাবের পর আমাদের মতামতটা জানিয়েছি। রাখবেন কি রাখবেন না তা তাঁদের বিষয়। বিদ্যমান আইনই থাকুক। মামলাতে আমাদের সম্মতি ছিল না।





Source link