অর্থমন্ত্রী টাকা পাচারকে ভালো কাজ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন: সংসদে জিএম কাদের

14


বাজেটে কর দেওয়ার মাধ্যমে পাচার করা টাকা ফেরতের সুযোগ দেওয়ার মাধ্যমে অর্থমন্ত্রী টাকা পাচারকে ভালো কাজ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপনেতা জিএম কাদের।

তিনি বলেছেন, ‘অর্থমন্ত্রী সব সময় অর্থপাচার অস্বীকার করতেন। কিন্তু পাচারকে কেবল স্বীকৃতি দেননি, ভালো কাজ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন!’ 

আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে এসব কথা বলেন জিএম কাদের। 

কর প্রদানের মাধ্যমে পাচার করা টাকা বৈধ করতে বাজেট প্রস্তাব রাখার সমালোচনা করে জিএম কাদের বলেন, ‘কর দিলেই অবৈধ অর্থ বৈধ হয়ে যাবে—এটা থেকে তো দুষ্টের দমন আর শিষ্টের পালন হচ্ছে না, বরং দুষ্টের পালন ও শিষ্টের দমন হচ্ছে। এটা সুশাসন বিরোধী। আমরা কখনো সমর্থন করতে পারি না। আমি মনে করি, অর্থ পাচারকারীরা কেউ ফেরত আনবে না। বরং পাচার যাতে না হয় এবং পাচারকারীদের শাস্তির আওতায় আনা হবে সঠিক কাজ।’ 

প্রস্তাবিত বাজেট গতানুগতিক ও উচ্চভিলাসী মন্তব্য করে জাপার চেয়ারম্যান বলেন, ‘বাজেটের সব খাতে ব্যয় বেড়েছে কিন্তু কোনো দর্শন চোখে পড়েনি। করোনা ও ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক মন্দা পরিস্থিতিতে এই বড় বাজেট অস্বাভাবিক। আমার মনে হয় না উন্নয়ন বাজেট বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে তা সম্ভব হবে বলে মনে হয় না বরং এটি আরো বাড়তে পারে।’ লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি। 

দেশে বৈদেশিক রিজার্ভ দিনকে দিন কমছে দাবি করে জিএম কাদের বলেন, ‘বর্তমান সরকারি ঋণের পরিমাণ ১৩ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকা। জিডিপির ৩৪ শতাংশের মতো। মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ ৭৯ হাজার ১০৩ টাকা। বাজেট শেষে ঋণের পরিমাণ দাঁড়াবে ১৬ লাখ ৯ হাজার ৭৯২ কোটি টাকা। মাথাপিছু ঋণ হবে ৯২ হাজার ৬৬২ টাকা। মাথাপিছু বৈদেশিক ঋণ দাঁড়াবে ৩৫ হাজার ২৯৩ টাকা এবং দেশীয় ঋণ ৫৭ হাজার ৩৬৮ টাকা।’ 

এ সময় সংসদ সদস্যদের অবসর ভাতা চালু করার দাবি করেন জিএম কাদের। 





Source link