সাবিনাদের সাফল্যের রেশ থাকতেই জিতলেন জামালরাও

17


নারী ফুটবলারদের সাফ সাফল্যের আলোয় এক প্রকার ঢাকাই পড়ে গিয়েছিল ছেলেদের জাতীয় ফুটবল দল। আজ কম্বোডিয়ার বিপক্ষে জামাল ভূঁইয়াদের ম্যাচ নিয়ে আলোচনাও ছিল না খুব একটা। প্রতিপক্ষের মাঠে, তাদের দর্শকের সামনে দারুণ এক জয়ে জামালরা দেশের ফুটবলের বর্তমান ‘বসন্ত’কে আরও সার্থক করে তুললেন।

কম্বোডিয়ার মরোডোক টেকো ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে ফিফার প্রীতি ম্যাচে আজ স্বাগতিকদের বিপক্ষে ১-০ গোলে জিতেছে বাংলাদেশ দল। দলের জয় সূচক গোলটি এসেছে উইঙ্গার রাকিব হোসেনের পা থেকে। এই জয়ে র‍্যাঙ্কিংয়ে ১৮ ধাপ এগিয়ে থাকা কম্বোডিয়ার বিপক্ষে নিজেদের অজেয় থাকার রেকর্ডটা আরেক ম্যাচ পর্যন্ত বাড়িয়ে নিল লাল-সবুজের দল।

এই জয়ে ১০ মাস পর আন্তর্জাতিক ফুটবলে জয়ের দেখা পেল বাংলাদেশ। গত বছর ১৩ নভেম্বর সবশেষ মালদ্বীপের বিপক্ষে ২-১ গোলে জিতেছিলেন জামালরা। স্প্যানিশ কোচ হাভিয়ের কাবরেরার অধীনেও এটি বাংলাদেশের প্রথম জয়। জানুয়ারিতে দায়িত্ব পাওয়া কাবরেরার অধীনে আগের ছয় ম্যাচে দুই ড্র পেয়েছিল ম্যাচে। ১১ মাস চুক্তির শেষ ভাগে এসে জাতীয় দলের কোচ হিসেবে প্রথম জয় পেলেন বার্সেলোনা একাডেমির সাবেক এই কোচ।

কম্বোডিয়ার বিপক্ষে আগের চার দেখার তিনটিতেই জয় পেয়েছিল বাংলাদেশ। র‍্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থাকলেও আশিয়ান দেশটির বিপক্ষে জয়টাই ছিল প্রত্যাশার। জয় খরা কাটিয়ে উঠতে চেনা প্রতিপক্ষের বিপক্ষেই জ্বলে উঠলেন ফুটবলার।

ম্যাচে আজ দুই দলের খেলায় বেশি খুব আক্রমণ দেখা গেছে, তা বলা যাবে না। অল্প সুযোগের ভিড়ে গোল তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। ১৪ মিনিটের মাথায় গোলের দারুণ এক সুযোগ নষ্ট করেন অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। বিশ্বনাথের লম্বা থ্রো থেকে জামালের আলতো ছোঁয়া পোস্টে থাকলেই এগিয়ে যেতে পারত বাংলাদেশ।

১৯ মিনিটে দারুণ এক সেভে দলকে রক্ষা করেন গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকো। বক্সের বাইরে থেকে মিডফিল্ডার সিন কাকাদার দূরপাল্লার শট ফিস্টে ঠেকান জিকো। ২৩ মিনিটে দারুণ এক ফিনিশিংয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন ফরোয়ার্ড রাকিব হোসেন। মাঝমাঠ থেকে দৌড়ে এসে বক্সের বাইরে রাকিবকে দারুণ এক বল বাড়ান মতিন মিয়া। তাঁর রক্ষণচেরা পাসে ডান পায়ের শটে বাঁ পোস্ট দিয়ে বল জালে পাঠান রাকিব।

দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর ঠিক আগ মুহূর্তে অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়াকে তুলে কোচ হাভিয়ের কাবরেরা। তাঁর বদলি হিসেবে মাঠে নামেন মিডফিল্ডার সোহেল রানা।পিছিয়ে পড়ে সমতা ফেরাতে এরপর একের পর এক আক্রমণ করে গেছে কম্বোডিয়া। তবে গোলরক্ষক জিকোর কল্যাণে সব আক্রমণেই ব্যর্থ। বল দখলে পিছিয়ে থাকলেও ৭৫ মিনিটে ভালো একটি সুযোগ পেয়েছিলেন মতিন মিয়া। প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে তাঁর জোরালো এক শট প্রতিহত হয় ক্রসবারে। পরের মিনিটে সুযোগ এসেছিল কম্বোডিয়ার সামনেও। বাংলাদেশ বক্সের ভেতর কম্বোডিয়ান মিডফিল্ডার নিকোলাস টেলরের হেডে বল আটকে যায় জিকোর গ্লাভসে।

বাকি সময়ে কোনো দলই বলার মতো আক্রমণ করতে না পারায় স্বস্তির জয় পেয়েছে ১৯২ র‍্যাঙ্কিংয়ে থাকা বাংলাদেশ। ২৭ সেপ্টেম্বর নেপালে গিয়ে আরেকটি প্রীতি ম্যাচ খেলবেন জামালরা।





Source link