ভয়ংকর সমুদ্রযাত্রায় অসুস্থ ক্রিকেটাররা, ব্যাখ্যা দিল বিসিবি

17


সেন্ট লুসিয়া থেকে ফেরিতে সমুদ্রযাত্রায় ভয়ংকর অভিজ্ঞতা হয়েছে বাংলাদেশ দলের। সমুদ্রযাত্রার মাঝপথেই অসুস্থ হয়ে পড়েন অনেক ক্রিকেটার। সবচেয়ে বেশি খারাপ অবস্থা দেখা যায় পেসার শরীফুল ইসলাম, উইকেটকিপার ব্যাটার নুরুল হাসান সোহানের। তাঁদের অবস্থা অন্যদেরও আতঙ্কিত করে তোলে। 

সমুদ্রে বিশাল ঢেউয়ে অসুস্থ হয়ে বমি করতে দেখা যায় কাউকে কাউকে। যদিও শেষ পর্যন্ত পাঁচ ঘণ্টার সমুদ্রযাত্রা শেষে ডমিনিকা পৌঁছেছে বাংলাদেশ। তবে আগামীকাল শনিবার সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টির আগে এই ধকল কীভাবে কাটিয়ে ওঠে ক্রিকেটাররা, সেটা প্রশ্ন থাকছে। এমনিতে এই সমুদ্রযাত্রা নিয়ে ক্রিকেটারদের মধ্যে ভয় আগে থেকেই ছিল। বাংলাদেশ দলের ক্রিকেটারদের কারোই যে সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল না। 

বাংলাদেশ দলের এই ভয়ংকর এই সমুদ্রযাত্রা নিয়ে এরই মধ্যে আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দীন চৌধুরীর কাছে জানতে চাইলে আজকের পত্রিকাকে তিনি সবিস্তারে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, কেন ক্রিকেট বোর্ড এমন ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রযাত্রায় রাজি হয়েছে। বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার ব্যাখ্যা পুরোটাই এখানে থাকল।

সমুদ্রযাত্রার শুরুর এই প্রাণোচ্ছল মুখগুলোই পরে বিষণ্ন ভর করেছিল। ছবি: সংগৃহীত

সেন্ট লুসিয়া থেকে ডমিনিকার সমুদ্রযাত্রার অভিজ্ঞতা ভয়ংকর হয়েছে…।
নিজাম উদ্দিন চৌধুরী:  ভয় পাওয়ার মতোই বিষয়। আবাহাওয়া খারাপ থাকার কারণে এটা হয়েছে। নির্ধারিত সূচি থাকার কারণে এটা আর ছাড়তে দেরি করেনি। আর ছাড়ার পর যখন এমন আবহাওয়ার মধ্যে পড়েছে, তখন আর কিছু করার ছিল না। করার ছিল না বলতে, আমাদের অনেক খেলোয়াড়ের এ ধরনের ভ্রমণে অভ্যস্ত নয়। ওদের খেলোয়াড়েরা অভ্যস্ত বলে তাদের তেমন সমস্যা হয়নি। দলের ফিজিওর সঙ্গে কথা বলেছি, যে তিন-চারজন অসুস্থ হয়েছে, তাদের অনেকেই এরই মধ্যে সুস্থ হয়ে গেছে। শুনলাম একটু বিশ্রাম নিলেই ঠিক হয়ে যাবে। আসলে রওনা দিতে হয়েছে ভোর রাতে। রাতের ঘুম না হওয়ায় একটু খারাপ লাগা কাজ করেই। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে খারাপ আবহাওয়া।
 
বিষয়টি শোনার সঙ্গে সঙ্গে আপনাদের উদ্যোগ কী ছিল? 
নিজাম উদ্দিন চৌধুরী: দ্রুতই ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রধান নির্বাহীর সঙ্গে যোগাযোগ করি। তাকে বলি, আমাদের খেলোয়াড়দের যেন (মধ্যবর্তী দ্বীপ) মার্টিনেকে নামিয়ে রাখা হয়। সে বলল, ওখানে রাখা যাবে না। ওটা ফ্রেঞ্চ উপনিবেশ। ওখানে নামতে হলে ফ্রান্সের ভিসা লাগবে। সেটা তোমাদের নেই। তখন বুঝলাম এ ছাড়া আমাদের কোনো উপায় নেই। দল পৌঁছানোর পর আমাকে সে ভিডিও পাঠিয়ে জানাল দল নিরাপদে পৌঁছেছে। জেনেছি, যাত্রার পরের অংশে (মার্টিনেক থেকে ডমিনিকা) আর সমস্যা হয়নি। প্রথম অংশেই বেশি সমস্যা হয়েছে। এটার ভোগান্তি আমাদের জন্য একটু বেশি হয়ে গেছে। 

সবচেয়ে বেশি খারাপ অবস্থা হয়েছিল পেসার শরীফুল ইসলামের। ছবি: সংগৃহীত প্রশ্ন উঠেছে, বিসিবি কেন এ ধরনের ভ্রমণে রাজি হলো। ওখানে কি বিমানযাত্রার সুযোগ ছিল না? 
নিজাম উদ্দিন চৌধুরী: ওরা ফেরিতে ভ্রমণ করার প্রস্তাব দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে যে আমরা রাজি হয়েছি, তা নয়। ওরা যখন জানাল আর বিকল্প নেই, তখন তাদের (ব্যবস্থার) ওপর নির্ভর করতে হবে। এই ফেরিতে প্রায় ২৫০ জনের বহর গেছে। কোভিডের কারণে বড় ফ্লাইট বন্ধ হয়ে গেছে ওখানে। অনেক এয়ারলাইনস বন্ধ হয়ে গেছে। ফ্লাইট কমে গেছে। বড় বিমান ভাড়া করা যাচ্ছে না। আর সব দ্বীপের ব্যবস্থা একও নয়। ৩০-৩৫ জনের ছোট ছোট ফ্লাইট ছিল (সেন্ট লুসিয়া থেকে ডমিনিকা)। ওরা যখন আমাদের জানিয়েছিল যেহেতু দুই দল এক সঙ্গে যাবে, ম্যাচ অফিশিয়ালসহ সম্প্রচারের দায়িত্বে থাকা সবাই এক সঙ্গে এভাবে ভ্রমণ করবে, তখন আমরা এটা নিয়ে আপত্তি করিনি। এখানে আমরা দেখেছিলাম, এটা নিয়মিত ফেরি বা চলাচলের যান কি না। তারা নিশ্চিত করেছিল, এটা নিয়মিত নৌযান। আমাদের ছবিও পাঠিয়েছিল। হ্যাঁ আমাদের চিন্তার বিষয় ছিল। তবে আয়োজক বোর্ডের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করতে হয়।





Source link