‘বিশ্বকাপ প্রস্তুতির মঞ্চে’ হঠাৎ অচেনা ফ্রান্স

17


সর্বশেষ রাশিয়া বিশ্বকাপের দুই ফাইনালিস্ট, বাবার মৃত্যুশোক ভুলে দিদিয়ের দেশমের ডাগআউটে ফেরা, ক্রোয়েশিয়ার প্রথম ও আন্তর্জাতিক ফুটবল ইতিহাসের ৩৫ তম খেলোয়াড় হিসেবে লুকা মদরিচের ১৫০ তম ম্যাচ খেলতে নামা—এক ম্যাচে কত উপলক্ষ! 

তবে সব ছাপিয়ে মদরিচের বিশেষ ম্যাচের ফলটাই হয়ে রয়েছে মুখ্য। নিজেদের মাঠে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে ১-১ গোলে রুখে দিয়ে ক্রোয়েশিয়া। 

ঠাসা সূচিতে ক্লাব ফুটবলের মৌসুম শেষ হতে না হতেই এসে হাজির আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট। উয়েফা নেশনস লিগে যেন সেই ধকল জেঁকে বসেছে খেলোয়াড়দের শরীর ও মনে। ক্লান্তির ছাপ তাই স্পষ্ট ফুটে উঠেছে গত বিশ্বকাপের দুই ফাইনালিস্টের দ্বৈরথে।

শেষ দিকে অবশ্য লড়াই কিছুটা জমে উঠেছিল। সমতা টেনে ফ্রান্সের বিপক্ষে প্রথম জয়ের কিছুটা আশাও জাগিয়েছিল ক্রোয়েশিয়া। অধিনায়ক মদরিচকে অবশ্য জয় উপহার দিতে পারেননি সতীর্থরা। তবে ১১ বছর পর ফরাসিদের রুখে দেওয়াই বা কম কী!

স্প্লিতের পোদিউদ স্টেডিয়ামে গত রাতে আদ্রিয়ান রাবিওর গোলে ফ্রান্স এগিয়ে যাওয়ার পর শেষ দিকে পেনাল্টি থেকে সমতা টানেন আন্দ্রেই ক্রামারিচ। 

দল দুটির ৯ বারের লড়াই এ নিয়ে তৃতীয়বার অমীমাংসিত রইল। বাকি ৬টি ম্যাচ জিতেছে ফান্স। তবে নেশনস লিগের শিরোপা ধরে রাখার অভিযানে নামা ফরাসিরা দুটি ম্যাচেই জিততে ব্যর্থ হলো। ডেনমার্কের বিপক্ষে প্যারিসে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ২-১ গোলে হেরেছিল তারা। 

১১ দিনের মধ‍্যে দলগুলোকে খেলতে হবে চারটি ম্যাচ। খেলোয়াড়দের বিশ্রাম দিতে কাল শুরুর একাদশে দশ-দশটি পরিবর্তন এনেছেন ফরাসি কোচ দেশম। ছিলেন না আক্রমণভাগের প্রধান দুই অস্ত্র করিম বেনজেমা ও কিলিয়ান এমবাপ্পে। আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচে হেরেছে ক্রোয়েশিয়াও। ওই ম্যাচের দলের ছয়জনকে বিশ্রাম দিয়েছেন ক্রোয়েট কোচ জ্লাতকো দালিচ। 

এ ড্রয়ের পর ‘এ’ লিগের ১ নম্বর গ্রুপে ফ্রান্স ও ক্রোয়েশিয়ার পয়েন্ট ১ করে। দুটি করে ম্যাচ খেলেছে তারা। গ্রুপের শীর্ষে রয়েছে ডেনমার্ক, দুইয়ে অস্ট্রিয়া। 

ডেনমার্কের কাছে হারের পর ক্রোয়েশিয়াতেও পয়েন্ট খোয়ানোয় অসন্তুষ্ট হওয়ার কথা দেশমের। ফ্রান্সকে বিশ্বকাপ জেতানো কোচ ম্যাচ শেষে অতৃপ্তির বিষয়টি প্রকাশও করেছেন, ‘দলে পরিবর্তন এনে খারাপ কিছু করিনি। যারা টানা খেলে যাচ্ছে, তাদের বিশ্রামের দরকার ছিল। ম্যাচে আমরা এগিয়ে ছিলাম। আরও কয়েকটি গোল হতে পারত। উল্টো সমতাসূচক গোল উপহার দিয়েছি। ব্যাপারটা ওদের প্রতি দরদ দেখানোর মতো মনে হয়েছে।’ 

জিততে ব্যর্থ হলেও চিন্তিত নন দেশম। নেশনস লিগকে তিনি দেখছেন বিশ্বকাপ প্রস্তুতির মঞ্চ হিসেবে, ‘ওরা দ্বিতীয়ার্ধে একটুখানি হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছেন। সব মিলিয়ে আমাদের পারফরম্যান্স ছিল সুসঙ্গত। একটি প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ হিসেবে ফলটা যদিও সন্তোষজনক নয়। তবে এখান থেকে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নেওয়াই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।’ 





Source link