দেশের হয়ে খেলতে মরতেও রাজি ছিলেন মানে

24


দেশের হয়ে খেলার জন্য নাকি আক্ষরিক অর্থেই জীবন বাজি রাখতে চেয়েছিলেন সাদিও মানে। আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ খেলতে ‘ডেথ কন্ট্রাক্ট’-এ স্বাক্ষরও করতে চেয়েছিলেন তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ফ্রান্সের সংবাদমাধ্যম প্রো ডিরেক্ট সকারকে এ কথা জানিয়েছেন মানে। 

আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের এক ম্যাচে মাথায় আঘাত পেয়েছিলেন মানে। ম্যাচটি ছিল লিগের দ্বিতীয় রাউন্ডের কেপ ভার্দের বিপক্ষে। তাঁর আঘাতটি ছিল খুবই গুরুতর। ফলে ‘কনকাশন’ টেস্টও করা হয়েছিল। মানের সাবেক ক্লাব লিভারপুল সেনেগাল ফেডারেশনের কাছে অনুরোধ করেছিল তাঁকে যেন পাঁচ দিন বিশ্রামে রাখা হয়। সেনেগালের চিকিৎসকরাও তাঁকে পরের ম্যাচে না খেলানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু মানে কোয়ার্টার ফাইনাল ম্যাচ খেলতে এতটাই প্রত্যয়ী ছিলেন প্রয়োজনে ‘ডেথ কন্ট্রাক্ট’-এ স্বাক্ষর করতে চেয়েছিলেন। ম্যাচে যদি তাঁর মৃত্যু হয় সেটার দায় তাঁর হবে এমনটি জানিয়েছিলেন সেনেগাল ফেডারেশনকে। 

মানেকে অবশ্য পরে সেই চুক্তি করতে হয়নি। তিনি চুক্তি ছাড়াই কোয়ার্টার ফাইনালের ম্যাচ খেলেছিলেন। পরে সেনেগালকে আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের চ্যাম্পিয়নও করেছেন। সেদিনের ঘটনা নিয়ে বায়ার্ন মিউনিখের এই ফুটবলার বলেছেন, ‘কেপ ভার্দের বিপক্ষে চোট পাওয়ার দিন কোনো কথা বলিনি। সাবেক ক্লাব লিভারপুল ফেডারেশনও ফিফাকে চিঠি দিয়ে চাপ দিচ্ছিল যেন আমাকে পাঁচ দিন বিশ্রামে রাখা হয়। যার অর্থ কোয়ার্টার ফাইনাল খেলতে না পারা।’ 

আফ্রিকান কাপ অব নেশনসের শিরোপা হাতে মানে। ছবি: সংগৃহীত। 

মানে কোচ ও চিকিৎসকদের কাছে প্রত্যাখ্যান হওয়ার পর দেশের ফেডারেশনের সভাপতির কাছেও গিয়েছিলেন। তবে কোনো লাভ হয়নি। মানে সাক্ষাৎকারে বলেছেন, কিছুটা ভয় পেয়েছিলাম কিন্তু না খেলার সিদ্ধান্ত কখনো নিইনি। তিনি বলেছেন, ‘জানতাম খেলা উচিত নয়। তবুও খেলার জন্য একটা চুক্তি করতে চাইছিলাম। যদি আমার মৃত্যু হয় সেটা আমার জন্য হবে। এর জন্য কেউ দায়ী থাকবে না। কিন্তু তাঁরা আমাকে বলে তুমি খেলতে পারবে না। তখন আমি বলি না, এটা প্রশ্নের বাইরে।’ 

পরে চিকিৎসকেরা মানেকে একটা বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছিলেন। প্রস্তাবটি ছিল ম্যাচের দিন একটা টেস্ট করানো। টেস্টে কোনো সমস্যা না পাওয়ায় মানে কোয়ার্টার ফাইনালে ৯০ মিনিটেই খেলেছিলেন।





Source link