কোর্তায়াকে মনে করিয়ে দিলেন বাংলার  জিকো

27


ইন্দোনেশিয়াকে তাদের মাটিতে জয় বঞ্চিত রাখতে হলে অবিশ্বাস্যই কিছু করতে হত। নবীন আক্রমণভাগ, চোটে কাবু রক্ষণ। বাংলাদেশ দলটাকে বলা হচ্ছিল সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে দুর্বল দল।  র‍্যাঙ্কিংয়ে ২৯ ধাপ এগিয়ে থাকা প্রতিপক্ষের বিপক্ষে কাউকে নিজের সেরাটা দিতেই হত। আর সেই সেরাটা ঢাললেন বাংলাদেশ গোলরক্ষক আনিসুর রহমান জিকো।

বান্দুংয়ের জালাক হারুপাত স্টেডিয়ামে জিকো মনে করালেন বেলজিয়ান গোলরক্ষক থিবো কোর্তোয়াকে। তিন দিন আগে প্যারিসের চ্যাম্পিয়নস লিগ ফাইনালে লিভারপুলকে একাই ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন রিয়াল মাদ্রিদ গোলরক্ষক, করেছিলেন নয় সেভ। কোর্তোয়ার দেয়ালে যেমন ছিদ্র করতে পারেনি লিভারপুল তেমনি জিকোকে আজ হারাতে পারেনি ইন্দোনেশিয়া।

ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে আগের ছয় দেখার চারটিতে হেরেছিল বাংলাদেশ। একমাত্র জয়টি এসেছিল ১৯৮৫ সালে ঢাকার মাটিতে, বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে। সেই বছরই পাকিস্তানের কায়েদ-ই- আজম ট্রফিতে ইন্দোনেশিয়াকে ঠেকিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ। দীর্ঘ ৩৭ বছর পর র‍্যাঙ্কিংয়ে ২৯ ধাপ এগিয়ে থাকা ইন্দোনেশিয়ার বিপক্ষে হারবিহীন এক ম্যাচ উপহার দিলেন জিকো।

ঘরের মাঠ, নিজেদের দর্শক। বল দখলের লড়াইয়ে স্বাভাবিকভাবেই এগিয়ে ছিল ইন্দোনেশিয়ানরা। তবে প্রথমার্ধে বলার মতো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি কোনো দলই। ১১ মিনিটে বাংলাদেশের বক্সে স্বাগতিকদের প্রথম আক্রমণ। স্ট্রাইকার মুহাম্মদ রাফলির করা হেডে লক্ষ্যে থাকলেও তা আটকে যায় জিকোর গ্লাভসে। ২১ মিনিটে আবারও বাংলাদেশের ত্রাতা তিনি । এবার অফসাইড ফাঁদ এড়িয়ে মিডফিলফিল্ডার স্টেফানো লিলিপালির শট ঠেকিয়ে দেন জিকো। 

বাংলাদেশের প্রথম সুযোগ এসেছে ৪২ মিনিটের মাথায়। বাঁ প্রান্ত থেকে রাকিব হোসেনের ক্রসে বক্সের বাইরে বল পান অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। শটে গতি থাকলেও জামালের শট গোলরক্ষক পর্যন্ত যাওয়ার আগেই ঠেকিয়ে দেন ইন্দোনেশিয়ান ডিফেন্ডার। 

দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশকে প্রায় কাঁপিয়েই দিয়েছিল ইন্দোনেশিয়া। ৫৮ মিনিটে ফ্রি-কিক থেকে বক্সের ভেতর বল পান স্বাগতিক ডিফেন্ডার প্রাতামা আরহান। জোরের সঙ্গে নেওয়া শটটা লক্ষ্যে থাকলে বিপদেই পড়ত বাংলাদেশ।  

৬৬ মিনিটে ইন্দোনেশিয়ার প্রায় নিশ্চিত গোল ঠেকিয়ে দিয়েছেন জিকো। ফ্রি-কিক থেকে স্টেফানো লিলিপালির হেড ঝাঁপিয়ে ঠেকান বাংলাদেশ গোলরক্ষক। ৭৩ মিনিটে অবশ্য বাংলাদেশের জালে একবার বল জড়িয়ে ছিল ইন্দোনেশিয়া তবে অফসাইডের কারণে সেই গোল বাতিল করে দেন রেফারি। 

ইন্দোনেশিয়ার সঙ্গে যখন সমানে সমানে লড়ছে বাংলাদেশ তখনই দুঃসংবাদ। চোটের কারণে মাঠে ছেড়েছেন মিডফিল্ডার আতিকুর রহমান ফাহাদ। তার বদলি হিসেবে মাঠে নামেন আরেক চোটাক্রান্ত মিডফিল্ডার সোহেল রানা। 

নেমেই গোলের একটা ভালো সুযোগ বের করেছিলেন সোহেল রানা। ৮৬ মিনিটে ইন্দোনেশিয়ার তিন ফুটবলারকে কাটিয়ে সোহেলের নেওয়া শট শেষ পর্যন্ত আটকে যায় স্বাগতিক গোলরক্ষকের হাতে। গোল না পেলেও উৎসব হয়েছে বাংলাদেশ শিবিরে। এশিয়ান কাপের বাছাইপর্ব খেলতে মালয়েশিয়া যাওয়ার আগে  বাংলাদেশ শিবিরকে মানসিকভাবে চাঙা হয়ে ওঠার সুযোগটা করে দিলেন জিকো।





Source link