অভাব মেটাতে ইরানকে ক্রিকেট খেলতে পাঠিয়েছে পরিবার

18


ক্রিকেট তার ধ্যান-জ্ঞান। তবে অগ্রজদের দাপটে এলাকায় খেলার সুযোগ ছিল না। মাঠের বাইরে দাঁড়িয়ে বল কুড়িয়ে দুধের স্বাদ ঘোলে মেটানোই ছিল তার কাজ। কিন্তু এভাবে কি আর ভালো লাগে? পাড়া-মহল্লায় সমবয়সীদের নিয়ে খেলার ইচ্ছা অপূর্ণ থাকে সঙ্গীর অভাবে। মাঠে খেলার চেয়ে মোবাইলে বুঁদ হয়ে থাকে অধিকাংশ সমবয়সী। নিরুপায় হয়ে সঙ্গী হিসেবে দেয়ালকে বেছে নিয়েছিলেন ইরান খন্দকার।

হাত ঘুরিয়ে দেয়ালে বোলিং করেছেন। বল দেয়ালে লেগে ফিরে এলে আবার বোলিং করেছেন। তার এ কাজ দেখে স্থানীয় এক ক্রিকেটারের কৌতূহল জাগে। কাছে গিয়ে আবিষ্কার করেন ইরানের মাঝে আদর্শ স্পিনারের অনেক গুনাগুণ বিদ্যমান। ওই ক্রিকেটারের কল্যাণেই বরিশাল স্টেডিয়ামে প্রথমবারের মতো খেলার সুযোগ পান স্বপ্নবাজ এ কিশোর। স্বল্প সময়ে দৃষ্টি কাড়েন বেসিক ক্রিকেট কোচিং একাডেমি কোচদের। সেখান থেকে সুযোগ পান জাতীয় স্কুল ক্রিকেট প্রতিযোগিতায়। 

এবারের আসরে জেলা, বিভাগীয় ও জাতীয় রাউন্ড মিলিয়ে ৫ ম্যাচ খেলেছেন ইরান। নিয়েছেন ১২ উইকেট। ইনিংসে ৫ উইকেট রয়েছে একটি। এ পরিসংখ্যান অবশ্য ইরানের প্রতিভা বোঝাতে যথেষ্ট নয়। 

বরিশাল আসমত আলী খান ইনস্টিটিউটকে জাতীয় রাউন্ডে তুলে আনতে যাঁদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে, ইরান তাঁদের একজন। দলের প্রয়োজনে ব্যাট হাতেও ভূমিকা রেখেছেন নিয়মিত, ছিল চল্লিশোর্ধ্ব একটি ইনিংস। জাতীয় স্কুল প্রতিযোগিতায় খেলার পর তরুণ প্রতিভার ক্রিকেট স্বপ্নে নতুন ডালপালা মেলেছে। 

নারায়ণগঞ্জের শামসুজ্জোহা ক্রীড়া কমপ্লেক্সে খেলা শেষে গতকাল ইরান বলেছেন, ‘আমি নিজেকে ক্রিকেটে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই। প্রতিনিধিত্ব করতে চাই জাতীয় দলে।’ 

ডানহাতি এই লেগিকে অবশ্য প্রতিনিয়ত ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করতে হয়, ‘বাবা-মা, দুই ভাই ও বোনকে নিয়ে আমাদের পরিবার। বাবা অসুস্থ, কাজ করতে পারেন না। সংসার টানছেন মা। মায়ের চায়ের দোকান আমাদের পরিবারের আয়ের একমাত্র উৎস। কোনোরকমে খেয়ে-পড়ে বেঁচে আছি। পরিবারের আমার সহযোগিতা প্রয়োজন। কিন্তু মা-বাবা আমাকে পুরোপুরি ক্রিকেটে মনোযোগ দেওয়ার কথা বলেছেন। আমিও মনোযোগ দিচ্ছি। ভালো করার চেষ্টা করছি।’ 

ইরান আরও বলেছেন, ‘আমার স্বপ্ন বড় মাপের ক্রিকেটার হওয়া। লাল-সবুজের পতাকা বুকে ধারণ করে খেলা। বাবা-মা চান আমি সংসারের হাল ধরি। ক্রিকেটের মাধ্যমে অভাব দূর করি।’

বরিশালের এই কিশোরকে নিয়ে আশাবাদী আসমত আলী খান ইনস্টিটিউটের কোচ সুজন। তিনি বলেছেন, ‘ইরান দারুণ প্রতিভাবান ক্রিকেটার। খেলাটা তার ধ্যান-জ্ঞান। উন্নতির লক্ষ্য সে কঠোর পরিশ্রম করে যাচ্ছে।’





Source link