২০১৮ সালের টুইটার পোস্টের জেরে গ্রেপ্তার ভারতের সাংবাদিক

16


মোহাম্মদ জুবাইর নামের এক সাংবাদিককে গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার করেছে ভারতের পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০১৮ সালে তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে ধর্মানুভূতিতে আঘাত করে একটি পোস্ট করেছিলেন। কাতারভিত্তিক গণমাধ্যম আল-জাজিরা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। 

মোহাম্মদ জুবাইর তথ্য যাচাইয়ের (ফ্যাক্ট চেকিং) ভারতীয় ওয়েবসাইট অল্ট নিউজের সহপ্রতিষ্ঠাতা। তাঁকে নয়াদিল্লি থেকে গ্রেপ্তার করে এক দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মোহাম্মদ জুবাইর হিন্দুদের দেবতা হমুমানকে নিয়ে অবমাননাকর পোস্ট দিয়েছিলেন। 

এর আগে ভারত সরকার টুইটার কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করে বলেছে, মোহাম্মদ জুবাইর তাঁর টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে ভারতীয় আইন লঙ্ঘন করে পোস্ট করেছেন। জুবাইরের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপনের পাঁচ দিনের মাথায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হলো। 

তবে জুবাইরকে গ্রেপ্তারের আগে পুলিশ কোনো নোটিশ দেয়নি বলে জানিয়েছেন অল্ট নিউজের আরেকজন সহপ্রতিষ্ঠাতা প্রতীক সিনহা। তিনি টুইটার পোস্টে বলেছেন, বুরারিতে একটি পুলিশ বাসের মধ্যে তাঁকে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আটকে রাখা হয়েছিল। পরে তাঁকে ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করা হয়। 

প্রতীক সিনহা আরও জানান, ডাক্তারি পরীক্ষার পর জুবাইরকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তিনি কিংবা জুবাইরের আইনজীবী—কেউ তাঁর খোঁজ জানেন না। 

মোহাম্মদ জুবাইর একজন সাবেক টেলিকম প্রকৌশলী। বাস করতেন বেঙ্গালুরুতে। আর প্রতীক সিনহা একজন সফটওয়্যার প্রকৌশলী। তাঁর বাড়ি আহমেদাবাদে। দুজন মিলে ২০১৭ সালে অল্ট নিউজ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ওয়েবসাইটটি অসংখ্য ভুয়া খবরের সত্যতা যাচাই করেছে। অল্ট নিউজ দাবি করেছে, বেশির ভাগ ভুয়া খবর ছড়াত ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সমর্থকেরা। 

এসব কাজের জন্য জুবাইর ও সিনহা বছরের পর বছর পুলিশে মামলার শিকার হয়েছেন। 

দিল্লি পুলিশের মুখপাত্র সুমন নালওয়া আল-জাজিরাকে জুবাইরের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, জুবাইরের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৫৩ ধারা (দাঙ্গা সৃষ্টির অভিপ্রায়ে উসকানি দেওয়া) এবং ২৯৫-এ ধারায় (ইচ্ছাকৃত এবং বিদ্বেষমূলক কাজ, যা ধর্মীয় অনুভূতি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে) অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। 

ভারতীয় গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস জানিয়েছে, জুবাইরকে গ্রেপ্তার করায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ভারতের কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ বেশ কয়েকজন বিরোধীদলীয় নেতা। রাহুল গান্ধী বলেছেন, ‘বিজেপির ঘৃণা, ধর্মান্ধতা এবং মিথ্যাচার প্রত্যেক মানুষের জন্য হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে। একটি সত্যকণ্ঠকে গ্রেপ্তার করা মানে আরও হাজার হাজার সত্যকণ্ঠের জন্ম দেওয়া।’





Source link