শ্রীলঙ্কায় শান্তিপূর্ণ ও সাংবিধানিকভাবে ক্ষমতা হস্তান্তরের আহ্বান জাতিসংঘের

23


সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শান্তিপূর্ণভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর নিশ্চিত করতে শ্রীলঙ্কার জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে শ্রীলঙ্কার জাতিসংঘ মিশন। সংস্থাটির আবাসিক সমন্বয়কারী হানা সিঙ্গার স্থানীয় সময় শুক্রবার এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানিয়েছেন। ভারতীয় গণমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

হানা সিঙ্গার তাঁর বিবৃতিতে বলেছেন, ‘সংবিধানের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য প্রবীণ রাজনীতিবিদসহ সব স্টেকহোল্ডারের প্রতি শ্রীলঙ্কার জাতিসংঘ মিশন আহ্বান জানাচ্ছে।’ ক্ষমতা হস্তান্তর যেন সংসদের বাইরে ও ভেতরে অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়, সে আহ্বানও জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।

হানা সিঙ্গার বলেছেন, ‘চলমান সংকট উত্তরণে সব স্টেকহোল্ডারের সঙ্গে সংলাপে বসতে হবে। সংলাপই এ অচলাবস্থা থেকে উত্তরণের সর্বোত্তম উপায়।’

গোতাবায়া রাজাপক্ষের প্রেসিডেন্টের পদ থেকে পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার এক দিন পর জাতিসংঘের তরফ থেকে এই বিবৃতি পাওয়া গেল। গতকাল শুক্রবার গোতাবায়া রাজাপক্ষের প্রেসিডেন্টের পদ থেকে পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন স্পিকার মাহিন্দা ইয়াপা আবেবর্ধনে।

এদিকে শ্রীলঙ্কার সুপ্রিম কোর্ট গোতাবায়ার দুই ভাই মাহিন্দা ও বাসিলের ওপর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আদেশ দিয়েছেন। দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মাহিন্দা রাজাপক্ষে ও বাসিল রাজাপক্ষেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত বিনা অনুমতিতে দেশ ত্যাগ করতে নিষেধ করেছেন শ্রীলঙ্কার সুপ্রিম কোর্ট।

শ্রীলঙ্কার ইতিহাসে সবচেয়ে খারাপ সময় পার করছে দেশটি। নজিরবিহীন অর্থনৈতিক সংকটের জেরে গত কয়েক মাস ধরে গণবিক্ষোভ করছেন শ্রীলঙ্কার জনগণ। ব্যাপক গণ-আন্দোলনের মুখে গত মঙ্গলবার দেশ ছেড়ে মালদ্বীপে পালিয়ে যান প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষে। সঙ্গে তাঁর স্ত্রী ও দুই নিরাপত্তাকর্মী ছিলেন। পরে মালদ্বীপ থেকে তাঁরা সৌদি এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে সিঙ্গাপুরে যান। 

সিঙ্গাপুরে পৌঁছার পর তিনি ই-মেইলে শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্টের স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠান। তাঁর আনুষ্ঠানিক পদত্যাগের পর শ্রীলঙ্কার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন রনিল বিক্রমাসিংহে। স্থানীয় সময় শুক্রবার তিনি শ্রীলঙ্কার প্রধান বিচারপতি জয়ন্ত জয়সুরিয়ার কাছে শপথ নিয়েছেন। পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত তিনি অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

শ্রীলঙ্কার পার্লামেন্টের স্পিকার মাহিন্দা ইয়াপা আবেবর্ধনে বলেছেন, আগামী সাত দিনের মধ্যে শ্রীলঙ্কা একজন নতুন প্রেসিডেন্ট পাবে। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ হিসেবে তিনি ২০ জুলাইয়ের কথা বলেছেন। 





Source link