‘শিনজো আবের হত্যাকারী অস্ত্র বানানো শিখেছিলেন ইউটিউবে’ 

27


জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের হত্যাকারী অস্ত্র বানানোর সময় ইউটিউবের সহায়তা নিয়েছিলেন। জাপানের পুলিশ বিভাগের একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে বলে দেশটির বিভিন্ন স্থানীয় গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। 

জাপান টাইমসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শিনজো আবেকে হত্যার পেছনে যে ব্যক্তি দায়ী, তিনি অস্ত্র তৈরির সময় ইউটিউবের সহায়তা নিয়েছিলেন। শিনজো আবেকে হত্যার ঘটনায় ৪১ বছর বয়সী তেতসুয়া ইয়ামাগামি নামের এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ। ওই ব্যক্তিই হত্যাকাণ্ডে ব্যবহারের জন্য অস্ত্র তৈরি করেন এবং তা পরীক্ষা–নিরীক্ষা করে সেগুলোর উপযুক্ততাও বিচার করেছিলেন। তেতসুয়া জানিয়েছেন, একটি ধর্মীয় সংগঠনের নিয়ন্ত্রণে থাকা এলাকায় তিনি অস্ত্রগুলো পরীক্ষা করেছিলেন।  

স্থানীয় সময় গত শুক্রবার সকালে কিয়োতোর নিকটবর্তী নারা শহরে নির্বাচনী প্রচারণা সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় গুলিবিদ্ধ হন জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে (৬৭)। রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় স্তম্ভিত হয়ে পড়ে পুরো জাপানবাসী। হামলাকারী তেতসুয়া ইয়ামাগামির বরাত দিয়ে জাপানের পুলিশ জানিয়েছে, এ হত্যার সঙ্গে রাজনৈতিক কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তবে ‘নির্দিষ্ট সংগঠনের’ বিরুদ্ধে তাঁর ক্ষোভ রয়েছে। শিনজো আবেকে হত্যার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেছেন। হাতে তৈরি বন্দুকে শিনজো আবেকে গুলি করা হয়। 

বার্তা সংস্থা এএনআইয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে জাপানের পুলিশ। এরই মধ্যে হামলাকারীর বাসা থেকে বিস্ফোরক দ্রব্য ও আরও কিছু হাতে তৈরি অস্ত্র জব্দ করা হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ সূত্র বলছে, অস্ত্র তৈরির সময় সহায়তা নিতে হামলাকারী যে ইউটিউবের ওপর নির্ভরশীল ছিল, সেটি স্পষ্ট।  

পুলিশ জানিয়েছে, গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে শিনজো আবের মৃত্যু হয়। দুটো গুলি আঘাত করেছিল শিনজো আবের দেহে। তাঁর ঘাড় ও বাঁ হাতে গুলি দুটো আঘাত করেছিল।  

শিনজো আবে জাপানের প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরসূরি। জাপানের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তিনি। ২০০৬ সালে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হন আবে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর তিনিই ছিলেন সবচেয়ে কনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী। অসুস্থতার কারণে ২০২০ সালে তিনি পদত্যাগ করেন।

 





Source link