শিনজো আবের মৃত্যুতে বিশ্ব নেতাদের শোক

21


আজ শুক্রবার সকালের দিকে কিয়োতোর নিকটবর্তী নারা শহরে নির্বাচনী প্রচারণা সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় গুলিবিদ্ধ হন জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে (৬৭)। রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। 

শিনজো আবের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছেন বিশ্ব নেতারা। আজ শুক্রবার এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে আল জাজিরা। 

ব্রিটেনের রানী এলিজাবেথ শোক প্রকাশ করে বলেন, ‘শিনজো আবের মৃত্যুতে আমি এবং আমার পরিবার গভীরভাবে ব্যথিত ও শোকাহত। আমি এই কঠিন সময়ে তাঁর পরিবার এবং জাপানের জনগণের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা জানাই।’ 

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেন, ‘জাপানের জন্য এবং যারাই আবেকে চিনতেন এটি তাঁদের জন্য খুবই বেদনার। তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ আমার হয়েছিল।’ 

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তেনিও গুতেরেস বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে তাঁর সঙ্গে কাজের সুযোগ হয়েছে। তাঁর নেতৃত্ব মনে রাখার মতো।’ 

শিনজে আবের মৃত্যুতে তিন দিনের শোক পালনের নির্দেশ দিয়েছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো। তিনি শিনজো আবের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ জানান। 

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, ‘শিনজো আবের মৃত্যু এক অপূরণীয় ক্ষতি। তিনি ছিলেন একজন অসামান্য রাষ্ট্রনায়ক।’ 

শোক জানিয়ে জার্মানির প্রেসিডেন্ট ওলাফ শলৎস বলেন, ‘শিনজো আবের ওপর হামলা আমাকে হতবাক করেছে। আমি গভীরভাবে ব্যথিত। আমি তাঁর পরিবার, জাপানের প্রধানমন্ত্রী ফুমিও কিশিদা এবং আমাদের জাপানি বন্ধুদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। এই কঠিন সময়ে আমরা জাপানের পাশে আছি।’ 

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ বলেন, ‘জাপান একজন মহৎ নেতাকে হারালো। তিনি তাঁর পুরো জীবন জাপানিদের জন্য উৎসর্গ করেছেন।’ 

শিনজো আবের মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে জাপানের চীনা দূতাবাস। চীনা দূতাবাস বলেছে, জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে চীন-জাপান সম্পর্ক উন্নয়নে অবদান রেখেছিলেন। আমরা তাঁর মৃত্যুতে সমবেদনা প্রকাশ করছি। 

ইতালির প্রধানমন্ত্রী মারিও দ্রাঘি বলেন, ‘ভয়াবহ সন্ত্রাসী হামলায় আমরা হতবাক।’ 

তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট সাই ইং ওয়েন বলেছেন, ‘বিশ্ব একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে হারালো আর তাইওয়ান হারালো একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধুকে।’ 

সিঙ্গাপুরের প্রধানমন্ত্রী লি সিয়েন লুং বলেন, শিনজো আবে সিঙ্গাপুরের একজন ভালো বন্ধু ছিলেন। তাঁর সঙ্গে আমার অনেক স্মৃতি রয়েছে।’ 

উল্লেখ্য, জাপানের ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় প্রধানমন্ত্রী ছিলেন শিনজো আবে। ২০০৬ সালে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হন আবে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর তিনিই ছিলেন সবচেয়ে কনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী। ২০১২ সালে তিনি দ্বিতীয়বার জাপানের প্রধানমন্ত্রী হন। অসুস্থতার কারণে ২০২০ সালে তিনি পদত্যাগ করেন। তবে ক্ষমতায় থাকা লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) ওপর যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে তাঁর। 

শিনজো আবে জাপানের প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারের উত্তরসূরি। তাঁর বাবা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন। আবে তাঁর সরকারের অর্থনৈতিক নীতির জন্য সুপরিচিত। পাশাপাশি তিনি প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়িয়ে সামরিক বাহিনীকে শক্তিশালী করেছিলেন। 

এদিকে শিনজো আবে নিহতের ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী এমপি। 

এক শোকবার্তায় স্পিকার তাঁর বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা এবং তাঁর শোক সন্তপ্ত পরিবার-পরিজন ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেন।





Source link