লাহোরে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আয়াজ আমিরের ওপর হামলা

22


পাকিস্তানের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক আয়াজ আমিরের ওপর অজ্ঞাত ব্যক্তিরা হামলা করেছে। স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে লাহোরে তিনি হামলার শিকার হয়েছেন বলে নিজেই স্থানীয় সংবাদমাধ্যম দুনিয়া নিউজকে জানিয়েছেন। পাকিস্তানের গণমাধ্যম ডন এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।

দুনিয়া নিউজে একজন জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক হিসেবে কাজ করেন আমির। তিনি বলেন, ‘একটি অনুষ্ঠান রেকর্ড করার পর আমি অফিস থেকে বের হয়ে গাড়ি নিয়ে যাচ্ছিলাম। হঠাৎ অন্য একটি গাড়ি আমার গাড়ির গতিরোধ করে। তারপর মুখোশ পরা এক ব্যক্তি ওই গাড়ি থেকে বের হয়ে আমার গাড়ির চালককে ডাক দেয়। আমি তখন ওই ব্যক্তিকে গাড়ি আটকানোর কারণ জিজ্ঞেস করলে আরও কয়েকজন লোক সেখানে জড়ো হয় এবং গাড়ির দরজা খুলে আমাকে টেনেহিঁচড়ে বের করে কিল-ঘুষি মারতে থাকে।’ 

রাস্তাটি জনাকীর্ণ ছিল বলে মুহূর্তেই অনেক লোক জড়ো হয়ে যায়। কিন্তু এরই মধ্যে হামলাকারীরা তাঁর মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায় বলে জানান আয়াজ আমির।

অনেকেই আহত এ সাংবাদিকের ছবি টুইটারে পোস্ট করেছেন। ছবিতে দেখা গেছে আয়াজ আমির ছেঁড়া শার্ট গায়ে গাড়িতে বসে আছেন। তাঁর মুখে আঘাতের চিহ্ন। 

এ হামলার একদিন আগে ইসলামাবাদ হাইকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত ‘পাকিস্তানের শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ও এর ফলাফল’ শীর্ষক একটি সেমিনারে বক্তৃতা দিয়েছেন এ খ্যাতিমান সাংবাদিক। সেই সেমিনারে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআই চেয়ারম্যান ইমরান খানও উপস্থিত ছিলেন। 

ওই বক্তৃতায় আয়াজ আমির পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর সমালোচনা করেছেন এবং ইমরান খানের শাসনামলের ভুলগুলোও তুলে ধরেছিলেন। তাঁর বক্তৃতা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। 

আমিরের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ইমরান খান। তিনি এক টুইটার পোস্ট বলেছেন, ‘পাকিস্তানে সাংবাদিক, বিরোধী দলের রাজনীতিক ও নাগরিকদের ওপর হামলা, মিথ্যা মামলাসহ ভয়ংকর ফ্যাসিবাদ নেমে এসেছে। রাষ্ট্র যখন সকল নৈতিক কর্তৃত্ব হারায়, তখনই সহিংসতার আশ্রয় নেয়।’ 

পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী হামজা শাহবাজ বলেছেন, তিনি হামলার বিষয়টি অবগত হয়েছেন এবং এ ব্যাপারে পাঞ্জাব পুলিশের মহাপরিদর্শকের কাছে প্রতিবেদন চেয়েছেন। হামলাকারীকে শিগগিরই গ্রেপ্তার করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘ঘটনাটি অত্যন্ত নিন্দনীয়। এ ঘটনায় অবশ্যই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।’ 





Source link