রিয়েল এস্টেটে বিপর্যয়, অর্ধেক সম্পদ হারালেন এশিয়ার শীর্ষ ধনী নারী

39


চীনের রিয়েল এস্টেট খাতে ব্যাপক নগদ সংকটের কারণে গত বছর অর্ধেকের বেশি সম্পদ হারিয়েছেন এশিয়ার সবচেয়ে ধনী নারী। আজ বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ব্লুমবার্গ বিলিয়নিয়ার্স ইনডেক্সে এমন চিত্র দেখা গেছে।

বিলিয়নিয়ার্স ইনডেক্স অনুসারে, চীনা গুয়াংডং-ভিত্তিক রিয়েল এস্টেট জায়ান্ট কান্ট্রি গার্ডেনের অধিকাংশ শেয়ারের মালিক ইয়াং হুইয়ান। তাঁর মোট সম্পদ আগের বছর ছিল ২৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। তা ৫২ শতাংশের বেশি কমে গত বছর ১১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারে ঠেকেছে। 

গতকাল বুধবার ইয়াংয়ের সম্পত্তিতে বড় ধাক্কা আসে যখন কান্ট্রি গার্ডেনের হংকং-তালিকাভুক্ত শেয়ারগুলোর দাম ১৫ শতাংশ কমে যায়। নগদ অর্থ সংগ্রহের জন্য তারা আরও শেয়ার বিক্রি করবে করার ঘোষণা দেওয়ার পর কোম্পানির শেয়ারে মূল্যে এই পতন হয়। 

ইয়াং অবশ্য এই সম্পদ পেয়েছেন উত্তরাধিকার সূত্রে। কান্ট্রি গার্ডেনের প্রতিষ্ঠাতা ইয়াং গুওকিয়াং তাঁর বাবা। ২০০৫ সালে বাবা তাঁর শেয়ার মেয়ের কাছে হস্তান্তর করেন। 

ডেভেলপার কোম্পানিটি হংকং পুঁজিবাজারে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইডিও) ছাড়ার দুই বছর পর ইয়াং এশিয়ার সবচেয়ে ধনী নারী হয়ে ওঠেন। 

কিন্তু তিনি আর সেই অবস্থান সম্ভবত বেশি দিন ধরে রাখতে পারবেন না। বৃহস্পতিবারের হিসাব অনুযায়ী, রাসায়নিক ফাইবার টাইকুন ফ্যান হংওয়েইর নিট সম্পদের পরিমাণ ১১ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার। ইয়াংয়ের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছেন তিনি। 

চীনা কর্তৃপক্ষ ২০২০ সালে রিয়েল এস্টেট খাতের অত্যধিক ঋণের ওপর কড়া বিধিনিষেধ আরোপ শুরু করে। এতে এভারগ্রান্ড এবং সুনাকের মতো বড় কোম্পানিগুলো দায় পরিশোধে হিমশিম খেতে থাকে। দেউলিয়াত্বের দ্বারপ্রান্তে থাকা কোম্পানিগুলোকে ঋণদাতাদের সঙ্গে পুনরায় সমঝোতায় যেতে বাধ্য করে। 

এ পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে ক্রেতারা নির্মাণে ধীর গতি এবং ক্রয়কৃত সম্পত্তি হস্তান্তরে বিলম্বের কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। তাঁরা ক্রয়কৃত ফ্ল্যাট বা বাড়ির বিপরীতে বন্ধকি (মর্টগেজ) অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানাতে শুরু করেছেন। 

অবশ্য এমন সংকটেও কান্ট্রি গার্ডেন তুলনামূলকভাবে অক্ষতই থেকে গেছে। গতকাল বুধবার তারা ঘোষণা দিয়েছে, আংশিক ঋণ পরিশোধের জন্য তারা শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে ৩৪ কোটি ৩০ লাখ ডলার সংগ্রহ করতে চায়। এমন ঘোষণায় বিনিয়োগকারীরা কিছুটা ভড়কে গেছেন। 

রিয়েল এস্টেট খাত চীনের জিডিপির ১৮ থেকে ৩০ শতাংশ বলে ধারণা করা হয়। বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি এই খাত। 

বিশ্লেষকেরা সতর্ক করেছেন, শিল্পটি একটি ‘দুষ্ট চক্র’-এর মধ্যে নিমজ্জিত যা ভোক্তাদের আস্থা আরও কমিয়ে দেবে। যেখানে কোভিড মহামারি শুরু হওয়ার পর সবচেয়ে খারাপ প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে।





Source link