বরিস হারলে কে হতে পারেন ইংল্যান্ডের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী 

28


অনাস্থা ভোটের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। পার্টিগেট কেলেঙ্কারির দায়ে তাঁকে অনাস্থা ভোটের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। এই ভোটে হারলে কে হতে পারেন ইংল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী। এ তালিকায় রয়েছে বেশ কয়েকজনের নাম। ইংল্যান্ডের বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিজ ট্রাস, অর্থমন্ত্রী ঋষি সুনাক, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্টসহ আরও কয়েকজন রয়েছেন হবু প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে তাঁদের নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। রয়টার্সের তালিকায় বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী লিজ ট্রাস, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট, বর্তমান অর্থমন্ত্রী ঋষি সুনাক, বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী নাদিম জাহাবি এবং সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী পেনি মরডন্ট। 

লিজ ট্রাস 
ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টির তৃণমূলে ব্যাপক জনপ্রিয়া এই নেত্রী এবং দলের হাইকমান্ডেও সমান জনপ্রিয়তা রয়েছে তাঁর। সম্প্রতি লিজ ট্রাস নিজেকে ইংল্যান্ডের লৌহমানবী বলে খ্যাত সাবেক প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচারের মতো করে উপস্থাপনের চেষ্টা করছেন। 

৪৬ বছরের এই নেত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের আমলে প্রথমে দেশটির আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ব্রেক্সিট ইস্যুতেও রেখেছে কার্যকরী ভূমিকা। সর্বশেষ গত বছর তাঁর কাজের মূল্যায়ন হিসেবে তিনি ব্রিটেনের পক্ষ থেকে তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে প্রধান আলোচক হিসেবে নিযুক্ত হন। 

তবে, লিজ ট্রাস জানিয়েছেন—তিনি এখনো বরিস জনসনের নেতৃত্বের প্রতি শতভাগ আস্থা রাখছেন এবং তাঁর অন্যান্য সহকর্মীদেরও উচিত বরিসকে সমর্থন করা। 

জেরেমি হান্ট 
৫৫ বছর বয়সী সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী পদের অন্যতম দাবিদার। এর আগে দলীয় নেতা নির্বাচনের সময় ২০১৯ সালে তিনি বরিস জনসনের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন। সেসময় দ্বিতীয় স্থানেই ছিলেন এই নেতা। বিশ্লেষকদের ধারণা, জেরেমি হান্ট বরিস জনসনের চেয়ে আরও সচেতন এবং কম বিতর্কিতভাবে শাসনক্ষমতা চালিয়ে নিতে সক্ষম। 

বিগত দুই বছরে বিশেষ করে করোনা মহামারির সময়ে জেরেমি হান্ট দেশটির সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে তাঁর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দেশটির করোনা মহামারি পরিস্থিতি ভালোভাবেই সামলেছেন। এমনকি, এ বছরের শুরুতে তিনি বলেছিলেন, ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ইচ্ছা তাঁর এখনো ফুরিয়ে যায়নি। 

ঋষি সুনাক 
ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রী ঋষি সুনাক গত বছর পর্যন্তও জনসনের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে ছিলেন। সেসময় তিনি, করোনাভাইরাসের ধাক্কা কাটিয়ে উঠে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার প্যাকেজ গ্রহণের জন্য বেশ প্রশংসিত হয়েছিলেন। যার কারণে দেশটি গণ বেকারত্বের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে। 

তবে তিনি সমালোচনার শিকার হয়েছেন, জনসাধারণকে গৃহস্থালির ব্যয় বৃদ্ধির হাত থেকে বাঁচাতে পারেননি। এ ছাড়া, তাঁর স্ত্রীকেন্দ্রিক দুর্নীতি এবং পার্টিগেট কেলেঙ্কারি তাঁর প্রধানমন্ত্রী হওয়ার ক্ষেত্রে একটি বড় বাঁধা হিসেবে হাজির হতে পারে। 

এ ছাড়া, তাঁর ট্যাক্স এবং ব্যয় বাজেট গত বছর ব্রিটেনকে ১৯৫০ সালের পর সবচেয়ে বড় ধরনের ট্যাক্সের মুখোমুখি করেছে। এটিও তাঁর জন্য একটি ডিমেরিট পয়েন্ট হিসেবে দেখা দিতে পারে। তবে, লিজ ট্রাসের মতো সুনাকও জানিয়েছেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জনসনের প্রতিই তাঁর আস্থা। 

নাদিম জাহাবি 
ব্রিটেনের বর্তমান শিক্ষামন্ত্রী এর আগে দেশটির ভ্যাকসিন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছে। তাঁর দায়িত্বেই ব্রিটেন করোনাভাইরাসের টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে অন্যতম প্রধান দেশ হিসেবে স্বীকৃতি অর্জন করে। ব্যক্তি জীবনে ইরাক থেকে ইংল্যান্ডে শরণার্থী হয়ে আসা জাহাবি তরুণ বয়েস থেকেই কনজারভেটিভ দলের রাজনীতির দিকে ঝোঁকেন। ২০১০ সালে তিনি ব্রিটিশ পার্লামেন্টে এমপি হিসেবে নির্বাচিত হন। 

নাদিম জাহাবি বৈশ্বিক জনমত যাচাইকারী সংস্থা ‘ইউগভ’–এর একজন সহ–প্রতিষ্ঠাতা। গত সপ্তাহে একটি অনুষ্ঠানে নাদিম বলেছিলেন ‘ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী হওয়া তাঁর জন্য একটি বড় পাওয়া হিসেবে বিবেচিত হবে।’ 

পেনি মরডন্ট 
রয়টার্সের করা তালিকায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে আরও যে যে নামটি রয়েছে তা হলো পেনি মরডন্ট। ব্রিটেনের সাবেক এই প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে জনসন ক্ষমতায় আসার পর বরখাস্ত করেছিলেন। কারণ, ২০১৯ সালে দলীয় নেতা নির্বাচনের সময় মরডন্ট জনসনের প্রতিদ্বন্দ্বী জেরেমি হান্টকে সমর্থন দিয়েছিলেন। 

মরডন্ট ব্রিটেনের ব্রেক্সিট পোলের অন্যতম সমর্থনকারী নেতা। তিনি সেসময় প্রায়ই বিভিন্ন টিভি শোতে এসে ব্রেক্সিটের পক্ষে জনমত গঠনের চেষ্টা চালাতেন। 

বর্তমানে দেশটির জুনিয়র ট্রেড মিনিস্টার হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী মরডন্ট জনসন কর্তৃক কোভিড আইন ভঙ্গ করে পার্টি করার ঘটনাকে সরকারের জন্য ‘লজ্জাজনক’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, জনগণ সরকারের কাছ থেকে পেশাদারিত্ব এবং যোগ্যতার পরিচয় চায়। স্পষ্টতই তিনি জনসনের বিরোধী।





Source link