বরিস জনসনের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার দৌঁড়ে ৯ নেতা

30


নিজ দল কনজারভেটিভ পার্টির এমপিদের সমর্থন হারিয়ে বিদায় নিতে হয়েছে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনকে। গত বৃহস্পতিবার নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন তিনি। তাঁর পদত্যাগের পর প্রশ্ন উঠেছে কনজারভেটিভ পার্টির নেতৃত্বে আসছেন কে? 

আজ রোববার দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ৯ জন নেতা বরিস জনসনের স্থলাভিষিক্ত হওয়ার দৌঁড়ে আছেন। তালিকায় আছেন-সাবেক অর্থমন্ত্রী ঋষি সুনাক, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাজিদ জাভিদ, সাবেক স্বাস্থ্য সচিব জেরেমি হান্ট, অর্থমন্ত্রী নাদিম জাহাবী, বাণিজ্যমন্ত্রী পেনি মরডান্ট, যোগাযোগ সচিব গ্রান্ট শ্যাপস, অ্যাটর্নি জেনারেল সুয়েলা ব্র্যাভারম্যান, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী কেমি ব্যাডেনোচ ও সিনিয়র ব্যাকবেঞ্চার টম টুগেনধাত। 

কনজারভেটিভ পার্টির নেতৃত্বে আসার লক্ষ্যে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী পেনি মরডান্ট বলেছেন, ‘আমাদের নেতৃত্বে পরিবর্তন দরকার। শুধু নেতৃত্ব নয় আমাদের পুরো দল নিয়েই ভাবতে হবে।’ 

সাবেক স্বাস্থ্য সচিব জেরেমি হান্ট বলেন, কনজারভেটিভ পার্টির নেতা হতে পারলে তিনি এসথার ম্যাকভিকে উপ-প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেবেন। 

উল্লেখ্য, বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, কোনো এমপি প্রার্থী হতে চাইলে তাঁর প্রার্থিতার জন্য আটজন কনজারভেটিভ এমপির সমর্থন প্রয়োজন। অর্থাৎ, যারা দলের নেতা নির্বাচিত হতে চান, তাঁরা নিজেদের প্রার্থিতা ঘোষণার জন্য আগে দলের আটজন এমপির সমর্থন আদায় করতে হবে। এরপরই তাঁরা নেতৃত্বের লড়াইয়ে নামতে পারবেন। 

প্রার্থিতা ঘোষণার পর যদি দুজনের বেশি প্রার্থী থাকে তাহলে কয়েকটি ধাপে ভোট হবে। প্রথম ধাপে ভোট দেবেন শুধু এমপিরা। এ পর্যায়ে মোট ভোটের ৫ শতাংশ অন্তত পেলেই কেবল সেই প্রার্থী পরের রাউন্ডের ভোটে অংশ নিতে পারবেন। বর্তমান হিসাবে কনজারভেটিভ নেতৃত্বের লড়াইয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে যেতে হলে একজন প্রার্থীকে অন্তত ১৮ জন এমপির ভোট পেতে হবে। 

প্রথম রাউন্ডের ভোটে টিকে যাওয়া প্রার্থীদের নিয়ে হবে দ্বিতীয় রাউন্ডের ভোট। এই ধাপে যারা অন্তত ১০ শতাংশ পাবেন, তাঁরাই কেবল পরের রাউন্ডে যাবেন। বর্তমান হিসাবে পরের রাউন্ডে যেতে হলে একজন এমপিকে অবশ্যই ৩৬ বা তার বেশি ভোট পেতে হবে। 

এই ভোট দুজন প্রার্থী পাওয়া পর্যন্ত চলতে থাকবে। তবে দ্বিতীয় রাউন্ডের পর থেকে ভোটের নিয়ম পাল্টে যাবে। পরের রাউন্ডগুলোতে যে প্রার্থী সবচেয়ে কম ভোট পাবেন, তিনি সরে যাবেন লড়াইয়ের ময়দান থেকে। এভাবে দুজন প্রার্থী পাওয়া পর্যন্ত ভোট চলবে। 

যখন দুজন প্রার্থী বাকি থাকবে, তখন অন্য এমপিদের সঙ্গে সারা দেশের কনজারভেটিভ পার্টির সদস্যরা ভোট দিয়ে একজনকে বিজয়ী করবেন। 

কনজারভেটিভদের নেতৃত্ব দেওয়ার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যিনি জিতবেন, তিনি সংসদে সর্বাধিকসংখ্যক এমপিসহ দলের নেতা হবেন। রানি তখন সরকার গঠন করতে বলবেন।





Source link