বরিস জনসনের পদত্যাগ: যা হতে পারে?

20


যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন কনজারভেটিভ নেতার পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন এবং নতুন নেতা পাওয়া গেলে প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন। ২০১৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা সত্ত্বেও তিনি তিন বছরেরও কম সময়ের মধ্যে ডাউনিং স্ট্রিট ছেড়ে যাচ্ছেন। বরিস জনসনের এই ঘোষণার পর যুক্তরাজ্যে এখন কী হবে?

যুক্তরাজ্যে উত্তরাধিকারী না পাওয়া পর্যন্ত বিদায়ী প্রধানমন্ত্রীরা সাধারণত পদে থাকেন। কথা হলো এই উত্তরাধিকারী আসলে কীভাবে নির্ধারণ করা হবে?

কনজারভেটিভরা কীভাবে নতুন নেতা নির্বাচন করে?
একবার কনজারভেটিভ নেতা পদত্যাগ করলে, দলের নতুন নেতার জন্য নির্বাচন শুরু হয়। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, কোনো এমপি প্রার্থী হতে চাইলে তাঁর প্রার্থিতার জন্য আটজন কনজারভেটিভ এমপির সমর্থন প্রয়োজন। অর্থাৎ, যারা দলের নেতা নির্বাচিত হতে চান, তাঁরা নিজেদের প্রার্থিতা ঘোষণার জন্য আগে দলের আটজন এমপির সমর্থন আদায় করতে হবে। এরপরই তাঁরা নেতৃত্বের লড়াইয়ে নামতে পারবেন।

প্রার্থিতা ঘোষণার পর যদি দুজনের বেশি প্রার্থী থাকে তাহলে কয়েকটি ধাপে ভোট হবে। প্রথম ধাপে ভোট দেবেন শুধু এমপিরা। এ পর্যায়ে মোট ভোটের ৫ শতাংশ অন্তত পেলেই কেবল সেই প্রার্থী পরের রাউন্ডের ভোটে অংশ নিতে পারবেন। বর্তমান হিসাবে কনজারভেটিভ নেতৃত্বের লড়াইয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডে যেতে হলে একজন প্রার্থীকে অন্তত ১৮ জন এমপির ভোট পেতে হবে।

প্রথম রাউন্ডের ভোটে টিকে যাওয়া প্রার্থীদের নিয়ে হবে দ্বিতীয় রাউন্ডের ভোট। এই ধাপে যারা অন্তত ১০ শতাংশ পাবেন, তাঁরাই কেবল পরের রাউন্ডে যাবেন। বর্তমান হিসাবে পরের রাউন্ডে যেতে হলে একজন এমপিকে অবশ্যই ৩৬ বা তার বেশি ভোট পেতে হবে।

এই ভোট দুজন প্রার্থী পাওয়া পর্যন্ত চলতে থাকবে। তবে দ্বিতীয় রাউন্ডের পর থেকে ভোটের নিয়ম পাল্টে যাবে। পরের রাউন্ডগুলোতে যে প্রার্থী সবচেয়ে কম ভোট পাবেন, তিনি সরে যাবেন লড়াইয়ের ময়দান থেকে। এভাবে দুজন প্রার্থী পাওয়া পর্যন্ত ভোট চলবে।

যখন দুজন প্রার্থী বাকি থাকবে, তখন অন্য এমপিদের সঙ্গে সারা দেশের কনজারভেটিভ পার্টির সদস্যরা ভোট দিয়ে একজনকে বিজয়ী করবেন।

পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী কীভাবে নিযুক্ত হবেন? 
কনজারভেটিভদের নেতৃত্ব দেওয়ার প্রতিদ্বন্দ্বিতায় যিনি জিতবেন, তিনি সংসদে সর্বাধিকসংখ্যক এমপিসহ দলের নেতা হবেন। রানি তখন সরকার গঠন করতে বলবেন।

সাধারণ নির্বাচন হবে কি?
না, সাধারণ নির্বাচন হবে না। যুক্তরাজ্যের আইন অনুযায়ী, একজন প্রধানমন্ত্রী পদত্যাগ করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সাধারণ নির্বাচন হয় না।

পরবর্তী একটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে। তবে নতুন প্রধানমন্ত্রী তার আগে একটি নির্বাচন আহ্বান করতে পারেন।

কত দিন ক্ষমতায় থাকবেন বরিস জনসন?
জনসন নতুন নেতা না হওয়া পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাজ চালিয়ে যেতে পারেন। তার মানে কনজারভেটিভরা নতুন নেতা নির্বাচন না করা পর্যন্ত তিনি পদে থাকবেন, যেমন তাঁর পূর্বসূরি থেরেসা মে এবং ডেভিড ক্যামেরন পদত্যাগের সময় করেছিলেন।

পদত্যাগের বিবৃতিতে জনসন বলেছেন, ‘আমি ব্যাকবেঞ্চার (পদ-পদবিবিহীন) এমপিদের চেয়ারম্যান স্যার গ্রাহাম ব্র্যাডির সঙ্গে একমত হয়েছি। নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া এখনই শুরু হওয়া উচিত এবং এর সময়সূচি আগামী সপ্তাহে ঘোষণা করা হবে।’

জনসন কি শিগগিরই যেতে পারেন?
বরিস জনসনের কিছু সমালোচক উত্তরাধিকারী বেছে নেওয়ার জন্য অপেক্ষা না করেই অবিলম্বে ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিট ত্যাগের জন্য তাঁর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

লেবার নেতা স্যার কেয়ার স্টারমার বলেছেন, ‘জনসনকে একেবারে অপসারণ না করা হলে তিনি অনাস্থা ভোট ডাকবেন।’

অনাস্থা প্রস্তাবে শুধু কনজারভেটিভ নয় সব এমপি ভোট দিতে পারবেন। এটা পাসের জন্য বিপক্ষে ভোট দেওয়ার চেয়ে পক্ষে ভোট দেওয়ার প্রয়োজন হবে। এই ফলাফলের জন্য কনজারভেটিভ এমপিদের তাদের সরকারের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার ওপর নির্ভর করবে, যার সম্ভাবনা কম। 

বরিস জনসনের স্থলাভিষিক্ত কে হতে পারেন? 
এই মুহূর্তে জনসনের কোনো সুস্পষ্ট উত্তরসূরি নেই। তবে বেশ কয়েকজন সম্ভাব্য প্রার্থী রয়েছেন।

সাবেক মন্ত্রিপরিষদ মন্ত্রী জেরেমি হান্ট এবং সাজিদ জাভিদ উভয়েই এর আগে দাঁড়িয়েছেন। তাঁরা এবারও দাঁড়াতে পারেন।

সম্ভাব্য অন্য প্রতিযোগীরা হলেন—
সাবেক লেভেলিং আপ সেক্রেটারি মাইকেল গভ
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমন্ত্রী পেনি মর্ডান্ট
সাবেক চ্যান্সেলর ঋষি সুনক
পররাষ্ট্রসচিব লিজ ট্রাস
পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটির সভাপতি টম টুগেনধাত
প্রতিরক্ষা সচিব বেন ওয়ালেস
চ্যান্সেলর নাদিম জাহাভি

বরিস জনসনের এখনো কী ক্ষমতা রয়েছে?
জনসনের এখনো তত্ত্বগতভাবে একই ক্ষমতা রয়েছে, যতক্ষণ না তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর পদ ছেড়ে দেন ততক্ষণ থাকবেন। বাস্তবে, তাঁর এখন কোনো নতুন মৌলিক নীতি প্রবর্তনের ক্ষমতা নেই। তিনি এখনো বিদেশে যুক্তরাজ্যের প্রতিনিধিত্ব করবেন এবং তাঁর মন্ত্রিসভায় নিয়োগ বা বদল আনার এখতিয়ার থাকবে।





Source link