প্রথমবারের মতো চীনকে ‘চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করল ন্যাটো

36


যাত্রা শুরুর পর এই প্রথম চীনকে ‘চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে তালিকাভুক্ত করল ন্যাটো। সংস্থাটি জানিয়েছে, চীনের উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং এর ‘দমনমূলক নীতি’ পশ্চিমা স্বার্থ, নিরাপত্তা এবং মূল্যবোধের জন্য হুমকি স্বরূপ। গত ২৯ জুন প্রকাশিত সংস্থাটির আগামী দশকের কৌশলগত ধারণাপত্রে চীনকে ‘চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। 

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল–জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্পেনের মাদ্রিদে ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোর নেতাদের সম্মেলনে এই কৌশলগত ধারণাপত্র অনুমোদন দেন। এই ধারণাপত্রে রাশিয়াকে ন্যাটোর জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। 

ন্যাটোর কৌশলগত ধারণা পত্রে বলা হয়েছে, রাশিয়া ন্যাটো জোটভুক্ত দেশগুলোর শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য ‘সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য এবং সরাসরি হুমকি’। ওই নথিতে আরও বলা হয়, বেইজিংয়ের সামরিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা, তাইওয়ানের প্রতি এর সংঘাতমূলক মনোভাব এবং রাশিয়ার সঙ্গে এর মৈত্রী ন্যাটোর সামনে ‘কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে হাজির হয়েছে। 

ন্যাটোর মহাসচিব জেনস স্টলটেনবার্গ সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘চীন ক্রমাগত পারমাণবিক অস্ত্র সহ সামরিক সক্ষমতা বাড়িয়েই চলেছে। এর প্রতিবেশী দেশগুলোকে হয়রানি করছে, তাইওয়ানকে হুমকি দিচ্ছে, নিজ দেশের নাগরিকদের ওপর উচ্চতর প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নজরদারি এবং নিয়ন্ত্রণ চালিয়ে যাচ্ছে। রাশিয়ার পক্ষ হয়ে মিথ্যা এবং ভুয়া তথ্য ছড়াচ্ছে।’ 

চীন সম্পর্কে উপর্যুক্ত মন্তব্যের পর স্টলটেনবার্গ আরও বলেন, ‘চীন আমাদের প্রতিপক্ষ নয়। কিন্তু দেশটি আমাদের সামনে কী ধরনের চ্যালেঞ্জ হাজির করে সে বিষয়ে আমাদের চোখ–কান খোলা রাখতে হবে।’ 

এদিকে, চীন গত ন্যাটোর এই নথি এবং অবস্থানের বিষয়ে তীব্র বিরোধিতা করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান বলেছেন, ‘ন্যাটোর তথাকথিত নতুন কৌশলগত ধারণাপত্র প্রকৃত বিষয়কে অস্বীকার করে এবং তা লিখিতভাবে চীনের পররাষ্ট্র নীতির ওপর কালিমা লেপনের একটি কৌশল মাত্র।’ 

এর আগে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বলেছিলেন, ‘চীন যা করছে তার মধ্যে একটি হলো—আমার শৃঙ্খলাভিত্তিক যে বিশ্ব ব্যবস্থা গড়েছি, যাতে আমরা বিশ্বাস করি চীন সেই ব্যবস্থাকে প্রতিনিয়ত অবমাননা করেই যাচ্ছে।’ 





Source link