পুতিনকে বিচারের মুখোমুখি করতে চায় ইউক্রেন

32


রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে বিচারের মুখোমুখি করতে চায় ইউক্রেন। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে জানা যায়, যুদ্ধ শুরুর জন্য পুতিন ও তাঁর শীর্ষ সামরিক কমান্ডারদের বিচারের পরিকল্পনা করছে কিয়েভ।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের প্রশাসনের উপপ্রধান আন্দ্রি মিরনভের নেতৃত্বে একটি বিশেষ আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল গঠনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। যেটি রাশিয়ার ‘আগ্রাসনের অপরাধ’ তদন্ত করবে।

‘আগ্রাসনমূলক অপরাধের’ ব্যাখ্যায় ২০১০ সালে গ্রহণ করা রোম আইনের কথা বলা হয় এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর নুরেমবার্গ ও টোকিও বিচারের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত ‘শান্তি বিরোধী অপরাধের’ বিষয়ে একই ধারণার কথা উল্লেখ করা হয়।

বিশেষ এ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে ইউক্রেনে রাশিয়ার ‘আগ্রাসন অপরাধের’ তদন্ত ও দায়ী ব্যক্তিদের বিচার করা হবে। এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ইউক্রেনে যুদ্ধাপরাধ, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং গণহত্যার তদন্ত করছে।

আন্দ্রি মিরনভ এএফপিকে বলেন, ‘এই আদালত ইউক্রেন যুদ্ধ যিনি শুরু করেছেন তাঁর ও অন্য অপরাধীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার একমাত্র উপায়। বিশ্ব অনেক কিছু দ্রুত ভুলে যায়। তাই আগামী বছরই এই ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম শুরু হবে।’ 

চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে বিশেষ সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। ছবি: এএফপি

তিনি আরও বলেন, ‘ইউক্রেন কর্তৃপক্ষ জানে, অভিযুক্তরা ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত থাকবেন না। তবে ট্রাইব্যুনাল তাঁদের অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করতে কাজ করবে। তাঁরা সভ্য বিশ্বে ভ্রমণ করতে পারবেন না।’

ইউক্রেনীয় কৌঁসুলিরা আগ্রাসনের জন্য এখন পর্যন্ত প্রায় ৬০০ সন্দেহভাজনকে চিহ্নিত করেছেন। তাঁদের মধ্যে জ্যেষ্ঠ রুশ সামরিক কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ ও ভাষ্যকার রয়েছেন। ট্রাইব্যুনাল গঠনের জন্য একটি আন্তর্জাতিক চুক্তির খসড়া তৈরি করা হয়েছে, যা সরকারের কর্তৃক স্বাক্ষরের জন্য প্রস্তুত।

রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের নির্দেশে চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে বিশেষ সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। অভিযানের নামে চলমান এই আগ্রাসনে কয়েক হাজার বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। ইউক্রেনের প্রায় দেড় কোটির বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে বহু শহর। 





Source link