জাপানে রেকর্ড তাপমাত্রা, হাসপাতালে ভর্তি ৭৬ জন

21


স্মরণকালের ভয়াবহ দাবদাহে বিপর্যস্ত জাপান। বিবিসি বলছে, জুনের দাবদাহ দেশটির ১৫০ বছরের রেকর্ড ভেঙেছে। রাজধানী টোকিওতে টানা পঞ্চম দিনের মতো তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে রয়েছে, যা টোকিওতে ১৮৭৫ সালের পর সর্বোচ্চ। 

রাজধানীর উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইসেসাকি শহরে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৪০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। জুন মাসে রেকর্ড করা এটাই জাপানের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। 

আজ বুধবার দেশটির জরুরি পরিষেবার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দাবদাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে হিট স্ট্রোকে আক্রান্তের সংখ্যা। হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে এ পর্যন্ত ৭৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। 

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দাবদাহ তীব্র এবং দীর্ঘস্থায়ী হয়েছে। শিল্পায়নের যুগ শুরুর পর বিশ্বে তাপমাত্রা প্রায় ১ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পেয়েছে। দেশগুলো কার্বন নিঃসরণ না কমালে তাপমাত্রা বাড়তে থাকবে। 

দাবদাহে হিট স্ট্রোকের শিকার হচ্ছে মানুষ। ছবি: রয়টার্স 

জাপান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভয়াবহ দাবদাহ চলায় দেশটিতে বিদ্যুতের উৎপাদন হ্রাস পেতে পারে। ফলে বিদ্যুতের চাহিদা বাড়তে পারে। হিট স্ট্রোক এড়াতে লোকজন যেন তাপমাত্রা কমাতে এয়ারকন্ডিশনার ও ফ্যান ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারে এ জন্য জনগণের উচিত হবে অপ্রয়োজনীয় বাতি নিভিয়ে রাখা। জাপানের রাজধানী টোকিও এবং এর আশপাশের অঞ্চলের ৩ কোটি ৭০ লাখ বাসিন্দাকে অপ্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক বাতি নিভিয়ে রাখতে আহ্বান জানানো হয়েছে। 

আবহাওয়া কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, সামনের দিনগুলোতেও দাবদাহ অব্যাহত থাকতে পারে। এক জাপানি টুইটারে লিখেছেন, ‘আমি সকাল থেকে বাইরে ছিলাম। প্রচণ্ড গরমে একদম গলে যাচ্ছি।’ 

উল্লেখ্য, জাপানে জুন মাসকে সাধারণত বর্ষাকাল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তবে গত সোমবার জাপান আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ) টোকিও এবং এর আশপাশের অঞ্চলগুলোর জন্য বর্ষা ঋতু শেষ হওয়ার ২২ দিন আগেই ঋতু শেষের ঘোষণা দিয়েছে।





Source link