চাকরি ছাড়ার দুদিনের মধ্যে পাওনা মেটানোর আইন ভারতে

14


ভারতে নতুন মজুরিবিধি অনুসারে চাকরি থেকে পদত্যাগ, বরখাস্ত কিংবা অপসারণের পর একজন কর্মীর শেষ কার্যদিবসের দুই দিনের মধ্যে বেতন ও বকেয়ার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করতে হবে প্রতিষ্ঠানকে। সাধারণত একজন কর্মীর শেষ কর্মদিবসের ৪৫ থেকে ৬০ দিন পর বেতন ও বকেয়া চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করা হয় এবং কিছু ক্ষেত্রে ৯০ দিন পর্যন্ত সময় নেওয়া হয়। 

এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের নতুন মজুরিবিধি ইতিমধ্যে পার্লামেন্টে পাস হয়েছে। বেতন, সামাজিক নিরাপত্তা, শ্রম সম্পর্ক, পেশাগত নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য এবং কাজের অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে এতে চারটি শ্রম আইন করা হয়েছে। পূর্ববর্তী ২৯টি কেন্দ্রীয় শ্রম আইন পর্যালোচনা এবং একত্রিত করে চারটি নতুন মজুরিবিধি তৈরি করা হয়েছে।

শ্রম আইনের অধীনে নতুন মজুরিবিধি বলে, ‘একজন কর্মীকে—১. চাকরি থেকে অপসারণ বা বরখাস্ত করা হয়েছে; ২. ছাঁটাই বা চাকরি থেকে পদত্যাগ করেছেন, কিংবা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার কারণে বেকার হয়েছেন এমন ক্ষেত্রে চাকরির শেষ কর্মদিবসের পর দুই কার্যদিবসের মধ্যে অর্থ প্রদান করতে হবে।’ 

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ১ জুলাইয়ের মধ্যে নতুন মজুরিবিধি বাস্তবায়ন করতে চায়। ছবি: টুইটার

১ জুলাইয়ের মধ্যে এই নতুন আইনগুলো বাস্তবায়ন করতে চায় ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। তবে অনেক রাজ্য এখনো এই নিয়মগুলো অনুমোদন করতে পারেনি। কয়েকটি রাজ্য এখনো চারটি শ্রম আইনের জন্য প্রয়োজনীয় আইন প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। 

লোকসভায় শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী রামেশ্বর তেলির লিখিত প্রতিক্রিয়া অনুসারে, ২৩টি রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল মজুরি সংক্রান্ত আইনের অধীনে খসড়া নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। 

যদি নতুন মজুরিবিধি বাস্তবায়িত হয়, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের বেতন-প্রক্রিয়া পুনরায় সংগঠিত করতে হবে এবং দুই কার্যদিবসের মধ্যে মজুরির সম্পূর্ণ নিষ্পত্তির জন্য কাজ করতে হবে। 

নতুন আইন অনুযায়ী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো দৈনিক কর্মঘণ্টা ৮-৯ ঘণ্টা থেকে বাড়িয়ে ১২ ঘণ্টা করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে কর্মীদের সপ্তাহে তিন দিন ছুটি দিতে হবে। অর্থাৎ সপ্তাহে কর্মদিবস কমিয়ে চার দিন করা হবে। তবে এতে মোট কর্মঘণ্টা প্রভাবিত হবে না। এ ছাড়া নতুন মজুরিবিধিতে প্রতি সপ্তাহে অন্তত ৪৮ কর্মঘণ্টা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। 





Source link