‘এখনই রাশিয়া–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের উন্নতি না হলে এ জনমে হবে না’

55


এখনই যদি রাশিয়া–যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের উন্নতি না হয় তবে তা আর কখনোই হবে না। ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে উদ্ভূত সংকটের ভিত্তিতে মস্কোয় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস বন্ধ করা উচিত হবে রাশিয়ার। বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পরমাণু শক্তিধর দুই দেশকে অবশ্যই আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে। সোমবার মস্কোয় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত এসব কথা বলেছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। 

রাশিয়ায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত জন জোসেপ সুলিভান রাশিয়ার কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা পাঠানোর চেষ্টা করেছেন যে—ওয়াশিংটন ও মস্কোর উচিত হবে কূটনৈতিক সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন করা। 

জন সুলিভান রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম তাসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘আমাদের অবশ্যই পরস্পরের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ খোলা রাখতে হবে।’ এ সময় সুলিভান আরও বলেন, ‘আমরা (রাশিয়া–যুক্তরাষ্ট্র) কখনোই পরস্পরের সঙ্গে সম্পূর্ণরূপে সম্পর্ক ছিন্ন করব না।’ 

সুলিভানকে দুই দেশের সম্পর্ক প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করা হয় যে—দুই দেশ তাদের দূতাবাস বন্ধ করবে কিনা। জবাবে তিনি বলেন, ‘তাঁরা করতে পারে, এই সম্ভাবনা রয়েছে। তবে আমার মনে হয় এটি একটি ভয়াবহ ভুল সিদ্ধান্ত হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমি যতটুকু বুঝতে পেরেছি, রাশিয়ার সরকার কূটনৈতিক সম্পর্ক তলানি নিয়ে যাওয়ার একটি বিকল্প উল্লেখ করেছে। তবে, কোনোভাবেই আমরা কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে পারি না এবং আলোচনাও বন্ধ করতে পারি না।’ 

যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ায় তাদের দূতাবাস বন্ধ করবে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সুলিভান বলেন, ‘আমি মনে করি, যুক্তরাষ্ট্র কেবল তখনই রাশিয়ায় তার দূতাবাস বন্ধ করবে যখন আর কোনো উপায়েই কাজ চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে না।’ 

কীভাবে দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি হতে পারে সে প্রসঙ্গে সুলিভান বলেন, তিনি জানেন না। তবে তিনি বলেন, ‘হয়তো সম্পর্কের উন্নতি হবে কিন্তু আমাকে যদি বাজি ধরতে বলা হয়, তবে আমি বাজি ধরে বলতে পারি, এখনই রাশিয়া–যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের উন্নতি না হলে এ জনমে হবে না।’ 

এদিকে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেনে আক্রমণের সূচনা প্রসঙ্গে বলেছেন, এই আক্রমণ—রাশিয়ার ইতিহাসের বাঁক বদলের মুহূর্ত, যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যের বিরুদ্ধে রাশিয়ার বিদ্রোহ এবং ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর থেকে রাশিয়াকে অপমান করার প্রতিশোধ। 

অপরদিকে, ইউক্রেন এবং এর পশ্চিমা মিত্র দেশগুলো বলেছে, ইউক্রেন নিজেদের আত্মরক্ষায় সাম্রাজ্যবাদী কায়দায় ভূমি দখলে বিরুদ্ধে লড়ছে। এই যুদ্ধ এরই মধ্যে হাজারো মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়েছে, ১ কোটি মানুষকে বাস্তুহারা করেছে এবং দেশকে একটি বিরানভূমিতে পরিণত করেছে। 





Source link