ইরাকের মসুলে মিলল ৩৪০০ বছরের পুরোনো শহরের চিহ্ন

34


বিগত কয়েক বছরের টানা খরায় ইরাকের অধিকাংশ জলাধারই শুকিয়ে গিয়েছে। দেখা দিয়েছে পানির সংকট। ফলে লোকজন দূরদূরান্তে যেতে বাধ্য হচ্ছে পানির সন্ধানে। সম্প্রতি পানির সন্ধানে গিয়েই প্রায় ৩ হাজার ৪০০ বছরের পুরোনো এক শহরের ধ্বংসাবশেষের দেখা মিলেছে।

ইরাকের মসুলে অবস্থিত মসুল ড্যামের জলাধারটিই ইরাকের সবচেয়ে বড় জলাধার। তীব্র গরম ও খরায় এই জলাধারের পানিও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে শুকিয়ে গিয়েছে। ফলে জলাধারের তলদেশের অনেকটাই উন্মুক্ত হয়ে এসেছে। আর উন্মুক্ত জলাধারের তলদেশেই দেখা পাওয়া গেছে ৩ হাজার ৪০০ বছরের পুরোনো ওই শহরের। গবেষকেরা বলছেন, ওই শহরটি মিসরীয় শাসক ফারাও তুতেনখামেনের শাসনামলের সমসাময়িক। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, মিত্তানি সাম্রাজ্য খ্রিষ্ট পূর্ব ১৫০০ সাল থেকে খ্রিষ্ট পূর্ব ১৩০০ সাল পর্যন্ত তাদের শাসন চালিয়েছে।

প্রত্নতাত্ত্বিকদের একটি দল বিশ্বাস করেন যে—শহরটি অ্যাসেরিয় সভ্যতার শহর। যা মধ্য অ্যাসেরিয় বা মিত্তানি সাম্রাজ্য নামে পরিচিত সাম্রাজ্য নামে পরিচিত। ব্রোঞ্জ যুগের এই সাম্রাজ্য বর্তমান ইরাকের উত্তরাংশ এবং বর্তমান সিরিয়া শাসন করত। বিশেষজ্ঞদের মত, মিত্তানি সাম্রাজ্য তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী হিট্টি ও অ্যাসেরিয় সাম্রাজ্যের আক্রমণে।

এ বছরের শুরুর দিকে, ওই স্থানে একটি বড় ধরনের শহর থাকার সম্ভাবনা দেখতে পান। সেসময় তাঁরা শহরটিতে গুদামঘর, শিল্প কারাখানার দালান এবং দুর্গের নমুনা আবিষ্কার করেছিলেন। এমনকি তাঁরা সেখান থেকে কয়েক হাজার বছরের পুরোনো কিছু তৈজসপত্রও খুঁজে পান। সেসময় তাঁরা কিউনিফর্ম লিপিতে লেখা বেশ কিছু মাটির ফলকও উদ্ধার করেছিলেন। 

প্রত্নতাত্ত্বিকদের ধারণা, শহরটি বড় ধরনের কোনো ভূমিকম্পের ফলে ধ্বংস হয়েছে। তাও আজ থেকে প্রায় ৩ হাজার ৩৫০ বছর আগে অর্থাৎ ১৩৫০ খ্রিষ্ট পূর্বাব্দে।





Source link