ইউক্রেনে আক্রমণের পরিধি বাড়াচ্ছে রাশিয়া

37


ইউক্রেনে আক্রমণের পরিধি বৃদ্ধি করেছে রাশিয়া এবং এর মিত্র সশস্ত্র বাহিনী। দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় দনবাসের লুহানস্ক প্রদেশে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ আরও মজবুত করেছে রাশিয়ার সৈন্যরা ও মস্কোর মদদপুষ্ট স্থানীয় সশস্ত্র বাহিনী। একই সময়ে দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সমুদ্র নগরী ওদেসায় রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুই শিশুসহ নিহত হয়েছে অন্তত ১৮ জন। 

রয়টার্সসহ একাধিক পশ্চিমা গণমাধ্যম জানিয়েছে, লুহানস্কের লিসিশানস্ক শহরের একটি তেল পরিশোধনাগারের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে রাশিয়া। শহরটিতে এখনো প্রতিরোধের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ইউক্রেন। তবে, তা যে কোনো মুহূর্তে গুটিয়ে যেতে পারে। শহরটির পতন হলে পুরো লুহানস্ক প্রদেশ রাশিয়ার দখলে চলে যাবে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জন্য এটি হবে একটি বড় বিজয়।

এর আগে, ওদেসার অদূরে কৃষ্ণ সাগরের স্নেক আইল্যান্ড থেকে গত বৃহস্পতিবার সেনা প্রত্যাহার করে রাশিয়া। সমুদ্র থেকে রুশ অবরোধ তুলে দিয়ে ইউক্রেনকে শস্য রপ্তানির সুযোগ করে দিতে জাতিসংঘের উদ্যোগের অংশ হিসেবে এটা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। এ ঘোষণার ১ দিন পর শুক্রবার ভোরে ওদেসায় রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে।

ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলের আরেক বন্দরনগরী মারিউপোল আগেই দখলে নিয়েছে রাশিয়া। এই অঞ্চলের আরও বেশ কয়েকটি ছোট শহরও তারা দখলে নিয়েছে। অধিকৃত এসব শহর থেকে রাশিয়া শস্য রপ্তানি শুরু করেছে। অঞ্চলটির বারদিয়ানস্ক বন্দর থেকে ৭ হাজার টন শস্যবাহী একটি রুশ জাহাজ দেশটির একটি ‘মিত্র দেশের’ উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে বিবিসির এক প্রতিবেদনে। তবে ইউক্রেনের শস্য পাচারের দাবি অস্বীকার করেছে মস্কো।

এদিকে, স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদে দুই দিনব্যাপী ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনে ফিনল্যান্ড ও সুইডেনকে সামরিক জোটটির সদস্য করতে সম্মত হয়েছে জোটের সদস্য দেশগুলো। তুরস্ক ছাড়া আগে থেকেই সব দেশের সম্মতি ছিল। গত বুধবার সম্মেলন শুরুর আগে তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে ন্যাটো, ফিনল্যান্ড ও সুইডেনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক হয়। এতে নিজেদের দাবি পূরণ হওয়ায় দেশ দুটিকে ন্যাটোর সদস্য করতে অসম্মতি প্রত্যাহার করে নেয় আঙ্কারা। 

ফিনল্যান্ডের সঙ্গে রাশিয়ার প্রায় ১৩ শ কিলোমিটারের স্থলসীমান্ত রয়েছে। আর সুইডেনের সঙ্গে স্থলে না হলেও বাল্টিক সাগরে সীমান্ত আছে রাশিয়ার। এ দেশটি দুটিতে ন্যাটোর অত্যাধুনিক অস্ত্র মোতায়েন করা হলে পাল্টা পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছে রাশিয়া।





Source link