আনুষ্ঠানিক পদত্যাগের আগে নেতাদের বাসভবনের দখল ছাড়বে না শ্রীলঙ্কার বিক্ষোভকারীরা

26


শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপক্ষে ও প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে বিক্ষোভের মুখে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। একজন বলেছেন আগামী বুধবারের কথা। অন্যজন জাতীয় সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করবেন বলেছেন। কিন্তু তাঁদের এই কথায় আস্থা পাচ্ছে না বিক্ষোভকারীরা। তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, আনুষ্ঠানিক পদত্যাগের আগে তারা এ দুই নেতার বাসভবনের দখল ছাড়বে না।

বিক্ষোভের মুখে গতকাল শনিবার প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ থেকে পালিয়ে যান গোতাবায়া রাজাপক্ষে। পরে দেশটির পার্লামেন্টের স্পিকারের মাধ্যমে আগামী ১৩ জুলাই পদত্যাগের কথা জানান তিনি। যদিও এখন পর্যন্ত তিনি জনসম্মুখে আসেননি। এ নিয়ে কোনো বিবৃতিও দেননি তিনি।

টানা কয়েক মাসের বিক্ষোভের স্রোত অবশেষে গতকাল শনিবার এসে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের সামনে উন্মত্ত হয়ে ওঠে। সেই উন্মাতাল ঢেউয়ে ঘাবড়ে গিয়ে প্রাসাদ ছেড়ে পালান গোতাবায়া। বিক্ষোভকারীরা সেখানে থামেনি। তারা এরপর রাতেই আগুন জ্বালিয়েছে প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহের বাসভবনে। যদিও তার আগেই তিনি জাতীয় সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের কথা জানান।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানাচ্ছে, বিক্ষোভকারীরা এ দুই নেতার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ পদত্যাগের ঘোষণায় টলেনি। তারা তাঁদের আনুষ্ঠানিক পদত্যাগ পর্যন্ত অপেক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

এই মুহূর্তে বিক্ষোভকারীরা কী করছেন? বিবিসি জানাচ্ছে, প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের বিলাসিতা উপভোগ করছেন বিক্ষোভকারীরা। সুইমিংপুলের সাঁতারের ছবি তো বিখ্যাত হয়ে গেছে এরই মধ্যে। প্রেসিডেন্টের অভ্যর্থনা কক্ষের সোফায় কেউ গা এলিয়ে দিয়েছেন, কেউ প্রধানমন্ত্রীর সভাকক্ষের টেবিল ঘিরে রাখা চেয়ারগুলো দখল করে বসে গেছেন তাস নিয়ে। তারা নিজেদের প্রতিজ্ঞায় বেশ দৃঢ় বলতে হবে। তাঁরা এই দুই নেতার প্রস্থান চান। এই প্রতিজ্ঞায় তাঁরা এতটাই দৃঢ় যে, নেতাদের ঘোষণাকেও তাঁরা আর আস্থায় নিতে পারছেন না।

লাহিরা বীরাসেকারা নামের পথে নেমে আসা এক শিক্ষার্থী বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেছেন, ‘আমাদের লড়াই শেষ হয়নি। প্রেসিডেন্টের সত্যিকারের পদত্যাগের আগ পর্যন্ত আমাদের এই লড়াই চলবে।’

সামনের সময়টাকে ভীষণ অনিশ্চিত হিসেবে দেখছেন দেশটির রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ ও মানবাধিকার আইনজীবী ভবানী ফনসেকা। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে তিনি বলেন, ‘সামনের দুটি দিন আসলে ভীষণ অনিশ্চিত। এর মধ্যেই স্থির হবে রাজনৈতিক গতিপথ কোনদিকে যাবে। দুজন নেতাকে সত্যিই পদত্যাগ করতে দেখাটা আসলেই অন্য রকম কিছু হবে।’





Source link