আত্মহত্যা করতে গিয়ে প্রেমিকা নদীতে লাফ দিলেও, লাফ দেননি প্রেমিক

57


প্রেমিক–প্রেমিকা মিলে গিয়েছিলেন যমুনার তীরে। ডেট করতে নয়, আত্মহত্যা করতে। তবে শেষ পর্যন্ত আত্মহত্যা আর করা হয়ে ওঠেনি তাঁদের। বিষয়টি এমন নয় যে কেউ তাঁদের বুঝিয়ে, ভুলিয়ে–ভালিয়ে সেখান থেকে ফিরিয়ে এনেছে।

ঘটনা উত্তর ভারতের প্রদেশের এলাহাবাদ বা প্রয়াগরাজের। পরকীয়া সম্পর্কে জড়িত ওই জুটি গিয়েছিলেন প্রয়াগরাজের যমুনা ব্রিজে। তাঁদের ভয় ছিল, সমাজ তাঁদের সম্পর্ক মেনে নেবে না। তাই দুজনে সিদ্ধান্ত নেন, যমুনায় ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করবেন তাঁরা। সিদ্ধান্ত মোতাবেক নির্দিষ্ট দিনে যমুনার তীরে হাজিরও হন দুজন। কিন্তু ঝাঁপ দেওয়ার সময়ই কাহিনিতে শুরু হয় ‘টুইস্ট’! 

প্রেমিকা নদীতে লাফিয়ে পড়লেও তীরে দাঁড়িয়ে থাকেন তাঁর প্রেমিক। গত্যন্তর না দেখে শেষ পর্যন্ত সাঁতার কেটে আবার তীরে ফিরে আসেন প্রেমিকা। ঘটনার এখানেই শেষ নয়। ওই নারী থানায় হাজির হয়ে প্রেমিকের বিরুদ্ধে ‘বিশ্বাসঘাতকতার’ অভিযোগ আনেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। 

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ৩২ বছর বয়সী ওই নারী কয়েক বছর আগে স্থানীয় চান্দু নামক এক যুবকের সঙ্গে পরকীয়া সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। চান্দু বয়েসে ওই নারীর চেয়ে দুই বছরের ছোট। এমতাবস্থায় বেশ কয়েক বছর প্রেম চললেও মাস খানেক আগে কিছুদিনের জন্য ৬ বছরের মেয়েকে নিয়ে পুনে বেড়াতে যান ওই নারী। আর তখনই তাঁকে না জানিয়ে বিয়ে করে ফেলেন চান্দু। 

গত ১৮ মে প্রয়াগরাজে ফিরে বিষয়টি জানতে পারেন ওই নারী। দুজনের মধ্যে এ নিয়ে বেশ ঝামেলাও হয়। তবে শেষ পর্যন্ত তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন একই সঙ্গে যমুনায় ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করবেন। সেই মোতাবেক তাঁরা দুজনে মিলে যমুনার পাড়ে গেলেও আর তাঁদের আত্মহত্যা করা হয়ে ওঠেনি। 

ওই নারীর অভিযোগ, একসঙ্গে আত্মহত্যা করবেন বলে যমুনা সেতুতে হাজির হন দুজন। কিন্তু তিনি লাফিয়ে পড়ার পর দেখেন তাঁর প্রেমিক লাফ না দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে। আর এটা দেখে তাঁর মেজাজ বিগড়ে যায় এবং তড়িঘড়ি সাঁতরে পাড়ে ফিরে আসেন তিনি। সেখান থেকে হাজির কয়েদগঞ্জ থানায়। প্রেমিক চান্দুর বিরুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতা ও খুনের চেষ্টার অভিযোগ এনেছেন তিনি। 

বর্তমানে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ওই নারী। 





Source link